বাড়ি19th Issue, June 2017প্রতিবন্ধী জনগণ এ দেশের নাগরিক নন!

প্রতিবন্ধী জনগণ এ দেশের নাগরিক নন!

 

প্রতিবছর জাতীয় বাজেটে আমাদের বরাদ্দ বাড়ে। তবে বরাদ্দ বাড়লেও আনন্দিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের দিকে সরকারের কল্যাণকর দৃষ্টি এতটুকুও পড়েনি এ কথা হলফ করে বলা যাবে।

চলতি বছরের জাতীয় বাজেটে সরকার প্রতিবন্ধী মানুষের খাতে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কিন্তু এর বেশির ভাগই দেওয়া হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে। দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারি-বেসরকারি সব মহলেই প্রতিবন্ধী মানুষের এই খাত সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক হিসেবে বিবেচিত হয়। আমাদের অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার, সেখানে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। সমাজের কল্যাণে নিয়োজিত মন্ত্রণালয়ের অধীনেই প্রতিবন্ধী মানুষের সব কর্মকান্ডের বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দের জন্য। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মহিলা ও শিশু, যোগাযোগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে বরাদ্দ দেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা সরকার বোধ করে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯ দশমিক ৭ ভাগ প্রতিবন্ধী মানুষ। অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, দেশের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী মানুষ। অপরদিকে সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত তিন বছর ধরে করা এক জরিপে দেশে ১৪ লাখ ৮৫ হাজার প্রতিবন্ধী মানুষ খুঁজে পেয়েছে। অবিশ্বাস্য! কেবল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেখে প্রতিবন্ধী জনগণের উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব?

সরকারের কার্যবণ্টন বিধি অনুযায়ী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী নাগরিকদের বিষয় দেখবে; যার জন্য অন্য কোনো মন্ত্রণালয় কোনো বাজেট পেশ করে না। অথচ মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেটের জন্য সমন্বিতভাবে আমরা বহুবার বলেছি, দাবি তোলা হয়েছে নানাভাবে। কিন্তু এবারও দেখা গেল, বাজেটে প্রায় সব বরাদ্দই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে, শুধু অটিজম একাডেমির বরাদ্দটি ছাড়া। অন্যদিকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ম্যানুয়ালে প্রতিবন্ধী নারীদের অগ্রাধিকারের কথা বলা হলেও সেখানে প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের নিয়ে কোনো প্রকল্পের উদ্যোগ নেই।

জাতীয় সমন্বয় ও জাতীয় নির্বাহী এবং প্রতিটি জেলা, উপজেলা, শহর কমিটি গঠন এবং এসব কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নের নির্দেশনা থাকলেও এই আইন বাস্তবায়ন কমিটি সরকারি বরাদ্দহীন কীভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তা সরকারি ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা নিশ্চয়ই ভালো বোঝেন!

বাংলাদেশের সব নাগরিকের চাহিদার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে প্রতিটি মন্ত্রণালয়। তাহলে কি প্রতিবন্ধী জনগণ এ দেশের নাগরিক নন! না হলে একটিমাত্র মন্ত্রণালয়ে কেন প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়? প্রশ্ন এসেই যায়, আদৌ কি সরকারের কার্যবণ্টন বিধি সংশোধন করে মন্ত্রণালয় পরিচালনার বিধিমালায় পরিবর্তন আনার আগ্রহ রয়েছে? নাকি প্রতিবন্ধী মানুষদের একীভূত, অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি কঠিন শব্দ শেখানোতেই সব শেষ?

সর্বশেষ

বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ সংকট; নানামুখী সমস্যায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

অপরাজেয় প্রতিবেদক পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সঠিক রঙের ব্যবহার, সহায়ক উপকরণ, ইন্ডিকেটর বা সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সহায়ক সফটওয়্যার ও অডিও বইয়ের অভাবসহ নানামুখী সমস্যার কারণে সাধারণ...

মাসিক আর্কাইভ

Translate | অনুবাদ