স্বনির্ভরতা: ভিটিসিবি’র অঙ্গীকার

39

দু’হাত পেতে নয়, স্বনির্ভর হয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্নে বিভোর বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জাহানারা বেগমের দু’চোখে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করেন। জীবনের এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন সত্বেও মনোবল হারান নি তিনি।

গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে ভালো ফল না পেয়ে শহরের ডাক্তার দেখাতে আসেন। কিন্তু ততদিনে আঁধার ঘনীভূত তার চারপাশে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার ফর দি ব্লাইন্ড (ভিটিসিবি) থেকে ‘চক পেন্সিল মেকিং’-এর ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এখন ঝলমলে রোদ্দুরের আভায় অদম্য মনোবল নিয়ে এগিয়ে চলেছেন দৃপ্ত পদক্ষেপে।

জাহানারার মতো আরো অনেকের আলোর দিশারী হতে ১৯৭৭ সালে যাত্রা শুরু ভিটিসিবির। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের এক বছর মেয়াদে প্যাকেজিং, বুকবাইন্ডিং, কম্পিউটার অপারেটিং কোর্স ফর দি ব্লাইন্ড, টেলিফোন পিএবিএক্স অপারেশন, ক্যান্ডেল মেকিং, টেইলারিং, ফিজিওথেরাপি ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এখানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। নুন্যতম আঠারো বছর বয়সী হয় প্রশিক্ষণার্থীকে। মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এক বছর মেয়াদি এ কোর্সে প্রশিক্ষণার্থী মাসে দুই হাজার টাকা সম্মানী এবং প্রশিক্ষণ শেষে পুনর্বাসন ব্যবস্থাসহ পাঁচ হাজার টাকা ও সার্টিফিকেট পান।

প্রশিক্ষণ পরবর্তী সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, প্যাকেজিং, বুকবাইন্ডিং, মোমের কারখানা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানসহ ফোন ও কম্পিউটার অপারেটর পদের কাজেরও ব্যবস্থা করে ভিটিসিবি এবং সে সব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীরা ভালো বেতনও পান। এছাড়াও প্রশিক্ষণার্থীরা ইচ্ছে করলে পাঁচ হাজার টাকা পূঁজি নিয়ে নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলতে পারেন ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান।