ইশারা

47

 

মোঃ আজিজুর রহমান নাবিল

 

আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়েরাই শ্যামলা বর্ণের হয়। হয়ত আবহাওয়াই এটা হতে বাধ্য করে তবে মেকাপের কল্যাণে ইদানিং বেশ উজ্জ্বল বর্ণের মেয়ে দেখা যায়। কিন্তু নাদিয়া প্রসাধনী মেখে ঘুরে বেড়াবার মেয়ে নয়। খুব বেশি যে সুন্দর তাও নয়। মিষ্টি চেহারা বলতে যা বুঝায় অনেকটা তেমনই। তবে রূপ-লাবণ্যেকেও ছাপিয়ে যে বিষয়টি সবার থেকে গৌণ তা হল, ও বড় লক্ষ্মী একটি মেয়ে। পরিবারে তিন ভাই বোনের ভেতর সে মেঝো। স্বাভাবিক ক্ষেত্রে দেখা যায় বড় বা সবচেয়ে শেষের সন্তান মা-বাবার আদর বেশি পেয়ে থাকে। নাদিয়ার ব্যাপারটি পুরো উল্টো। মা-বাবার সবচেয়ে বেশি আদর সেই পেয়ে থাকে।

 

নাদিয়ার বাসা থেকে খুব একটা বের হবার অভ্যাস নাই। কদিন পরই ওর বিয়ে। আজ কিছু কেনাকাটা করতে বড় বোন মাইশার সাথে বের হল। মাইশার বিয়ে হয়েছে বছর তিনেক। ছয় মাস হল একটি ছেলে হয়েছে। বাচ্চাটাকে ঘরে রেখে বের হওয়া সবসময় সম্ভব না। তবে ইদানিং ছোট বোনের বিয়ের নানান কাজে সময় বের করে নিতে হচ্ছে।

বাসা থেকে মার্কেটের দূরত্ব খুব একটা বেশি না। বাসে গেলে জনপ্রতি যা টাকা পাঁচেক রিকশায় গেলেই তা তিন ডাবল। নাদিয়ারা রিকশাতেই যাবে। কিন্তু রিকশা খুঁজে পাচ্ছে না। বাসার সামনে থেকে রিকশা খুঁজে এগুতে এগুতে গলির মাথায় চলে এসেছে। কিন্তু রিকশার দেখা নেই। এমনকি সিটি বাসের পর্যন্ত কোন খোঁজ নেই আজ। হঠাৎ মাইশা একটা মেয়েকে খেয়াল করল, ওদের দিকেই আসছে। কাছে আসা মাত্রই “নাদিয়া না” বলে চিৎকার দিয়ে নাদিয়াকে জড়িয়ে ধরল।

 

রাইসা। ওরা নাদিয়াদের বাসায় চার বছর ভাড়া ছিল। গত বছর নিজেদের বাড়ি করে চলে যায়। সমবয়সী হওয়াতে নাদিয়া, রাইসার ছিল গলায় গলায় ভাব। এত বছর পর আজ দেখা। দুজনই কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছে। হাত নেড়ে অনেক কথা বলছে। এরই মাঝে একটা ছেলে নাদিয়ার পাশে এসে দাঁড়িয়ে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। মাইশা বেশ কিছুক্ষন ধরে ছেলেটাকে আবছা খেয়াল করছিল। একটু দূরেই ছিল এতক্ষণ। হাবভাব বা চেহারায় ছেলেটাকে মোটেও বাজে ধরণের লাগে নি তাই তেমন গুরুত্ব দেয় নি। তবে এবার ছেলেটা আরো কাছাকাছি এসে নাদিয়ার মুখের দিকে সরাসরি তীক্ষè দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এই দৃষ্টির সামনে নাদিয়া বেশ ভড়কে গেল। মাইশা কিছু একটা বলতে যাবে আচমকা তখনই ছেলেটা নাদিয়ার হাত ধরে টান দিল। পড়ে যেতে যেতে নিজেকে সামলে নিল নাদিয়া নিজেকে। কিন্তু চোখেমুখে ভর করেছে রাজ্যের বিস্ময়। ছেলেটা নাদিয়ার হাত ছেড়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কি যেন বলে জড়িয়ে ধরতে চাইল। ফরহাদ কি করছো বলে রাইসা ছেলেটাকে সজোরে ধাক্কা মারল। ধাক্কায় ফরহাদ তাল সামলাতে না পেরে রাস্তায় পড়ে গেল। ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই হতবিহ্বল। যেন বরফের মূর্তি হয়ে গেছে সবাই।

