প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস

28

 

বিশেষ প্রতিবেদনঃ প্রতিবন্ধী মানুষকে প্রশিক্ষিত করার পাশাপাশি স্বাবলম্বীকরণ তথা একীভূত সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে ৩ ডিসেম্বর দেশ ব্যাপী পালিত হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস।

Break barriers, open doors: for an inclusive society for all এই প্রতিপাদ্যে সারা বিশ্বব্যাপীও পালিত হয়েছে দিবসটি। যার বাংলা করা হয়েছে “ভাঙ্গো বাধা, দুয়ার খোল, একীভূত সমাজ গড়ো”। এ স্লোগানে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ফেম অব হল এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এছাড়া দেশব্যাপী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ, সমাজসেবা অধিদফতর এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা এ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

উল্লেখ্য, সমাজে পরিপূর্ণ অংশগ্রহণ ও সম অধিকারের লক্ষ্য পূরণে ১৯৯২ সাল থেকে এই দিবস পালন করছে জাতিসংঘ। প্রতি বছর নতুন একটি স্লোগানে একি সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিবন্ধী মানুষদের অধিকার নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনগুলো নানান কর্মসূচি পালন করে।

 

প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নত জীবন বাস্তবায়নে জাতিসংঘ ১৯৮৩ থেকে ১৯৯২ অব্দি তাদের জন্য সম্পূর্ণ একটা দশক পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে ১৯৯২ এর ১৪ অক্টোবর এটি শেষ হয়ে এলে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ৩ ডিসেম্বরকে “আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস” ঘোষণা করলে ১৯৯২ থেকে প্রতিবছর এ দিবসটি পালন শুরু হয়। ১৮ ডিসেম্বর ২০০৭ এ আরেক অধিবেশনে “আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস” এর পরিবর্তে প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বা মর্যাদা রক্ষার সিআরপিডি সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এর নতুন নামকরণ হয় ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর পারসন উইথ ডিজেবিলিটি যার বাংলা হয় “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস” যা ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে এখনো পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।

এ বছরও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হচ্ছে। প্রতিবন্ধী মানুষের মর্যাদার বিষয়ে তাদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সম্বোধনের কারণেই এলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার আইন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে ছয় বছরেও দিবসটির নাম পরিবর্তনের কথা ভাবা হয় নি। প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বা মর্যাদা সুরক্ষায় কর্মরত সংগঠনগুলোর ভ’মিকাও নিরব। প্রশ্ন এসেই যায় প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বা মর্যাদা বাস্তবায়িত করতে সংশ্লিষ্ট মহলের ভ’মিকা নিয়ে।

যদিও ২০০৭ সালে গাজীপুরের শ্রীপুরে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম যখন শুরু হয় তখন পঙ্গু, অন্ধ, বোবা, বধির এই শব্দগুলো ব্যবহৃত হতো। প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতিবাদে এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের উদ্যোগে এই সম্বোধন পরিবর্তন করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ইত্যাদি প্রচলন শুরু হয়।

 

এত বছর পর এবার ২০১৩ থেকে মূক ও বধির স্কুলগুলো, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল এবং সমন্বিত অন্ধ কল্যাণ সংস্থা পরিবর্তিত হয়েছে সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম এ। খুব শিগ্যিরই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন এর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিবন্ধী মানুষের দ্বারা পরিচালিত বেশ কিছু সংগঠনের সদস্যগণ।