শ্রেষ্ঠ দাবাড়ুকে হারিয়ে বিজয়ী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দাবাড়ু

106

এইচ. এম. এ. মুনিম রাহাত (ময়মনসিংহ প্রতিনিধি)ঃ ময়মনসিংহের ভালুকার শ্রেষ্ঠ দাবাড়ু দের মধ্যে অন্যতম এক অ-প্রতিবন্ধী দাবাড়ু কে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দাবাড়ু। গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে চরম উত্তেজনাপূর্ণ খেলাটি উপভোগের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় নি এলাকাবাসী।

 

গত ১২ এপ্রিল, জাতীয় প্রতিবন্ধী সপ্তাহ ২০১৪ উপলক্ষ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক (অ-প্রতিবন্ধী ব্যক্তি) মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে প্রায় দুই ঘন্টা টানটান উত্তেজনাপূর্ণ দাবার এ লড়াইয়ে তাক লাগিয়ে দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মনির রানা। মহুর্মুহু করতালিতে  ফেটে পড়ে ভালুকা উপজেলার ধলিয়া বহুলী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণ।

রানার এই অসামান্য বিজয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত অন্যান্য প্রতিবন্ধী মানুষেরা। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদের ভাগ্নে আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম খান বাবুল অনুষ্ঠান সভাপতি হিসেবে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কর্তৃক অপ্রতিবন্ধী তুখোড় দাবাড়ু এই পরাজয় সত্যিই অভাবনীয়।

 

ভালুকা উপজেলা চেয়্যারম্যান আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা সাহেব প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, নামকরা অ-প্রতিবন্ধী একজন দাবাড়ু সাথে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দাবাড়ু বিজয়ে আমি অভিভূত। আমাদের ভালুকাতে খেলাধূলাসহ সকল ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

দাবাড়ু মিজানুর রহমান বলেন, “মনোবিজ্ঞানের ভাষায় পরিবর্তনই চিরন্তন বাস্তবতা, আমাকে পরাজিত করে রানা তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরই উচিত সকল প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে সৃজনশীল কাজে সাহসের সাথে এগিয়ে এসে স্বমহিমায় নিজেদের উদ্ভাসিত করা।”

 

তবে বিজয়ী মনির রানা বলেন, আমার আজকের খুশি দ্বিগুণ হত যদি কতিপয় সংগঠন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিভা নিয়ে ব্যবসায়িক ফায়দা না লুটে তা সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই কাজে লাগাতো। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জাতীয় ক্রিকেট দল ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দল একই সাথে একই দিনে আত্মপ্রকাশ করলেও বর্তমানে মহিলা ক্রিকেট দল এগিয়ে গেছে অথচ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্রিকেট পড়ে রয়েছে অনেক পেছনে। এর কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গই ভাল বলতে পারবেন।

আভাসের সভাপতি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, আজকের এ আয়োজনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিজয় এবং সকলের আনন্দপূর্ণ মুহুর্ত আভাসের অতি সামান্য প্রয়াস মাত্র, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

উল্লেখ্য, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবেশের উন্নয়নে কাজ করা সংগঠন “An Attempt of Venture to Accomplish Social Happiness” অর্থাৎ সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুঃসাহসিক অভিযাত্রা “আভাস” এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মঞ্জরুলু হক খান, ডঃ আতিকুল ইসলাম পাঠান, উপপরিচালক জাতীয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমী (নায়েম); শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সেভ দ্যা ওমেনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা রশিদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যম কর্মীগণ। প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দাবা, কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিজিটাল ডিকশনারিসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান শেষে স্বনামধন্য প্রতিবন্ধী শিল্পী গোষ্ঠী ও খ্যাতনামা শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন সকলে।