প্রতিবন্ধী মানুষের বহুল আকাংখিত অধিকার সুরক্ষা আইন পাস

31

গণপরিবহনে মোট আসনের ৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সংরক্ষিত করাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করে গত বৃহস্পতিবার (৩রা অক্টোবর’১৩) পাস হলো বহুল আকাংক্ষিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিল ২০১৩’।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন এদিন সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। তবে বিলের ওপর দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

প্রস্তাবিত আইনে প্রতিবন্ধিতার ধরন হিসেবে মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, অটিজম, দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা, বাক প্রতিবন্ধিতা, বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা, শ্রবণ-প্রতিবন্ধিতা, শ্রবণ দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা, সেরিব্রাল পালসি, ডাউনসিন্ড্রম ও বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতাসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধিতাকে উল্লেখ করা হয়েছে। আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার হিসাবে সব ক্ষেত্রে সমান আইনি স্বীকৃতি, স্বাধীন মত প্রকাশ, সমন্বিত শিক্ষায় অংশগ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ ইত্যাদির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ নামে একটি কমিটি থাকবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী কমিটির সভাপতি হবেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাজে সমন্বয় করবে এই কমিটি। এর বাইরে সমাজকল্যাণ সচিবের সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটি থাকবে, যার কাজ হবে সমন্বয় কমিটির নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা। প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বাস্তবায়নে জেলা, উপজেলা ও শহর এলাকায় কমিটি থাকবে। প্রতিবন্ধী মানুষেরা নিবন্ধন ও পরিচয়পত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার কমিটির কাছে আবেদন করবে।

 

বিলে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্বেও প্রতিবন্ধিতার অজুহাতে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ভর্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না। এছাড়া প্রতিবন্ধিতার কারণে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির আইনের আশ্রয় লাভে বাধা দিলে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করলে, কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করলে এবং প্রকাশনা ও গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী মানুষ সম্পর্কে নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করলে তা দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে আরও বলা হয়েছে, এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে নিবন্ধিত হলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানাযোগ্য অপরাধে দণ্ডিত হবেন। আর কোন ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচয়পত্র তৈরী করলে তার সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে।

তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক কমিশন গঠনের প্রস্তাবটি সংযোজিত হলে আইনটি পূর্ণতা পেতো বলে মনে করেন প্রতিবন্ধী মানুষেরা ও তাঁদের জন্য কর্মরত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। তারা বলেন, ২০০১ সালে করা প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইনেও জাতীয় সমন্বয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি এবং জেলা কমিটি ছিল। ২৩টি ধারা সংবলিত ওই আইনের ১২টিই ছিল কমিটিগুলোর গঠন, দায়িত্ব, সভা এবং অন্যান্য বিষয়-সম্পর্কিত। কিন্তু সেসব কমিটি কাগজে-কলমেই ছিল, বাস্তবে এসব কমিটির কাছ থেকে প্রতিবন্ধী মানুষেরা কোনো সুফল পাননি। আর সে জন্যই নতুন আইনে কমিশনের বিধান রাখার দাবি ছিল, যাতে কমিশনের কাছে অন্তত অভিযোগ করা যায়।