আসুন প্রতিবন্ধকতা দূর করি

62

প্রতিবন্ধিতা নিয়ে এই আলাপন চলছিল বহুদিন। আমরা বুঝেছিলাম প্রতিবন্ধী বলে আসলে কেউ নেই, আছেন কিছু মানুষ এবং তাদের জীবনে চলে আসা নানান প্রতিবন্ধিতা। আরও সাধারণভাবে বললে প্রতিটি মানুষই কোন না কোনভাবে সীমাবদ্ধ শারীরিক কিংবা মানসিকভাবে। তাদের এই সীমাবদ্ধতাগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারলে অন্য সবকিছুর মতো উন্নয়ন কর্মকান্ডও বাধাগ্রস্থ হয়, বলা যেতে পারে উন্নয়নের ধারায় প্রতিবন্ধকতা আসে।

এই বিষয়টি অনুধাবণ করতে পেরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটারএইড ‘ইক্যুইটি এন্ড ইনক্লুসন’কে তাদের কর্মপন্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিয়েছে। ‘ইক্যুইটি এন্ড ইনক্লুসন’ এর আভিধানিক বাংলা নানারকম হতে পারে কিন্তু যেভাবে একে আমরা আত্মস্থ করেছি তা হচ্ছে ‘অন্তর্ভূক্তি এবং ন্যায্যতা’। অন্তর্ভূক্তি খুব সহজেই বোধগম্য। যেহেতু আমরা পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং স্বাস্থ্যাভাসের উন্নয়ন সাধনে কাজ করি সেহেতু আমাদের কাজের এলাকা, পরিধি এবং ক্ষেত্রসমূহে দূর্গম এলাকার দরিদ্র মানুষদের অংশগ্রহণ যাতে অর্থপূর্ণ হয়, তার নিশ্চয়তা বিধান করা। আরও সহজ করে যদি বলি তাহলে আমরা যখন সিলেট বিভাগে কাজ করব তখন আমাদের চা বাগানের শ্রমিক কিংবা হাওরের অধিবাসিদের বাদ দেবার কোন সুযোগ নেই। বরঞ্চ যদি নানা কারণে দুঃসাধ্যও হয়, তবু আমাদের প্রথমে এইসব জনগোষ্ঠীর মানুষকেই অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। এবং ব্যাপারটি এমন নয় যে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, বরঞ্চ আমরা আমাদের কর্মস্থলের প্রতিটি মানুষ এমনটাই অনুভব করি। বঞ্চিত মানুষের অধিকারকে সর্বাগ্রে রাখা এখন আমাদের কাজের অংশ হয়ে গিয়েছে।

 

এখন কিছু কথা বলতে চাই ন্যায্যতা নিয়ে। আসলে ন্যায্যতা শব্দটিকে বেছে না নিয়ে আমরা কিন্তু ‘সমতা’ শব্দটিকেও বেছে নিতে পারতাম। তবে আমরা অত্যন্ত সচেতনভাবেই এমনটা করিনি। আমরা ভেবেছি, ভেবে ভেবে নিশ্চিত হয়েছি যে আসলে আমরা সবার সমান অধিকার চাইনা। আমরা চাই সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো অন্যদের চাইতে বেশি সুবিধা পাক, কারণ তাদের তো অন্য সবার সমান কিংবা কাছাকাছি হতে হবে। সাংবিধানিকভাবে প্রতিটি মানুষের অধিকারই সমান। তাই একজন মানুষ, তার যদি একটি পা না থেকে থাকে তবে তাকে দু’টি পা আছে এমন মানুষের সমান সুবিধা দিতে হলে কিছু বাড়তি কাজ করতে হবে।

 

এতে করে তারা দুজন কাছাকাছি অবস্থানে থাকবার একটা সুযোগ পাবেন। এই সুযোগ করে দিতে চাইলে শুধু সমতাভিত্তিক সমাজব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবেনা, সেক্ষেত্রে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে ‘ন্যায্যতাভিত্তিক সাম্যতার’। কিভাবে আমরা আমাদের কাজের মধ্যে দিয়ে ‘ন্যায্যতাভিত্তিক সাম্যতা’ আনয়ন করতে পারি? আমরা কেউই এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত নই। কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ওয়াটারএইড তার ২৭ দেশের কর্মরত সহকর্মী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, বিজ্ঞজন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি দিক-নির্দেশনা তৈরি করেছে। আমরা আগামী কিছুদিন ‘অপরাজেয়’কে সূত্রধর হিসেবে পেয়েছি এ তথ্যগুলো আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে। আপনারাও পারেন আমাদের বুঝবার ক্ষেত্রকে, জানবার আগ্রহকে শানিত করতে, পরিশীলিত করতে। আশা করছি আগামী দিনগুলোতে আমরা সকলে মিলে আমাদের চারিপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সম্মিলিত প্রয়াস নেব।

