বৈষম্য ও নির্যাতনে প্রতিবন্ধী নারীর দিন যাপন

76

 

রোকেয়া সামিয়া

 

কল্পনা করা যাক একটি মেয়ের কথা। নাম লিলি। শ্রবণ প্রতিবন্ধী। কিন্তু তার আরেকটি পরিচয় সে অত্যন্ত সাহসী একজন মানুষ। প্রচণ্ড রকম প্রতিকূল পরিবেশে জীবন যুদ্ধে জয়ী হবার চেষ্টায় বদ্ধপরিকর এই মেয়েটির সাহস তাকে বোঝায় সে পিছিয়ে পড়া মানুষ নয়। তার এলাকায় এমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে ইশারা ভাষায় পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে। তার ভাষা কেউ বুঝে না। সে নিজেও কাউকে বোঝাতে পারে না। কখনো সখনো তার এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শারীরিক লাঞ্ছনাও সইতে হয়। পরিবার তথা সমাজের এহেন গঞ্জনা অপবাদ সয়ে কোনভাবে কিছুটা পড়ালেখা করেছে সে অদম্য মনের জোরে। এবার তাঁকে নিজের পায়ের নিচে শক্তভিত্তি খুঁজে বার করতেই হবে। নতুবা এ সমাজ তার উপরে মানসিক এ নির্যাতন চালিয়েই যাবে।

লিলির নামের মেয়েটির ঘটনাটি কাল্পনিক বলা হলেও এটি সত্য বাংলাদেশের সমাজে, যেখানে লিলির মত অসংখ্য কাল্পনিক চরিত্র বাস্তব হয়ে আছে ঘরে ঘরে। শুধু শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারীই নয়, বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসকারী অগুনতি নারী প্রতিবন্ধীকে সইতে হচ্ছে পারিবারিক এবং সামাজিক গঞ্জনা। মনে প্রশ্ন জাগে, সমস্যাটি কি তাদের প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত নাকি সামাজিক সুযোগ-সুবিধা বা সচেতনতার অভাব সম্পর্কিত!? সংবিধানমতে একটি রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকেরই সম অধিকার রয়েছে। তবে বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে যেখানে সকল নাগরিকের জন্যে এটি সূদুর পরাহত সেখানে প্রতিবন্ধী মানুষগুলোর সমস্যার দিকে চোখ দেবার মানুষ যেন বেশ কম। একজন প্রতিবন্ধী নাগরিক তার প্রতিবন্ধিতার জন্যে কি ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন একটু পর্যালোচনা করলেই বোধ করি পুরো চিত্রটি কিছুটা পরিষ্কার হবে।

এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও যে সমস্যাটি সামাজিকভাবে একজন প্রতিবন্ধী মানুষের চলার পথে প্রথম বাধা নিয়ে আসে তা হলো প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে বিদ্যমান কুসংস্কার। এখনো অনেক ক্ষেত্রেই যেকোন শুভকাজে প্রতিবন্ধী মানুষের উপস্থিতিকে অকল্যাণকর বলে মনে করা হয়। প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বিদ্যমান আরো অসংখ্য কুসংস্কারের মধ্যে একটি হলো অনেকেই মনে করেন একজন প্রতিবন্ধী নারী সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে অক্ষম। আর এখানেই আমরা সবচেয়ে বড় ভুলটি করে থাকি। কারণ প্রতিবন্ধিতা কোন অসুস্থতা নয় এটি একটি অবস্থা মাত্র। হতে পারে কিছু কিছু বংশগত (সব ক্ষেত্রে নয়) প্রতিবন্ধী নারী প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দিচ্ছেন কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তারা অ-প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম। আমাদের সমাজে জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিবন্ধী নারীদের আলাদা দৃষ্টিতে দেখা হয়। ফলে শহর বা গ্রামে হোক, প্রতিবন্ধী মেয়ে বা মহিলারা মূলত তিনটি বৈষম্যের শিকার হন, এক- নারী হিসেবে, দুই- প্রতিবন্ধী হিসেবে এবং তিন- দারিদ্র্যের কষাঘাতে। যার সাথে যুক্ত হয় কুসংস্কার ও বৈষম্যমূলক নীতির নির্যাতন। শুধু কুসংস্কারই নয় যদি শিক্ষার দিকে চোখ ফেরানো হয় তাতে দেখা যায়, শিক্ষার মত একটি প্রাথমিক মানবাধিকারের ক্ষেত্রেও নানাক্ষেত্রে প্রতিবন্ধিতার জন্যে প্রতিবন্ধী মানুষেরা নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। নানারকম প্রতিবন্ধিতা যেমন, বাক ও শ্রবণ, দৃষ্টি, বুদ্ধি বা মানসিক প্রতিবন্ধিতা এবং বিভিন্ন ধরণের শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের জন্যে বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বা কর্মস্থলে নানারকম সহায়ক সুবিধা (যেমন – শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের উপযোগী টয়লেট, প্রবেশগম্যতা, ইশারা ভাষা ও ব্রেইল পদ্ধতির অধিকতর প্রচলন) থাকা প্রয়োজন তা অনেক সময়ই গ্রাহ্য করা হয় না। মূলধারার স্কুলগুলোতে প্রতিবন্ধী মানুষদের ভর্তিতে এবং ভর্তির পরেও তাদের অভিভাবকেরা নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেকসময় প্রতিবন্ধী শিশুরা তাদের সমবয়সী, এমনকি শিক্ষক-শিক্ষিকা দ্বারাও অনেকসময় উত্যক্ত হচ্ছেন।

