প্রতিবন্ধী ব্যক্তির উপর নির্যাতন: প্রতিরোধ ও প্রতিকার

149

॥অপরাজেয় ডেস্ক॥

কেস স্টাডি-০১

১৪ আগস্ট ২০১২। ঈদের ছুটি প্রায় শুরু হচ্ছে। ঢাকার ইসলামপুর রোডের সোনার বাংলা মার্কেটের সামনে একটি মেয়েকে কাঁদতে দেখেন সেখানে কর্মরত শ্রমিক নাসিম। মেয়েটিকে তিনি কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যান। মেয়েটি শুনতে বা বলতে পারে না। ফলে পুলিশও মেয়েটির নাম-ঠিকানা জানতে ব্যর্থ হয়। ১৫ আগস্ট মেয়েটিকে নিয়ে আসা হয় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। কিন্তু এখানেও কর্মকর্তারা মেয়েটির নাম-ঠিকানা জানতে পারেননি। মেয়েটি লিখতে জানে না, তাই তার সঙ্গে ইশারায় যোগাযোগ চলে। সেন্টারের সহকারী পুলিশ কমিশনার রওনক জাহান ঈদের ছুটি শেষে এসডিএসএল-এর ইশারা ভাষা দোভাষী মো. আরিফুল ইসলামের সহায়তায় জানতে পারেন, মেয়েটির নাম “কবিতা”। বাবার নাম রফিক। সেন্টারের পুলিশ ২৩ আগস্ট কবিতাকে দোভাষীসহ নিয়ে যায় সেই এলাকায়, যেখানে তাকে পাওয়া গেছে। স্থানীয় এক পান বিক্রেতাকে পরিচিত হিসেবে শনাক্ত করে মেয়েটি। পরে সেই পান বিক্রেতাই কবিতার মা-বাবাকে খবর দেয়।

কবিতার মা বুলু বেগম জানান, কবিতার ফুপু ও তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় ভিক্ষা করেন। গত বছরের মতো এবার রোজার ঈদেও ফুপু কবিতাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন ভিক্ষায় লাগিয়ে ভালো আয়ের আশায়। এ কাজ করতে গিয়েই সে হারিয়ে যায়। শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষকে সহায়তা দিতে বা তার ওপর নির্যাতনের প্রতিকারের ক্ষেত্রে ইশারা ভাষার দোভাষীর অপরিহার্যতা অনুভব করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার। আর প্রতিবন্ধী মানুষকে সহায়তা দিতে গিয়ে সেবার বৈচিত্রতার নতুন অভিজ্ঞতা হয় পুলিশ বিভাগের।

কেস স্টাডি-০২

৫ সেপ্টেম্বর ২০১২। কুড়িগ্রামের ধর্ষিত শ্রবণ প্রতিবন্ধী সাবিনা (ছদ্মনাম) তার এক সপ্তাহ বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হন জবানবন্দি দেয়ার জন্য। রৌমারী থানার এস আই মতিনের সহায়তায় এসডিএসএল’র ইশারা ভাষার দোভাষীর সহায়তায় সাবিনার জবানবন্দি নেয়া হয়। ধর্ষণের কারণে গর্ভধারণ করা সাবিনা যে সন্তানের জন্ম দেন, তাকে কোলে নিয়েই জবানবন্দি দেন তিনি! ঘটনাটি এখন পর্যন্ত কোনো সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।

মামলার এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, কাঠমিস্ত্রি জোসন আলীর পালিত মেয়ে সাবিনা। ঘটনার দিন তার মা সবুরা বেগম এবং বাবা কাজে চলে গেলে দুপুরের দিকে প্রতিবেশী বানু মিয়া তাকে ঘরের ভিতরে ধর্ষণ করে। বানু মিয়া তাকে ভয় দেখায়, যাতে বিষয়টি জানাজানি না হয়। সমাজ আর লোকলজ্জার ভয়ে চুপ থাকেন সাবিনাও। কিন্তু গর্ভবতী হয়ে পড়লে মা-বাবাকে আসল ঘটনা জানাতে বাধ্য হন তিনি। আসামিকে চিনিয়েও দেন। পরে স্থানীয় এক সালিশে বানু মিয়া অপরাধ স্বীকার করে এবং সাবিনাকে বিয়ে করার প্রতিশ্র“তি দেয়। যদিও পরে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ কারণে থানায় মামলা হতেও দেরি হয়ে যায়। ধর্ষিত এই সাবিনা ও তার সন্তানের দায়িত্ব কি এখন রাষ্ট্রেরও নয়? অথচ রাষ্ট্র বরাবরই নির্যাতিত নারী আর ধর্ষণের কারণে জন্ম নেয়া সন্তানের দায়িত্ব নিতে অবহেলা করে আসছে, যখন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর হাজার কোটি টাকার সদ্ব্যবহার হচ্ছে না।