 

 

সোজা কথায় ন্যায্যতা এবং অন্তর্ভূক্তি

সামগ্রিক বাস্তবতা এবং ওয়াটারএইড ওয়াটারএইডের বিশ্বাস নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য বিধি চর্চায় অভিগম্যতা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। আর এই অতি প্রয়োজনীয় পরিসেবাগুলির ওপর ভিত্তি করেই মানবিক বিকাশ ঘটে, জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হয় সর্বোপরি জনগণ দারিদ্র্য দূরীকরণে সক্ষম হয়ে ওঠে। ওয়াটারএইডের প্রাথমিক লক্ষ্যই হল দারিদ্র্য দূরীকরণ। আমাদের বিশ্বাস দারিদ্র্য, প্রান্তিকীকরণ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা একে অপরের সাথে ওতোপ্রতভাবে জড়িত।

ওয়াটারএইড এমন একটি পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে যেখানে নিরাপদ পানির পর্যাপ্ত যোগান ও উন্নত স্যানিটেশন সকলের হাতের নাগালের মধ্যে থাকবে, আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওয়াটারএইড তার সহযোগিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুবিধা বঞ্চিতদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। এইসব সুবিধা বঞ্চিতদের তালিকায় এমন হত দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষজন রয়েছেন যারা এমডিজি লক্ষ্য পূরণের পরেও এই পরিসেবাগুলো পান না। সুতরাং ওয়াটারএইড এর কাজই হবে বৃহত্তর ক্ষেত্রে পরিবার, গোষ্ঠী অথবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পানি ও অন্যান্য সম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও বন্টনের অসাম্যতার ওপর আলোকপাত করা ও তা দূরীকরণে নিরন্তর কাজ করে যাওয়া।

 

এই সুবিধা বঞ্চিতদের তালিকায় যাদের অন্তর্ভূক্তির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী তাদের মধ্যে যেমন রয়েছেন নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক ব্যক্তি, এইচ.আই.ভি/ এইডস এর মত দীর্ঘস্থায়ী দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, তেমনি রয়েছেন কোন নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী, ধর্মাবলম্বী, আদিবাসী, এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল বা প্রান্তিক অঞ্চলের বাসিন্দারা। আবার সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন অন্যান্য জনগোষ্ঠী যেমন সমকামী (নারী, পুরুষ), যৌনকর্মী, তৃতীয় লিংগ বা হিজড়া সম্প্রদায়, বাস্তুহারা, বেদে বা ভাসমান জনগোষ্ঠী, অবৈধ বসবাসকারী অথবা নির্দিষ্ট কিছু পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগণ যেমন সুইপার সম্প্রদায় ইত্যাদি। প্রাসঙ্গিকভাবেই, ওয়াটারএইড এর মূল লক্ষ্য হল প্রতিটি পর্যায়ে পরিসেবা সম্পর্কিত বিধিসমূহে অন্তর্নিহিত অসাম্যতাগুলো তুলে ধরা এবং এসব এবং এসব অসাম্যতা হ্রাসে অর্থপূর্ণ ভূমিকা রাখা।

 

 

 ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তির কাঠামোটি কেমন?

