চাঁদপুর জেলার তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিবন্ধী মানুষের অবস্থা করুণ

20

(অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।)

চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়ন গুলোতে অনুসন্ধানে গিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিবন্ধিদের এক বয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। গোটা জেলার মধ্যে হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জে প্রতিবন্ধির সংখ্যা বেশি।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য মতে, হাজীগঞ্জ  উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়ন, ৪নং কালচোঁ (দক্ষিণ), ৩নং কালচোঁ (উত্তর) ইউনিয়ন, ৯নং গন্ধব্যপুর ইউনিয়ন, বাকিলা ইউনিয়ন, হাটিলা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন অনুসন্ধানে এক বয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে একই চিত্র পাওয়া গেছে। নিভৃত গ্রামের এই প্রতিবন্ধিদের অসহায় পরিবার তাদের নিয়ে এক দূর্বিসহ জীবন-যাপন করছেন। অর্থের অভাবে না পারছেন তাদের উন্নত চিকিৎসা দিতে, না পারছেন তাদের বিয়ে সাদী দিতে বা করাতে। এছাড়া সরকারি বা বেসরকারী কোন সংস্থা এ সকল নিভৃত গ্রামে কাজ করছে না। সরকারি উপজেলা সমাজ সেবা অফিস মৃত লালের মতো। অসচ্ছল প্রতিবন্ধিদের জন্য সরকারি বরাদ্দ কখন আত্মসাত করবেন এ নিয়েই যেন তারা সব সময় ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া চাঁদপুরে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নেই, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সমাজ সেবা কর্মকর্তা চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব পালন করছেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪নং কালচোঁদঃ ইউনিয়নের ভাটরা (মিজি বাড়ির) একই পরিবারে ৯ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি রয়েছে। জন্মের পর ১৪/১৫ বছর বয়স থেকে হঠাৎ করে তাদের দৃষ্টি শক্তি কমতে থাকে। যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের ঘরের সন্তানদের ও একই অবস্থা। অনেকের আবার সন্তানসহ স্বামীর ঘর ছাড়তে হয়েছে। অভাব অনটনের সংসারে এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের নিয়ে বাবা মা যে কত কষ্ট আর দুঃচিন্তায় ভুগছেন তা সরজমিনে না দেখলে অনুধাবন করা যাবে না। এরকম বহু পরিবারে বাক প্রতিবন্ধি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধি, শারিরীক ও মানসিক প্রতিবন্ধির সংখ্যা অনেক। তেমনি ফরিদগঞ্জের ৭নং পাইক পাড়া, ৮নং পাইক পাড়াসহ অন্যান্য ইউনিয়নে ও একই চিত্র। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বললে সরকার থেকে প্রতিবন্ধিদের জন্য যা আসে তা হলো অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধি ভাতা তাওও হিসেব করা। কিন্তু অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধিদের ট্রেনিং, বিনা মুল্যে চিকিৎসা এসব আমরা পাচ্ছিনা। আবার অনেক ইউপি চেয়ারম্যান তার এলাকায় কি পরিমান প্রতিবন্ধি রয়েছে তাও জানেন না। মোদ্দা কথা নিভৃত গ্রামের প্রতিবন্ধিরা সরকার, সমাজ, এনজিও দের কাছ থেকে কোন ধরনে সাহায্য পাচ্ছেন না। আর অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধি ভাতা তা সিমিত বলে হিসেব না করাই ভালো।

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধিদের জন্য যে সকল এনজিও রয়েছে ঐ সকল এনজিও যদি তৃণ মূল পর্যায়ে বিনামূল্যে প্রতিবন্ধিদের জন্য ট্রেনিং, চিকিৎসা, চাকুরী বা অন্যান্য সুযোগ সু-বিধা দানের ব্যবস্থা করে তাহলে এই অসহায় প্রতিবন্ধিদের বাবা-মা অন্ততঃ একটু শান্তির নিঃশ্বাস ছাড়তে পারবে। অন্যথা এদের জীবন যাত্রা আরো ভয়াবহ রূপ ধারন করবে।

পরিশেষে, প্রতিবন্ধিদের সাহায্যার্থে দেশের শীর্ষস্থানীয় এনজিও গুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তৃণ মূল পর্যায়ের প্রতিবন্ধিদের মুখে হাসি ফুটবে।

 

লেখক-

আবু তালেব লিটন

মাসিক মানবাধিকার খবর,