নিরাপত্তা খাতের বলয়ে মুখ থুবড়ে অধিকার ও উন্নয়ন; উপেক্ষিত মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ

মীর মোশারফ হোসেন

বছর বছর বাড়ছে বাজেটের আকার। উড়ছে অর্থ; ব্যবসা-বাণিজ্য, দালানকোঠা, যোগাযোগব্যবস্থাসহ সড়ক উন্নয়ন সবকিছুতেই রমরমা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। কিন্তু এ প্রবৃদ্ধির সুফল পৌঁছাচ্ছে না প্রতিবন্ধী মানুষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে।

চলতি বাজেট চিত্রে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী মানুষের পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মৌলিক অর্থে যা প্রয়োজন, তার ছিটেফোঁটাই মিলছে। বিশেষজ্ঞরা তাই সরকারের নীতির মধ্যেই সমস্যার কথা বলছেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির উন্নয়নে তারা কয়েক বছর ধরেই মন্ত্রণালয়ভিত্তিক আলাদা বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়ে এলেও সরকারি কর্মকর্তারা তা কানেই তুলছেন না। উল্টো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বলয়ে মুখ থুবড়ে আছে প্রতিবন্ধী মানুষের বরাদ্দ। উপেক্ষিত শিক্ষা, যোগাযোগ, সড়ক-রেল-নৌপরিবহন, স্বাস্থ্য ও পরিবার, মহিলা ও শিশু, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, শ্রম ও কর্মসংস্থান, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সমূহে প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ।

২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেটে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় মারফত ১ হাজার ৬২৯ দশমিক ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ১৪.২১ শতাংশ বরাদ্দের ২.১৯ শতাংশ প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য, যা মোট বরাদ্দের ০.৩১ শতাংশ। প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ভাতাকেন্দ্রিক বরাদ্দ হয়েছে ৮৫.৩৩ শতাংশ। যা প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল উন্নয়ন থেকে দূরে রাখছে। 

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভ‚মিকা বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সব উল্লেখ থাকে। এসডিজি বাস্তবায়নে দারিদ্র্য দূর করার বিষয়ে প্রতিবন্ধী মানুষেরা বাদ থাকবে না। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সবাইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তা ছাড়া কোনো অবস্থায় কেউ অবহেলিত হবে না, সবার সুরক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সব মন্ত্রণালয় তা করতে বাধ্য।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা জানিয়ে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে সব বলেছেন, এর বাইরে কিছু বলার নেই। অপর দিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ফোকাল মন্ত্রণালয় সমাজকল্যাণের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।