এ কাঠামোর মূল ভিত্তিই হল ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তির সাথে সম্পর্কিত ওয়াটারএইডের সকল নীতিমালাগুলোর অর্থপূর্ণ বাস্তবায়ন। এর লক্ষ্য হলো – ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তির সাথে কে সম্পৃক্ত করতে একটি সাধারণ বোধগম্যতার জায়গা তৈরি করা। ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ওয়াটারএইড এর পদক্ষেপগুলোকে ব্যাখ্যা করা।

একটি ন্যূনতম মান বা সূচকের ভিত্তি তৈরি করা, যা নির্দিষ্ট কিছু দেশে বা প্রতিষ্ঠানের অংশ হিসেবে আরো কাজ করতে সহায়তা করবে। এ কাঠামোটিকে মূলত: তিনটি অংশে ব্যাখ্যা করা যায় –

১. ওয়াটারএইড এর অবস্থান এবং পদক্ষেপ সর্বদাই অধিকার ভিত্তিক পদ্ধতিতে ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার পক্ষে। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যাভ্যাস পরিসেবার ক্ষেত্রে ওয়াটারএইড এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবে এটাকে কাজে পরিণত করার বিষয়টি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং।

নিরাপদ পানি, অনুন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যাভ্যাস পরিসেবার ক্ষেত্রে ওয়াটারএইড এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবে এটাকে কাজে পরিণত করার বিষয়টি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং।

 

২. ওয়াটারএইড এর জন্য ন্যায্যতা ও অন্তর্ভূক্তির মানদন্ড এবং সূচক নির্ধারণ করা।

৩. এ সংশিষ্ট বিভিন্ন পরিভাষাসমূহ এবং উদাহরণসমূহের ব্যাখ্যা দেয়া। যেমন বিচ্ছিনড়বতা, প্রান্তিকতা, বিপদাপনড়বতা এবং অন্তর্ভুক্তির সামাজিক মডেলসমূহ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে ডঅঝঐ এর সম্পর্কের উদাহরণসমূহ ইত্যাদি।

 

ওয়াটারএইড যেহেতু সামগ্রিকভাবে ন্যায্যতা এবং অন্তর্ভুক্তির সম্পৃক্ততার পক্ষে কাজ করছে, সেহেতু দেশ ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমাদের লক্ষ্যপূরণের পহ্নাগুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে তা বিদ্যমান সচেতনতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও ভাবতে হবে। এই কাঠামো একটি সাধারণ মঞ্চ প্রস্তুত করে যা থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের কর্ম পরিকল্পনা ও নির্দশনা পাওয়া যায়। এছাড়াও এটি বিভিন প্রেক্ষাপটে কাজ করার ক্ষেত্রে বিশেষ অঞ্চলসমূহের জন্য পৃক এবং প্রযোজ্য ন্যূনতম মান নির্ধারন করে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে যা সময়ের সাথে অন্য অঞ্চলে কাজ করতে সাহায্য করে।

 

 

ওয়াটারএইডের অবস্থান ও কর্মপন্থা;

ন্যায্যতাই সততার মূলনীতি

 

ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তি ওয়াটারএইড মুখ্য নীতি হিসাবে গৃহীত হয়েছে যা স্বকীয় অধিকার ভিত্তিক পদ্ধতি, যা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি প্রান্তিক এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্নদের ইস্যুগুলোকে চিহ্নিত করে। সংস্থাটির স্বপ্নের মধ্যেই নিহিত আছে পৃথিবীর সকলের জন্য নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশনের মত পরিসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয়।

অধিকার আদায়ে প্রত্যেক মানুষ ভিন্ন এবং তাদের জন্য ভিন্ন ধরনের সম্পদ ও সহায়তার প্রয়োজন। এই সত্যের স্বীকৃতিই হল সাম্যতা। সততা রক্ষার্থে, বৈষম্যের শিকার এবং বঞ্চিতদের পক্ষে ক্ষতিপূরণ দিতে প্রায়শই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে পরিবার ও গোষ্ঠীতে যে আপেক্ষিক বৈষম্য ও বঞ্চনা আছে সেগুলো চিহ্নিত করা, পরিসেবাগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে সুবিধা বঞ্চিতরা নির্দিষ্ট কি বাধার সম্মুখিন হচ্ছে সেগুলো বোঝা, এবং সেগুলো সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা দরকার।

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট দেশ অথবা অঞ্চলের গতি-প্রকৃতি বোঝা ও বিশেষণ করা যা ঐ দেশ বা অঞ্চলকে অন্য দেশ বা অঞ্চলের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে সেই ডিনামিক্সগুলো বুঝতে পারা, অথবা কোন জনগোষ্ঠীর একটি বিশেষ অংশ যখন রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা ভোগ করে, এবং বাকিরা যারা পরিসেবা গ্রহণে খুব কম প্রভাব বিস্তার করতে পারে তাদেরকে প্রত্যক্ষ সমর্থন প্রদানে কাজ করা।

