সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিবন্ধী নেতৃবৃন্দের বাজেট প্রতিক্রিয়া; শেষ ঠিকানা যেন সামাজিক নিরাপত্তা খাত!

অপরাজেয় প্রতিবেদক

চলতি বাজেটেও সরকারের কল্যাণনির্ভরতার প্রভাব লক্ষণীয়, যা সামগ্রিক উন্নয়নকে করছে বাধাগ্রস্ত। যেন প্রতিবন্ধী মানুষের শেষ ঠিকানা সামাজিক নিরাপত্তা খাত- সাংবাদিক সম্মেলনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ।

জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০ অর্থবছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৬২৯.৫১ কোটি অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে। তন্মধ্যে প্রতিবন্ধী মানুষের ভাতার জন্য বরাদ্দ পেয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মোট বরাদ্দের ৮৫.৩৩ শতাংশ।

ভাতার ওপর সর্বাধিক এই গুরুত্ব অনেকের কাছে দৃষ্টিনন্দন হলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনসমূহ বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দের নীতি ও খাত পুনর্বিবেচনায় নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ডিসিএফ, ডব্লিউডিডিএফ, এনজিডিও, এনসিডিডব্লিউ, এসডিএসএল, ডিডব্লিউএস, ভিপস ও টার্নিং পয়েন্ট- মোট ৯টি সংগঠন গত ১৭ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থান’ শীর্ষক এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ দিলে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের সুবিধা; প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবসা ও উৎপাদনমূলক কর্মকান্ডেযুক্ত করার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মসূচিকে স্বাগত জানান তারা। পাশাপাশি বাজেট প্রণয়নের পূর্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনসমূহকে সম্পৃক্ত না করায় সরকারের ব্যাপক সমালোচনাও করেছেন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন আলাদা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমেই সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তারা। তবে প্রতিবারের ন্যায় দীর্ঘদিনের এ দাবি এবারও উপেক্ষিত। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতে, নীতি নির্ধারকরা এখনও মেডিকেল মডেলের কাঠামোয় আবদ্ধ এবং এ কারণে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন ও অধিকারের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ এর মতো শক্তিশালী আইনি কাঠামো থাকার পরও উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন ও অধিকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি না হওয়ায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তারা স্পষ্ট বলেন, এ বাজেট বরাদ্দ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হারবৃদ্ধি অনুকূলে নয়। সবার জন্য শিক্ষা এলক্ষ্যে নির্ধারিত হলেও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত ন্যায্য বরাদ্দ থেকে। দেশের ৯০% প্রতিবন্ধী শিশুর বিদ্যালয়ের গন্ডিতে উপস্থিতি নেই। এ বছর মাত্র ১০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এসংখ্যায় ইউনিয়ন প্রতি উপবৃত্তির আওতায় পরে মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনের প্রতিনিধিরা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন এবং সামাজিক কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটাতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার জোরাল দাবি জানান। তারা বলেন, বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বরাদ্দ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়। কিন্তু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য তথা সার্বিক উন্নয়ন শুধু এই একটি মাত্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্পাদিত হতে পারে না।