চারিপাশে ততক্ষণে কিছু উৎসাহী মানুষ জমে গিয়েছে। ফরহাদকে উত্যোক্তকারী ভেবে উৎসাহী জনতার কেউ কেউ আবার তাকে মারতে ছুটে আসে। রাইসা তাদের বাধা দিয়ে ভিড়ের মাঝেই আরেকজনের কাছে ফরহাদকে নিয়ে কি যেন বলে চলে এল।

 

 

 

নাদিয়া তখন সবে কলেজ এ ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে। মা বাবা বেশ রক্ষণশীল যার ফলে ছেলেদের সাথে তেমন মেশার সুযোগ হয়ে ওঠে নি নাদিয়ার। ছোটবেলা থেকে পড়াশুনা করেছে বালিকা বিদ্যালয়ে। মা বাবার কাছেই পড়াশোনা। ছাত্রী ভাল তাই কোচিং এও পড়তে হয় নি। কিন্তু কলেজে ওঠার পরই সব পুরোপুরি বদলে গেল। যদিও মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছিল কিন্তু কোচিং ছিল কো-এডুকেশনের। বাসার কাছে ওই একটাই কোচিং সেন্টার। বাবা-মা কিছুটা বাধ্য হয়েই সেই কোচিং এ দিয়েছিল নাদিয়াকে। তবে এই পরিবর্তনটা খুব সুখকর হয়নি তার জন্য। কোচিং এ নাদিয়া বেশ নিজের ভিতর গুটিয়ে থাকতো। খাপ খাওয়াতে না পারাটা শুধু কোচিং এই সীমাবদ্ধ থাকে নি। রেশটা কলেজ পর্যন্ত এসে এমনই হয়েছিল যে ফার্স্ট ইয়ারের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা পার হয়ে গেলেও ওর কোন বন্ধু পর্যন্ত গড়ে উঠেনি। আর এর মাঝে সব জায়গাতেই মুডি মেয়ে হিসেবে পরিচিতি ছড়িয়ে যায়।

 

বিশেষ দরকার ছাড়া কেউই ওর সাথে তেমন কথা বলত না। তেমনি বিশেষ দরকারেই নাদিয়ার সাথে প্রথমবার কথা হয় ফরহাদের।

ফরহাদ এক সপ্তাহ কোচিং এ আসে নি। আর এর মাঝেই কোচিং এ দেয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোট মিস করেছে সে। বন্ধুদের কাছে কয়েকদিন ঘুরেও নোটগুলো পাচ্ছিল না ঠিক তখনই শরণাপন্ন হয় নাদিয়ার কাছে। নাদিয়া কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেও ঠিকই কথা বলে ফরহাদের সাথে এবং নোটগুলো দেয়। ক্লাস শেষে ফরহাদ যায় নোট গুলো ফটোকপি করার জন্য আর নাদিয়া নোটগুলো ফেরত নেবার অপেক্ষায় ক্লাসেই বসে থাকে। আধাঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ফরহাদের ফিরে আসার নাম নেই। কোচিং ক্লাসের সবাই চলে যাচ্ছে। এর চেয়ে বেশি দেরি করে বাসায় গেলে রাগারাগি করবে তাই ফরহাদের অপেক্ষা না করেই সেদিন নাদিয়া বাসায় চলে যায়।

 

এদিকে আশেপাশের সব ফটোকপির দোকান বন্ধ। ফরহাদ দোকান খুঁজতে খুঁজতে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল। ফিরে এসে দেখে নাদিয়া নেই। পরদিনই ওই নোটের ওপর পরীক্ষা। মেয়েটা ওকে সাহায্য করতে যেয়ে নিজের পরীক্ষার বারোটা বাজাবে তা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল ফরহাদের। সিদ্ধান্ত নিল, নোটগুলো নাদিয়ার বাসায় দিয়ে আসবে। কিন্তু এখানেও বিপত্তি। ফরহাদ যে বাসা চিনে না। কোচিং এর দারোয়ান চাচা সমস্যার সমাধান দিলেন নাদিয়ার বাসার ঠিকানা দিয়ে।