 

নিজেদের মধ্যে ন্যায্যতা মানে হল কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তির নিয়োগ, ধারন ও সর্বোত্তম কর্মক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধাগুলো চিহ্নিতকরন ও যথাসম্ভব অপসারন করা। অন্তর্ভুক্তি এমন একটি ব্যবস্থা যা সবার সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গটি উন্নয়নের সাথে জড়িত। অন্তর্ভুক্তির ধারনাটি কেবলমাত্র পরিসেবা গ্রহণ করার ক্ষমতা উন্নয়নের মধ্যে সীমিত নয়, একই সাথে সেইসব মানুষকে সহযোগিতা প্রদান যারা বৈষম্যের শিকার এবং প্রান্তিক, বৃহত্তর ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ও চাহিদাকে চিহ্নিত করা। উদাহরণস্বরূপ পরিসেবা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং দেশের নাগরিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দায়িত্ব প্রদানকারীকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা।

পরিশেষে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনীতির মূল স্রোতে অংশগ্রহণে ও অন্তর্ভুক্তি একান্ত জরুরী। তাদের এর পরিসেবা গ্রহণের অধিকার উপযুক্ত মঞ্চে তুলে ধরে তা আদায়ের স্বার্থে দেশ ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে গৃহীত উপযুক্ত পন্থায় সমর্থন করা উচিত।

এজন্য ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তি দুটি বিষয় পরষ্পর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাস্তবে, এই দুটি বিষয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে জরুরী হলো-

  • গোষ্ঠী ও ব্যক্তি বিশেষের ভিন্ন চাহিদার অনুধাবন এবং স্বীকৃতি;
  • সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা প্রান্তিকতার মূল কারণ অন্বেষন ও চিহ্নিতকরণ;
  • সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত ও বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান করা; এবং বৈষম্য ও বঞ্চনা নিরসনে উপযুক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সূত্র চিহ্নিতকরণ ও তার প্রয়োগ।

উল্লেখিত বিষয়গুলো ওয়াটারএইডের আভ্যন্তরীন সংস্কৃতি এবং কার্য পরিচালন কাঠামো উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

চাহিদার থেকেও অধিকারের প্রতি বেশি গুরুত্ব আরোপ করা। একটি চাহিদা ভিত্তিক প্রস্তাবনার লক্ষ্য থাকে জনগোষ্ঠীর পরিসেবা গ্রহণে ঘাটতি বা অপ্রাপ্তির অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো, তাদেরকে পরোক্ষ ও গ্রহীতা বা উপকারভোগী হিসাবে দেখে এই দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো ঐ জনগোষ্ঠীর পরিসেবা প্রাপ্তিতে তাৎক্ষণিক সাহায্য করে, কিন্তু তা পরিসেবা গ্রহণে উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হবে এমন নিশ্চয়তা নেই ।

 

অধিকার ভিত্তিক পদ্ধতি এমন একটি রূপান্তরমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণই তাদের নিজেদের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। অধিকার ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ রাষ্ট্র এবং সুশীল সমাজের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের দিকেও বিশেষ লক্ষ্য রাখে।

অধিকার ভিত্তিক এপ্রোচ এমন একটি উন্মক্ত এবং উন্নত শাসন ব্যবস্থা যা সারা বিশ্বে সবার জন্য নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন ওয়াটারএইডের এই লক্ষ্যকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। এটা পরিসেবা বঞ্চিত এবং দায়িত্ব প্রদানকারীর মধ্যেকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিরশনের লক্ষ্যে কাজ করে। এটা নীতিমালা, বিধিবিধান ও আইন প্রনয়ণের দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি দৃষ্টিভঙ্গী ও আচরণগত পরিবর্তনেও অবদান রাখে।

উদাহরণস্বরূপ, প্রান্তিক এবং পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠির জন্য বাজেটে নিরাপদ পানি এবং উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং জনস্থাপনাসমূহ যেমন স্কুল, কলেজ এবং হাসপাতালে সকলের জন্য সম্পূর্ণ পরিসেবা নিশ্চিত করা।

শামীম আহমেদ

প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ওয়াটারএইড