প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শিক্ষা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত হোক

21

বিগত দিন গুলোতে লক্ষ্য করলে প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে আমরা বেশ কিছু সাফল্য দেখতে পাই। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ এবং ট্রাস্ট আইন ২০১৩ পাশ, প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ ২০১৩, প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনকে স্বতন্ত্র অধিদফতরে রূপান্তরের কার্যক্রম, প্রবেশগম্য যানবাহন চালু করতে যোগাযোগ মন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়াও শিক্ষানীতিতে একীভূত শিক্ষার জোর দেয়ার ব্যাপারেও কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।

 

সরকার সকল প্রতিবন্ধী শিশুর সাথে অ-প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীর ‘একীভূত শিক্ষা’য় স্কুল কর্তৃপক্ষের সবরকম সহায়তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিলেও শিক্ষানীতিমালার বাস্তবায়ন কি ঘটছে? সরকারি ঘোষণার পরে দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে তা বাস্তবায়নে আমাদেরও কিছু করণীয় থাকে।

কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যোগ্যতা থাকা সত্বেও প্রতিবন্ধিতার অজুহাতে স্কুলগুলোতে ভর্তি অনুমতি পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। কিছু ক্ষেত্রে আইন ফাঁকি দেয়ার নতুন ফন্দি, ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য দেখানো! যদিও কোনভাবেই তাকে অযোগ্য বলা যায় না। অন্যদিকে বেশ কিছু স্কুলে ভর্তি হতে পারলেও পরবর্তীতে পড়তে হচ্ছে নানান বিড়ম্বনায়। ফলে, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ভর্তির হার খুবই হতাশাজনক।

ঢাকার নামকরা বেসরকারি স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যায়নরত হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীর (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাবার অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, স্কুল থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন মোটা অংকের অনুদানের বিনিময়ে। নতুবা আকারে ইঙ্গিতে সন্তানকে স্কুল থেকে বের করে দেবার হুমকি। তবে এরপরে আর কখনোই কোন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হবে না এমনটিও শুনিয়ে দেয়া হয়েছে সেই বাবাকে। এমন অজস্র অভিভাবকের তিক্ত অভিজ্ঞতা অহরহ শোনা যায়।

 

এদিকে বিশেষায়িত স্কুলগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ। একদিকে সরকার একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। অন্যদিকে বিশেষ শিক্ষার নামে আলাদা হয়ে আছে কিছু স্কুল, যেখানে আবার শিক্ষার্থীরা হয় টানাপোড়েনের শিকার। সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের সাথে জাতীয় শিক্ষাক্রম পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সমন্বয়হীনতার ফলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা হচ্ছে বঞ্চিত আর তাদের অভিভাবকগণ চিন্তিত।

বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি বেসরকারি বিশেষায়িত স্কুলগুলোতে ব্রেইল বই পৌঁছায় না। নেই পর্যাপ্ত সহায়ক উপকরণ। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে, যেখানে এই স্কুলগুলোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে করার দাবী দীর্ঘ দিনের।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি যেমন জরুরী তেমনি বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে গণমাধ্যমে তুলে আনার দায়িত্বও বর্তায় ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া কর্মীদের ওপরে। তবেই হয়তো সমস্যাগুলোর প্রতিকার সম্ভব।