যদিবা নানাবিধ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে শিক্ষাগ্রহণ শেষে কেউ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন সেখানেও নানান প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এক্ষেত্রে সমস্যা তিন ধরণের হতে পারে। প্রথমত, ভৌত অবকাঠামোগত এবং বিশেষ সুবিধা দেয়া সংক্রান্ত। যেখানে প্রতিবন্ধী মানুষটি কাজ করবেন সেখানে তার বসার জায়গাটি, তার প্রবেশগম্যতার দিকটির দিকে অনেকসময়ই সামগ্রিকভাবে নজর রাখা হয়না। এছাড়াও বলা যায়, শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাববিনিময় ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কথা। দ্বিতীয়ত, প্রতিবন্ধী মানুষেরা অন্য সহকর্মীদের তুলনায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কম মজুরি পান যেখানে কারণ হিসেবে দেখানো হয় তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধিতার ফলে কম কাজ করছেন। যা আদৌ সঠিক নয়। সহমর্মিতার অভাবে কাজের ক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য এতে কাজ করে। তৃতীয়ত, নারী প্রতিবন্ধীদের জন্যে যেকোন কর্মক্ষেত্রে কাজ করা সবচেয়ে দূরূহ। নারী প্রতিবন্ধীদের জন্যে কিছু সহায়ক সুবিধা লাগে যা অনেকসময় কর্মক্ষেত্রে থাকে না। যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই তাদের ছাটাই করা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে কর্মস্থলে প্রাপ্ত সম্মান দেয়া হয় না তাদের। সহকর্মীরা তাদেরকে অতিরিক্ত বোঝা বিবেচনায় প্রায়শই নগন্য কারণে দোষারোপ ও উত্যক্ত করে নিজেদের সক্ষমতা জাহির করতে চান।

আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি এই নির্যাতনকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়-

*আবেগীয় নির্যাতনঃ হুমকি, ভীতি বা মৌখিকভাবে কটূক্তি।

*দৈহিক নির্যাতনঃ যে কোন শারীরিক অত্যাচার বা সন্ত্রাসের শিকার হওয়া। এবং

*যৌন নির্যাতনঃ ধর্ষণ বা বলপ্রয়োগ করে, ভয় দেখিয়ে বা প্রতারণার আশ্রয়ে বা কৌশলে যৌন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে বাধ্য করা।

তাদের প্রকৃত নামের বদলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রকৃত নামের সাথে প্রতিবন্ধিতার ধরনযুক্ত করে বিকৃতভাবে সম্বোধন করা হয়। এটা যেমন দুঃখজনক তেমনি নিষ্ঠুর এবং একইসঙ্গে অমানবিকও। সমাজে সবচেয়ে নির্বাসিত, অবহেলিত ও অসহায় মানুষদের মধ্যে পড়ে প্রতিবন্ধী নারীরা। অ-প্রতিবন্ধী নারীদের চেয়ে তারা বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। তার মধ্য আবার দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়। শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারীদের বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ভাব বিনিময় করতে না পারা প্রধান সমস্য বলে বিবেচিত হয় অন্যদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারীদের ক্ষেত্রে তাদের স্বাক্ষ্য আদালত গ্রাহ্য করে না। মোদ্দা কথা তারা ন্যায়বিচারের সুযোগ পায় না। আদালতে মামলা দায়ের করেও অনেক সময় বিপাকে পড়ে বাদীপক্ষ। বেশীরভাগক্ষেত্রে চক্ষু লজ্জায় অনেক পরিবার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। ফলে এসব নির্যাতনের খবর গণমাধ্যমেও কম প্রকাশিত হয়। ব্যতিক্রম অল্প কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিভিন্ন প্রতিবন্ধী সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষিত হলে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতির জোয়ার ছুটে যায়। কিন্তু আদতে তেমন কিছু হয় না। তার মূল কারণ, পরবর্তীতে ওসব সংগঠন সমূহ ফলোআপ করে না যার ফলে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। বাংলাদেশে বছরে কতজন প্রতিবন্ধী নারী বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয় তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। যদিও পূর্বের তুলনায় এ সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার একটি পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বোলানো যাক যেখানে বলা হচ্ছে কিভাবে প্রতিবন্ধী শিশু এবং নারী যৌন নির্যাতনের হার বেশি। ২০১০ সালে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন এবং সেভ দ্য চিলড্রেন পরিচালিত ‘প্রতিবন্ধী শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঝুঁকি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী শিশুদের ৫১ দশমিক ৩৮ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। প্রতিবন্ধিতার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয় মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুরা। এই হার ৩২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ ছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী ৩১ দশমিক ৫৩, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ১৯ দশমিক ৮১, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ১৯ দশমিক ২১ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবন্ধী শিশু ও নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণের হার ১০ গুণ বেশি।

