শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে ক্রিকেট টিম

97

বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ত্রিকেট টিম থাকলেও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদাভাবে কোন ক্রিকেট টিম নেই। এ চিন্তা থেকেই সেন্টার ফর দ্যা রিহেবিলিটেশন অব দ্যা প্যারালাইজড (সিআরপি) শারীরিক প্রতিবন্ধী ত্রিকেট টিম তৈরীর প্রক্রিয়া গ্রহণ করে। প্রাথমিকভাবে এই চিন্তা যার মাথায় আসে তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মো: মহসিন। ঘটনার শুরু ফেসবুক বন্ধুত্ব থেকে। ইন্ডিয়ার উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মো: হারূন রাশেদ যিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্রিকেট প্রশিক্ষন দেন তিনি ফেসবুক চ্যাটে বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের নিয়ে একটা টুর্নামেন্ট আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন মহসিন ও রশিদ বাদশার কাছে। এর প্রেক্ষিতে মহসিনের আমন্ত্রণে মো: হারূন রশিদ এ নিয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশে আসেন। ইতিমধ্যে মহসিন ও বাদশা সিআরপি-তে কর্মরত মহরম, রুবেলসহ আরো কয়েকজন মিলে সিআরপি-র এ্যাডভোকেসি অফিসার মিজানুর রহমান কিরণকে এই বিষয়ে জানান। এভাবেই সিআরপি-র প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালরী টেলর এর কানে গেলে তিনিও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

১৩ ফেব্র“য়ারি, ২০১৩ মো: হারূন রশিদ মহসিনের আমন্ত্রণে সাভারে আসেন। পরদিন সকলের সাথে আলোচনা করে মিস টেলর সিদ্ধান্ত নেন একমাস পরেই র্মাচ এর ১৮,১৯,২০ তারিখে সিআরপি-র শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট টিম ভারতীয় ক্লাবের এর সাথে বাংলাদেশে ৩টি ঞ-২০ ম্যাচ খেলবে। শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট টিম তৈরীর প্রক্রিয়া। ৩০-৩৫ জন প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ২১ ফেব্র“য়ারি তারিখ থেকে সিআরপি-তে শুরু হয় অনুশীলন, সেখান থেকে বাছাই করা ২৫ জনের একটি দল গঠন করে শুরু হয় মূল অনুশীলন। বর্তমানে সিআরপি প্রতিবন্ধী ত্রিকেট টিম কোচের দায়িত্ব পালন করছেন সিআরপি-র স্টাফ বুলবুল আহম্মেদ। তিনি মনে করেন এত অল্প সময়ের মধ্যে শক্তিশালী দল গঠন করতে না পারলেও একটি ভারসাম্য পূর্ণ দল গঠন করা যাবে।

ত্রিকেট খেলার যাবতীয় সরঞ্জাম এর ব্যবস্থা তো সিআরপি করেছেন। বাকি রইলো মাঠ! ২০০৯ এ প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ঢাকা মহানগরে স্বয়ংসম্পূর্ণ কমপ্লেক্স নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কাজের অগ্রগতি জানতে সেখানে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় প্রতিবন্ধী ক্রীড়া সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব জওয়াহেরুল ইসলাম মামুন জানান, সাভারে রামচন্দ্রপুরে ১২ একর ১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে যা আগে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধিনে ছিল। সেই সাথে জমিটি মাল্টিপারপাস ক্রিড়াকমপ্লেক্স ফর পিপল উইথ ডিজয়এবিলিটি জয় নামে নিবন্ধিত করা হয়। এরপর থেকে এ বিষয়ে সরকার পক্ষ আর কোন পদক্ষেপ নেননি। পরবর্তীতে কবে নাগাদ এই প্রকল্পে অগ্রগতি শুরু হবে সে সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু বলতে পারেন নি তিনি। এদিকে ব্যর্থ হয়ে বিকেএসপি তে যোগাযোগ করা হলে ১৮, ১৯, ২০ মার্চ তারিখের অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলো তাদের মাঠে খেলার অনুমতি দিয়েছে কোন ফি ছাড়াই যা নিঃসন্দেহে সুসংবাদ। এছাড়াও ICRC (International Committee of Red Crescent) যাবতীয় কসটিউম দেবেন। আপাতত এখন ৩ ঘন্টা অনুশীলন হলেও মূল দল নিবার্চন হলে বেশি সময় ধরে অনুশীলন ও গেম প্ল্যান নিয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন কোচ বুলবুল।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার অর্জন ও তাদেরকে সমাজ উন্নয়নের মূলস্রোত ধারায় ফিরিয়ে আনতে আরও একটি অর্জন হল শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট টিম। অনুশীলনে আসা সকল শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রচুর আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। অনুশীলনে অংশগ্রহণকারী সকল শারীরিক প্রতিবন্ধীরা হচ্ছেন সিআরপি-র বর্তমান ভকেশনাল ইনিষ্টিটিউট ও সিআরপি-র আশেপাশের বাসিন্দা। আগামীতে সারা বাংলাদেশ থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার সংগ্রহ করে সিআরপি শারীরিক প্রতিবন্ধী ত্রিকেট টিম আরও শক্তিশালী করা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতের ছাড়াও পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ডের শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট টিম রয়েছে, সুতরাং বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকবে। সকলের প্রত্যাশা সিআরপি শারীরিক প্রতিবন্ধী ত্রিকেট টিম বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত করবে এবং ভারতীয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের সাথে একটি প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ চমৎকার ম্যাচ উপহার দেবে আমাদের।