কলিং বেল দেয়ার প্রায় সাথে সাথেই দরজা খুলে গেল। দরজায় দাঁড়িয়ে এক মধ্য বয়সী লোক। ফরহাদের বুঝতে বাকি থাকে না, ইনি নাদিয়ার বাবা। তাই সালাম দিয়েই নাদিয়ার কথা জিজ্ঞেস করে। নাদিয়ার নাম শুনেই তিনি চোখ মুখ কুঁচকে প্রায় ধমকের সুরে কারণ জানতে চান। অবস্থা বেগতিক দেখে ফরহাদ নোটটা তার হাতে দিয়ে পালিয়ে আসতে চায়। কিন্তু ওকে দাঁড় করিয়ে নাদিয়াকে ডেকে আনেন তিনি। কিভাবে পরিচয়, বাসার ঠিকানা কেমনে চিনল, কবে থেকে দুজনের পরিচয় ইত্যাদি নানান প্রশ্নে ফরহাদের সামনেই নাদিয়াকে জর্জরিত করেন তিনি। ফরহাদ উত্তর দিতে গেলে তাকে চুপ করিয়ে ধরাম করে দরজা লাগিয়ে দেয়া হয়। মুখ কালো করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসার সময় শুধু কানে প্রবেশ করে নাদিয়ার প্রতি তার বাবার তর্জন গর্জন।

 

পরদিন কোচিং যেয়েই ফরহাদ নাদিয়ার খোঁজ করতে থাকে। নাদিয়া আসেনি। বুঝতে পারল আগের দিনের ঘটনাই তার না আসার কারণ। সপ্তাহ পার হয়ে যায়। নাদিয়া কোচিং এ আসে না। কোচিং এর এক স্যারকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারে নাদিয়া আর কোচিং এ আসবে না এ কথা জানিয়ে গিয়েছে তার বাবা। ফরহাদ নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না আর। সমস্ত ঘটনার জন্য নিজেকে দায়ী মনে হয়। অপরাধবোধ তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। সবার অলক্ষ্যে চোখে পানি জমে। সারাক্ষণ চুপচাপ নিজের মনে থাকে। বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের সবাই কম বেশি বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে। কিন্তু কি হয়েছে কাউকেই বলে না ফরহাদ।

 

একদিন ফরহাদ অনেক ভেবে ঠিক করে, এভাবে আর না। নাদিয়ার কাছে মাফ চাইতে হবে। ওর জন্য হয়ত কত ঝড়ই সহ্য করতে হয়েছে মেয়েটিকে। খোঁজ খবর নিয়ে ফরহাদ সোজা চলে যায় নাদিয়ার কলেজের সামনে। কলেজ ছুটি হতে বেশ কিছু সময় বাকি। কলেজ গেটে অপেক্ষা করছে সে। এক সময় নাদিয়া বেরিয়ে আসে। ফরহাদ ঠিকই খেয়াল করে কিন্তু নাদিয়া ফরহাদকে খেয়াল করেনি। কলেজ থেকে নাদিয়ার বাসা খুব বেশি দূরে না হওয়ায় বেশির ভাগ সময়ই হেঁটে যায়। হঠাৎ ফরহাদ মাথা নিচু করে নাদিয়ার সামনে দাঁড়ায়। ভেবেছিল ক্ষমা প্রার্থী হয়েই দাঁড়াবে। কি যেন হল, মনের অজান্তে বলে ফেলে ভালবাসি।

 

সেদিন নাদিয়ার মুখ থেকে একটা কথাও বের হয় নি। কিন্তু কিছু একটা উত্তরের আশায় ফরহাদ ব্যাপক আনমনা হয়ে যায়। প্রতিদিন নাদিয়ার কলেজ থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দৈনন্দিন কর্মে পরিণত হয়ে যায় তার। নাদিয়া রোজ ঐ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়। কিন্তু ফরহাদের সাথে কোন কথা বলে না। এমনকি তাকায়ও না। এতে ফরহাদের মনে জেদ চেপে যায়। একদিন নাদিয়ার পথ আগলে দাঁড়ায়। তবে পূর্বের মত মাথা নিচু করে নয়, মাথা উঁচু করে। তখনই নাদিয়া বলে উঠে, “কদিন পর ইন্টার পরীক্ষা, ভালমত পড়”।

এ কথা শুনে যেন ফরহাদের মনে আশার আলো জ্বলে উঠে। সেদিন থেকেই ফরহাদ আবার খুব ভাল ভাবে পড়াশুনা শুরু করে দেয়। যদিও ওর দৈনন্দিন কর্মটি বন্ধ হয়না তবে ফরহাদ আবার আগের মত হয়ে উঠে। এদিকে পরীক্ষার সময়ও এসে যায় আর যথাসময়ে পরীক্ষাও শুরু হয়ে যায়।