বর্তমান এ যুগে নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যুদ্ধে লিপ্ত অ-প্রতিবন্ধীদের নারীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিবন্ধী নারীরাও জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে। অথচ অবজ্ঞা আর সমাজের রূঢ় দৃষ্টির কারণে শুধু বাংলাদেশেই নয়, এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশেও ব্যাপক অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও প্রতিবন্ধী নারীদের অবস্থান সেই আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। একজন নারী সারা জীবনের ধাপগুলো পার করে কখনও মেয়ে, কখনও মা, কখনও স্ত্রী হিসেবে। কিন্তু অসচেতন এই সমাজ একজন প্রতিবন্ধী নারীকে ভুল করেও বিয়ের উপযুক্ত ভাবতে পারে না। এখানে তার প্রতিবন্ধিতাই তার সবচেয়ে বড় অক্ষমতা হিসেবে গণ্য করা হয়। সেদিক থেকে প্রতিবন্ধী পুরুষদের এহেন প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন তেমন একটা হতে হয় না। বিয়ের ব্যাপারে প্রতিবন্ধী নারীদের ক্ষেত্রেই একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব কাজ করে এবং বেশীরভাগের মধ্যেই পারিবারিক ও সামাজিক নেতিবাচক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। অনেকের ধারণা প্রতিবন্ধিতা তাদের ভাগ্যের ফল, যা থেকে পরিত্রাণ লাভের কোন উপায় নাই। কিন্তু খুব স্বাভাবিকভাবেই মহিলা ও কিশোরী প্রতিবন্ধীদের মধ্যেও অপ্রতিবন্ধী মহিলা ও কিশোরীদের ন্যায় ভালবাসা বা বিবাহের ক্ষেত্রে একই আবেগ কাজ করে। কিন্তু অনেক উত্তরদাতার মধ্যেই গভীর হতাশার প্রতিচ্ছবি লক্ষ্য করা গেছে এই কারণে যে, কেউই তাদের প্রস্তাব করেন নি বা একটি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভালবাসা বা বিয়ের ব্যাপারে এগিয়ে আসেনি। অল্প কিছু ব্যতিক্রম ব্যতীত দাম্পত্য জীবনে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধী মহিলারা একই সঙ্গে স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দ্বারা কটূক্তি, শারীরিক নতুবা মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িত কোন মহিলা বা কিশোরী যদি প্রতিবন্ধিতার শিকার হন বা তার বিদ্যমান প্রতিবন্ধিতার মাত্রা যদি লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে তা তাদের সম্পর্ক ও বিবাহের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয় যদি কোন বিবাহিত প্রতিবন্ধী মহিলা তাদের গৃহস্থালীর কাজ বা তাদের ওপর অর্পিত পারিবারিক দায়িত্ব পালনে ব্যার্থ হয়। অনেক স্বামী আবেগীও কারণে প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি মেনে নিলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এ পরিস্থিতি বা চারিপাশের প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে কোনরূপ সাহায্য করতে পারেন না। এসব ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ ঘটে। কিছু ক্ষেত্রে আবার প্রতিবন্ধী মেয়েকে শুধুমাত্র যৌতুকের লোভে বিয়ে করার উদাহরণও রয়েছে। পরবর্তীতে অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে যৌতুকের সমস্ত সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে চলে গেছে।

বাংলাদেশ সরকার নির্যাতিত নারী ও কন্যা শিশুর সহায়তার জন্য মহিলা সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছে। যেখানে নির্যাতিত নারীদের আশ্রয়, বিনা খরচে আইনগত পরামর্শ ও মামলা পরিচালনার জন্য সহায়তা দেয়া হয়। আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যেও বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে। নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশের বেশ কিছু জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত স্থাপিত হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার ও নারী সংগঠন কাজ করছে এ নিয়ে। তবুও অন্যান্য নারীদের মতো প্রতিবন্ধী নারী নির্যাতনের সংখ্যা কমে নি। পত্র-পত্রিকা খুললে নারী নির্যাতনের খবর দেখতে খারাপ লাগে কিন্তু প্রতিবন্ধী নারী ও কিশোরী নির্যাতিত হলে তা নিশ্চয়ই হৃদয়কে আরো নাড়া দেয়। বুক কেঁপে ওঠে মানুষের হিংস্র বিকৃত রুচির কথা জানতে পেরে। প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতি যৌন নির্যাতন বন্ধে সমাজে সচেতনতার সাথে সরকারি কঠোর আইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরী। সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দেবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।