অবশেষে প্রবেশগম্য হল চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়াম

25

ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ দুবছরের প্রচেষ্টায় অবশেষে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের ওয়েস্টার্ন ব্লকের ১৫ নং গ্যালারীর প্রবেশগম্যতা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ নাগাদ কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও গ্যালারীর মূল প্রবেশপথে নির্মিত দুটি র‌্যাম্পের ত্রুটি থাকায় বাকি কাজ আবারও শুরু হয়েছে। প্রবেশগম্য আলাদা টয়লেটও নির্মাণ করা হয়েছে।

 

এদিকে প্রথমবারের মত এই স্টেডিয়ামের প্রবেশগম্য গ্যালারীতে বসে কয়েকজন প্রতিবন্ধী মানুষ তাদের সহযোগী ও স্বেচ্ছাসেবীসহ সাহারা কাপ ২০১৪ সিরিজের ১ম টি-২০ ম্যাচটি উপভোগ করে এসেছেন নানান সমস্যার মধ্যে দিয়ে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বি-স্ক্যান এর উদ্যোগে ও নার্চারের সহযোগিতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি’১৪ খেলা দেখতে গিয়ে প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য আলাদা প্রবেশ পথ না থাকার ফলে নানান বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। হাজার হাজার দর্শকের ভিড়ে লাইনে দাঁড়াতে সমস্যা হতে পারে এই ভেবে বি-স্ক্যান এর পক্ষে অনেক অনুরোধের পর স্টেডিয়ামের সিকিউরিটি অফিসাররা তাদের মেইন গেট দিয়ে ঢুকতে দিলেও, তাদের সাথে থাকা স্বেচ্ছাসেবী ও সহযোগিদের একসাথে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয় নি।

 

এছাড়া স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ ১৫ নং গ্যালারীতে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বরাদ্দ ২৫টি টিকেটের কথা জানালেও, এদেশে সর্বত্র প্রবেশগম্যতার অভাব এবং ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট ক্রয় করা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য অসম্ভব এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের সহযোগিসহ সবাই একত্রে এক জায়গায় বসার জন্য একসাথে এতগুলো টিকেট ক্রয় করার আলাদা কোন সুব্যবস্থা ব্যাংকে রাখা হয়নি বলে জানালেন ম্যাচ উপভোগ করতে আসা ‘নার্চার আমাদের পাঠশালা’ স্কুলের শিক্ষক হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী শ্যামল। তিনি কিছুটা ক্ষোভের সাথেই বলেন, হাঁটাচলার জায়গা হুইলচেয়ারের জন্য নির্ধারিত করাতে কিছুক্ষণ পরপরই সেখানে মানুষের হাঁটাচলার ফলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তারচেয়েও বড় সমস্যা ছিল, ঠিক খেলা দেখার জায়গাটির সামনেই ডিজে সাউন্ড বক্স ও প্র্যাকটিস নেট থাকা। এছাড়া ওয়ানডে বা টি-২০ ম্যাচের সময় মূল প্রবেশপথের অনেক দূর থেকেই রাস্তাগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ করা দেয়ার ফলে, প্রতিবন্ধী মানুষ বিশেষত ক্রাচ ও ওয়াকার ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের জন্য এতটা পথ হেঁটে যাওয়াটা দুঃসাধ্য। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়ার দাবী জানান সেদিন ম্যাচ উপভোগ করতে আসা প্রতিবন্ধী মানুষেরা।

 

জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের ওয়েস্টার্ন ব্লকের ১৫ নং গ্যালারীর হাঁটাচলার স্থানে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীগণ, সামনেই ডিজে সাউন্ড সিস্টেম 

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উপভোগ করছেন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীগণ 

 

 

তাৎক্ষনিকভাবে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা দুঃখ প্রকাশ করে পরবর্তীতে সমস্যাগুলো বিবেচনায় নেবার আশ্বাস দেন। ভেন্যু ম্যানেজার ফজলে বারী খান রুবেল এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ‘এবার যেসব সমস্যা আছে তা সমাধানের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধী মানুষের নির্বিঘ্নে খেলা উপভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে ছাউনি দেয়া সহ সকল কাজ সম্পন্ন হবে আসন্ন বিশ্বকাপের আগেই।’

তবে জানা যায় উক্ত গ্যালারীটি ক্লাব হাউজ নির্মিত হলে বিশ্বকাপের টিকেট মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া ওয়েস্টার্ন ব্লকের ১৫ নং গ্যালারীর মূল প্রবেশপথ থেকেই প্রবেশগম্য লোগো লাগানো হবে স্থানগুলো চিহ্নিত করতে।

ভেন্যু সংস্কারের দায়িত্বরত প্রকৌশলী কালাম সাহেবের আমন্ত্রণে গত ২৯ জানুয়ারি’১৪, তারিখে বি-স্ক্যান স্বেচ্ছাসেবী দলের সাথে সরেজমিন পরিদর্শন গিয়ে দেখা যায়, র‌্যাম্প দুটি খাড়া হবার ফলে হুইলচেয়ার উঠা নামার সময় আটকে যাচ্ছে। তিনি সে সময় স্বীকার করেছেন, হুইলচেয়ার সম্পর্কে অজ্ঞতাই এর মূল কারণ এবং বিশ্বকাপের আগেই এ সমস্ত ত্র“টি দূর করার আশ্বাস দেন তিনি।

 

হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে অসচেতনতা/অজ্ঞতার ফলে র‌্যাম্পটি নির্মাণের সময় সেখানে সিমেন্টের মোটা দেয়াল তুলে দেয়া হয়েছে, যা কোনভাবেই প্রতিবন্ধী মানুষের জন্যে সহায়ক নয়। অথচ স্টিলের বা লোহার রেলিং যুক্ত করা হলে আরও সুলভ মূল্যেই নির্মাণ সম্ভব হত। প্রতিবন্ধী মানুষের উঠা নামার ক্ষেত্রে সহায়ক হত এবং দূর থেকেও দেখা যেত র‌্যাম্পটি, এমনটি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রেলিং এর পরিবর্তনের বিষয়ে আর কিছুই করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ।

বি-স্ক্যান সদস্যরা জানান, স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার কমতি নেই। বারে বারে তারা বলেছেন, হুইলচেয়ার সহায়ক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন না বলেই কাজ শেষ হবার পরেও বেশ কিছু ত্রুটি রয়ে গেছে। কাজ চলাকালীন হুইলচেয়ার চালিয়ে দেখলে এই সমস্যাগুলো থাকত না। বরং আরও আগেই কাজ শেষ হয়ে যেত! বেশ ক’জন প্রতিবন্ধী ক্রিকেট প্রেমী ব্যক্তি মনে করেন, সমস্যাটা শুধু প্রতিবন্ধী মানুষ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অসচেতনতার। এসব কাজে প্রতিবন্ধী মানুষের সম্পৃক্ততা খুব বেশি জরুরী।

 

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর’১৩ তারিখে বি-স্ক্যান প্রতিনিধি দল স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে ভেন্যু ম্যানেজার ফজলে বারী খান রুবেলের কাছে র‌্যাম্প ও প্রবেশগম্য টয়লেটের মাপ ও ছবিসহ যাবতীয় সমস্ত তথ্য প্রদান করেন যেন র‌্যাম্পটি নির্মাণের সময় তাদের সহায়ক হয়। এর আগেও ২০১১ সালে তৎকালীন ভেন্যু চেয়ারম্যান বরাবরে চিঠি ও তথ্য দেয়া হয়েছিল।