 

প্রতিদিন ফরহাদ দশ মিনিট আগে পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে নাদিয়ার কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকত তাকে দেখার জন্য। ব্যবহারিক পরীক্ষার শেষ দিন এসে গেল। সেদিন ফরহাদের পরীক্ষা ছিল না তাই কিছুটা আগেই নাদিয়ার কেন্দ্রের বিপরীতেই একটা চায়ের দোকানে বসে অপেক্ষা করছিল আর চা খাচ্ছিল। এর মাঝেই নাদিয়া বের হয়। বের হয়েই আশেপাশে কি যেন খুঁজতে থাকে। ফরহাদকে চোখে পড়া মাত্র হাত দিয়ে ইশারা দেয়। যে মেয়ে কখনও ভালমত কারো দিকে তাকায়ও না, সে কিনা ইশারায় ডাকছে! ফরহাদ বেশ ভ্যবাচেকা খেয়ে যায়। ফরহাদের চা তখনও শেষ হয়নি এটা লক্ষ্য করে নাদিয়া ইশারায় চা শেষ করতে বলে নিজেই এগিয়ে আসে। ফরহাদও চা হাতে দাঁড়িয়ে ওর রাস্তা পার হয়ে আসার অপেক্ষা করতে থাকে। আর ঠিক সে মূহুর্তেই আচমকা একটা ট্রাক এসে সব শেষ করে দিয়ে যায়। একটা সুন্দর গল্প শুরুর ঠিক পূর্বেই সব শেষ হয়ে যায় মূহুর্তের অঘটনে।

 

ফরহাদ সেদিন প্রাণে বেঁচেছিল ঠিকই কিন্তু মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের কারণে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সেদিন ট্রাকটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ে। ফরহাদ বাদে সেই দোকানের সবাই মারা যায়। আর এসবের একজন জীবিত প্রত্যক্ষদর্শী ছিল নাদিয়া। ধীরে ধীরে ফরহাদ কিছুটা ভাল হয় তবে পুরোপুরি নয়। এদিকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে জানার পর আর নাদিয়া কখনও ফরহাদের সামনে আসে নি। কদিন পরই নাদিয়ার বিয়ে হয়ে যায় পারিবারিক সম্মতিতে অন্য জায়গায়। আর এর পর থেকেই ফরহাদ নাদিয়া নামের যে কোন মেয়েকে দেখলেই নিজেকে ঠিক থাকতে পারে না। পাগলামিটা যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। এছাড়া অন্যসময়ে বেশ স্বাভাবিকই থাকে।

 

 

 

নাদিয়া জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ শক্তিহীন। ফরহাদের জীবনের এই ট্রাজেডিগুলোই এতক্ষন ধরে কিছুটা লিখে, কিছুটা ইশারায় নাদিয়াকে বুঝাচ্ছিল রাইসা। ফরহাদরা রাইসাদের ঐ নতুন বাসাতেই ভাড়া থাকে। রাইসা অনেক বছর পর নাদিয়াকে দেখে চিৎকার করে নাম ধরে ডাকার সময় পাশে থাকা ফরহাদ সেটা শুনে ফেলায় হঠাৎ এই বিড়ম্বনা। সব জানার পর মাইশা ও নাদিয়ার বেশ খারাপই লাগছিল ছেলেটার জন্য।

 

নাদিয়ার যার সাথে বিয়ে সেই ছেলে আমেরিকায় ফিজিক্সে পি.এইচ.ডি করে এখন সেখানেই কর্মরত। এমন শিক্ষিত এক ছেলে নাদিয়ার মত একটি মেয়েকে বিয়ে করছে দেখে প্রতিবেশীদের অনেকেই অবাক। সবার ধারণা নাদিয়ার সাত পুরুষের ভাগ্যি এমন শিক্ষিত প্রতিষ্ঠিত ছেলে সব জেনে বুঝে নাদিয়াকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিয়ের আসরে সবার মুখ্য আলোচনার বিষয় তাই নিয়ে। বিয়ের অনুষ্ঠানে ফরহাদ এবং ওর পরিবারকেও আমন্ত্রণ করেছিল নাদিয়া। তারা এসেছিলও। ফরহাদ এক কোণেই চুপচাপ বসে ছিল। কেউ দেখুক আর না দেখুক, নাদিয়ার চোখে ফরহাদের ডান হাতের বুড়ো আঙুলের ইশারাটা ঠিকই নজরে এসেছিল। যার মানে ভাল থেকো।