সমন্বয়হীনতার অভাবে বঞ্চিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

33

তানদিজ শুভঃ বছরের শুরুতে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিশুরা যখন নতুন বই বিতরনের উৎসবে মুখর তখন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ন্যাশানাল কারিকুলাম টেক্সট বোর্ড (এনসিটিবি), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের অভাবই মূলত এর জন্য দায়ী।

 

সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনস্থ স্কুলগুলোতে সরকারি উদ্যোগে ব্রেইল পদ্ধতির বই বিতরণ করা হলেও তা সব শিক্ষার্থীর চাহিদা পূরণ করতে পারে না। অন্যদিকে বঞ্চিত হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ নিয়ে বাংলাদেশ ভিজ্যুয়েলি ইমপেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি (ভিপস) এর ট্রেজারার এবং আইসিটির টিম ইঞ্জিন লিমিটেড এর উপদেষ্টা – এক্সেসেবল সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট (রিসার্চ এ্যন্ড ডেভেলপমেন্ট) এর আশিকুর রহমান অমিত এর সাথে কথা বলে জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বঞ্চিত রেখে শুধু মাত্র সমাজসেবা অধিদফতরের অধিনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাহিদাভিত্তিক ব্রেইল পদ্ধতির বই সরবরাহ হয় টঙ্গী ব্রেইল প্রেস থেকে। তাও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা সব গুলো বইয়ের সেট সারা বছরেও এক সাথে পায় না। গণিত ও ধর্ম বিষয়ক বই এ বছর এখনো পায় নি শিক্ষার্থীরা।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একি ভাবে বিনামূল্যে বই পাওয়ার কথা থাকলেও বেশীরভাগ ব্রেইল বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে। বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে বই সরবরাহ করলেও তা অপ্রতুল এবং প্রতিষ্ঠানভেদে নির্দিষ্ট। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক বা অভিভাবকের কাছ থেকে পাঠ্যক্রম শুনে মুখস্ত করে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

 

অনেকটা আক্ষেপের সাথেই অমিত বলেন, বারবার আবেদন করলেও তেমন সাড়া মিলছে না কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সমাজসেবা অধিদফতরের দেখার বিষয় বলে দায় এড়াতে চাইছে। দু’ক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতা ও টানা পোড়েনের বিষয়টি দেখা যাচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর প্রতিকার চেয়ে দ্রুত যোগাযোগ করবেন বলে জানালেন তিনি।

সমন্বিত দৃষ্টি শিক্ষা প্রকল্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছরই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কর্মরত সংগঠন ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ৮টি সংস্থার প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে একটি ন্যাশানাল স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে যা বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষাধীন। ৩০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি মূলত বিভিন্ন ধরণের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিজস্ব সমস্যাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি এনসিটিবি ও দুই মন্ত্রণালয়ের মাঝে সমন্বয় সাধনের কাজটি করবেন।