দেশে প্রতিনিয়তই অসংখ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। এমনকি মনো-সামাজিক প্রতিবন্ধী মানুষকে ‘ছেলেধরা সন্দেহে’ পিটিয়ে মারার মতো অমানবিক ঘটনাও এ দেশে ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা প্রকাশে সংবাদ মাধ্যমের কার্যকর ও সঠিক ভূমিকা দেখা যায় না। এমনকি প্রতিবন্ধী জনগণের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধে মূলধারার মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিজেদের অদক্ষতা ও অক্ষমতা তুলে ধরে। এ সমস্যা শুধু সংবাদ মাধ্যমেরই নয়, প্রশাসন, পুলিশ, বিচার ব্যবস্থাসহ সর্বক্ষেত্রে। এ কারণেই প্রতিবন্ধী মানুষদের সংগঠন (ডিপিও) বা প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলো গত কয়েক বছর ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। আশার কথা হলো, ইদানিং সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবন্ধী মানুষের নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা আগের তুলনায় বেশি আসছে। ধীর গতিতে হলেও এগিয়ে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও। এ অবস্থার পেছনে মূল কারণ প্রতিবন্ধী মানুষ বা প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে অজ্ঞানতা। রাষ্ট্র ও সমাজ বহুদিন পর্যন্ত মানুষ হিসাবে প্রতিবন্ধীদের অধিকারের স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেয়নি। অবশ্য গত দেড় দশকে ধীরে ধীরে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সমাজের সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদের (সিআরপিডি) শরিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এ সনদের বাস্তবায়ন শুরু করায় প্রতিবন্ধী মানুষকে এখন অসুস্থ বা রোগীর বদলে মানব বৈচিত্র্যের অংশ বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন ২০০১ কার্যকর হলেও তাতে প্রতিবন্ধী মানুষের নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। নির্যাতন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রাষ্ট্রের সহায়তা বা সুবিচার পেয়েছেন- এমন দৃষ্টান্তও বিরল। প্রতিবন্ধী মানুষের বিশেষ চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধাও দেশে গড়ে ওঠেনি। আসলে সিআরপিডিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নতুন কোনো অধিকারের ঘোষণা দেয়া হয়নি। বরং একজন মানুষ হিসাবে সব অধিকার যাতে তারা ভোগ করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ সুবিধা ও ব্যবস্থাগুলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী করার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে এই সনদে। এর আলোকেই দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার আইন করার উদ্যোগ নেয়া হলেও এর খসড়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়ার কোনো কথা বলা হয়নি। প্রতিবন্ধী মানুষের সুবিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সিআরপিডির ১৪ ধারায় পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষসহ বিচার বিভাগের কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন, নারী ও শিশুর ঝুঁকি বা শিশুর বয়স বিবেচনায় নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা কেন নেয়া হচ্ছে না?

রাষ্ট্র, সমাজ, আদালত ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিচারপ্রার্থী প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি খুব একটা সংবেদনশীল নয়। ফলে বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে তারা বিভিন্নভাবে বাধার মুখে পড়ছেন। অথচ সিআরপিডি অনুযায়ী দেশের আইনগুলো প্রতিবন্ধী মানুষের উপযোগী করে সমন্বয় সাধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তারপরও সরকার দেশের বিদ্যমান আইন এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমকে প্রতিবন্ধী মানুষের উপযোগী করার কোনো উদ্যোগ এখনো নেয়নি।

আইন, বিচার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিচারপ্রার্থী প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বাংলা ইশারা ভাষা বা বিকল্প যোগাযোগ পদ্ধতির মতো সুযোগ-সুবিধা না থাকায় শ্রবণ-বাক, বুদ্ধি, মনো-সামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নানা সমস্যায় পড়েন। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের ব্যবস্থা না রাখায় তারা জটিলতার মুখে পড়েন। প্রতিবন্ধিতার ভিত্তিতে বৈষম্য, সঙ্গতিপূর্ণ বন্দোবস্ত, একীভূত উন্নয়ন এবং সর্বজনীনগম্যতা ইত্যাদি বিষয়েও এই সব কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। অন্যদিকে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে নিরাপত্তা, আইন ও বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবন্ধী মানুষের স্পষ্ট ধারণা থাকে না। এছাড়া নির্যাতিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্নমুখী চাপে নির্যাতনকারীর সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সোসাইটি অব দি ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্স (এসডিএসএল) এর আইনি সহায়তার কিছু অভিজ্ঞতা উল্লেখ করা হলো।

