বিজিএমইএ’র নারীসহ ১৮ হাজার প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মসংস্থানের ঘোষণা

42

নিজস্ব প্রতিবেদক: কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রশিক্ষণের পর তিন হাজার ছয়’শ পোশাক কারখানায় প্রায় ১৮ হাজার প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মসংস্থানের ঘোষণা দিয়েছে বিজিএমইএ।

শ্রম কল্যাণমূলক বাজার ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলে এ বিষয়ে কর্মকৌশল তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী মানুষদের সামাজিক উন্নয়নে কর্মরত সংস্থা এবং এনজিওগুলোকেও আরও সক্রিয় হবার আহ্বান জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র সহ সভাপতি মোঃ শহিদুল্লাহ আজিম।

গত ২৪ নভেম্বর, ২০১৩ বিজিএমইএ ভবনের সভাকক্ষে ‘প্রতিবন্ধী নারীদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণে নিয়োগ দাতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখা কালীন তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি দেশীয় পোশাক কারখানাগুলোর মধ্য অনন্য উদাহরণ সৃষ্টিকারী হিসেবে উল্লেখ করে কেয়া গার্মেন্টস লিমিটেড, ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড ও টেক্স ইউরোপ (বিডি) সহ সংখ্যায় অল্প হলেও আরও কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পরবর্তী চাকরী দিয়ে দেশের মূল শ্রমশক্তিতে মূল্যবান অবদান রাখার সুযোগ করে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

তবে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠুভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে তারা যদি বিজিএমইএ এর কাছে তালিকা পাঠায় তাহলে দেশের ৩ হাজার ৬০০ পোশাক কারখানায় প্রায় ১৮ হাজার প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। যেহেতু এসব পোশাক কারখানায় প্রতিবন্ধী মানুষেরা অন্যান্য অ-প্রতিবন্ধী মানুষের সাথে স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছেন। আমরাও অন্যান্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে চাই কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে এসে কর্ম প্রক্রিয়া আরও বেগমান করার তাগিদ দিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য নির্ধারিত আইন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি-২০১১ অনুমোদনকে দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক আখ্যা দিয়ে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য নেয়া সরকারি উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন তিনি।

জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম, এনএএসপিডি, অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এবং অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় আয়োজিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রতিবন্ধী মানুষদের পক্ষ থেকে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর ও যুব উন্নয়ন অধিদফতরের আওতাধীন সমস্ত জেলা ও আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নারী প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রশিক্ষণ পরবর্তী কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিতে জোর দাবি জানানো হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর পরামর্শে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সংস্কারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে সভায় দাবী করা হয়। তাই তারা “দক্ষতা উন্নয়ন রূপকল্প ২০১৬” উপস্থাপন হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মনে করেন। সভায় এ রূপকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য সবার ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।

অন্যান্যদের মাঝে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের মহাসচিব মিজানুর রহমান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার টিভিইটি রিফর্ম প্রজেক্টের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর আর্থার ই. শিয়ার্স, অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা, এনএএসপিডির মহাসচিব এম এ বাতেন ও জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম এর কোঅরডিনেটর এবং টিম লিডার – প্রোগ্রাম, জনাব রফিক জামান উপস্থিত ছিলেন।