  • ২০০৯ সালে কুড়িগ্রাম জেলায় একজন ধর্ষিত শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারীর জবানবন্দি দেয়ার ক্ষেত্রে ইশারা ভাষার দোভাষী সহায়তার মাধ্যমে এসডিএসএল-এর যাত্রা শুরু হয়। দেশে এসডিএসএলই একমাত্র সংগঠন যারা বিনামূল্যে আদালতে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের দোভাষী সহায়তা দিয়ে আসছে।
  • চতুর্থ শ্রেণীর পদে দুজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিয়োগে কোটা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করা হয়।
  • ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৭টি সরকারি শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী বিশেষ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এবং নভেম্বর মাসে সরকারি সেফ হোমের প্রতিনিধিদের বাংলা ইশারা ভাষা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
  • সিলেট পুলিশ সুপারের আহবানে ২০১২ সাল থেকে পুলিশের ইন-সার্ভিস ট্রেনিংয়ে “প্রতিবন্ধিতা ও বাংলা ইশারা ভাষা” প্রশিক্ষণ প্রদান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত আছে।
  • ২০১২ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী দুটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই কর্মশালার বিষয় ছিল “প্রতিবন্ধিতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও বাংলা ইশারা ভাষা”। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ৩৪ জন পুলিশ সদস্য, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সহযোগী ১০টি এনজিও এবং সমাজসেবা অধিদফতরের ২০ জন কর্মকর্তা এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন।
  • সমাজ সেবা অধিদফতরের আওতাধীন ফরিদপুর ও গাজীপুরের সেফ হোম, কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের আওতাধীন গাজীপুরের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সেফ হোমে শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাংলা ইশারা ভাষার দোভাষী সহায়তা দেয়া হয়।
  • প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার অর্জনে ও তাদের উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
  • প্রস্তাবিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার আইনে’ নির্যাতিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুরক্ষায় বিশেষ বিধান যুক্ত করা। বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ চাহিদাগুলো বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান আইন এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সংশোধন করা, যাতে তাদের অধিকার রক্ষার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
  • প্রতিটি জেলায় ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা। ‘জেলা নারী ও শিশু সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি; এবং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন পরিবীক্ষণ ব্যবস্থায় ‘প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুর অবস্থা’ উপ-শিরোনামে উল্লেখ করার পদ্ধতি দ্রুত চালু করা। পাশাপাশি, থানায় মামলা হয়নি এমন নির্যাতনের তথ্য সংগ্রহে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া।
  • প্রতিটি থানায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ডেস্ক চালু করে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বিশেষ পরিবীক্ষণের ব্যবস্থা করা।
  • মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, পুলিশ প্রধান কার্যালয়, সমাজসেবা অধিদফতর এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রধানকারী সংস্থা তাদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের
  • কার্যালয়সমূহকে নির্যাতিত প্রতিবন্ধী মানুষকে সহায়তা প্রদানকারী বিশেষায়িত প্রতিবন্ধী মানুষের সংগঠন (ডিপিও) বা বেসরকারি সংস্থার তথ্য জানিয়ে রেফারেল পত্র পাঠানো।
  • মহিলা অধিদপ্তর ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাদের মৌলিক ও কর্মকালিন স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণে প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকারের বিষয়গুলো যুক্ত করা।
  • ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের গবেষণা সেলের মাধ্যমে নির্যাতিত প্রতিবন্ধী মানুষের বিশেষ প্রয়োজন বা নির্যাতনের ধরণ ও অপরাধ প্রবণতা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করা।
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পদ্ধতিগত ও বয়স-উপযোগী সুবিধাসহ সাক্ষ্যপ্রদান, তদন্ত ও প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে সব আইনি কার্যপ্রণালীতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ এবং সুবিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
  • সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য জেলা আইনি সহায়তা তহবিলের সহায়তা নিশ্চিত করা এবং ইশারা ভাষা দোভাষী সহায়তার ব্যয় এই তহবিল থেকে মেটানোর ব্যবস্থা করা।
  • বিচার প্রক্রিয়ায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আদালতে বাংলা ইশারা ভাষার দোভাষীর তালিকা প্রকাশের আবেদন জানাচ্ছি। বিচার কাজে ইশারা ভাষার দোভাষী কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয়ভার আদালতকেই বহন করতে হবে।
  • ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, সেফ হোম ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারসহ সরকারের মানবাধিকার সহায়তা কার্যক্রমে ইশারা ভাষার দোভাষীসহ বিশেষায়িত সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

 

– আবু হানিফ মোহাম্মদ ফরহাদ

এসিস্টেন্ট কোওর্ডিনেটর, এসডিএসএল।