খুলনার ৪টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র গড়ে উঠলেও রয়েছে সেবা ও প্রচারণার অভাব

74

ডাঃ কবির হোসেন শিকদার (খুলনা প্রতিনিধি)ঃ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৮টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চালু হয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরই উন্নয়নের (সেবা ও সাহায্য) জন্যে। কিন্তু আমাদের জানা প্রয়োজন, কেন্দ্রগুলো আসলে কতটুকু প্রতিবন্ধীবান্ধব ও কিভাবে তাদের সেবা ও সাহায্য দেয়া হয় এখানে।

 

“নুন আনতে পান্তা ফুরোয়” বাংলা প্রবাদ বাক্যের মতই অবস্থা এই কেন্দ্রগুলোর। খুলনার সোনাডাঙ্গা, রূপসার কাজদিয়া, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও সাতক্ষীরার রসুলপুর এই ৪টি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হল।

কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিপূর্ণ নয়। অর্থাৎ নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল-অনেকটা এমন। ফিজিওথেরাপিস্ট, কাউন্সেলিস্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিপূর্ণ নয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সহায়ক (হুইলচেয়ার র‌্যাম্প) পথ ও উপযোগী টয়লেট ব্যবস্থা নেই, নেই কোন পরিবহন ব্যবস্থাও। প্রচার-প্রচারণাও নেই। প্রত্যেক এলাকার প্রায় ৮০% লোক এই কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে সচেতন নন। সরেজমিন পরিদর্শনে এলাকাবাসীর কাছে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু আমি নিজেও জানতাম না, আমাদের জন্যই দেশে সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র করা হয়েছে। সম্প্রতি জানতে পেরে বিভিন্ন স্থানের শত শত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সাথে কথা বলে বুঝলাম তাদেরও অবস্থা তথৈবচ।

 

বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিভিন্ন থেরাপির প্রয়োজন হয়। কিন্তু কেন্দ্রে সব ধরনের থেরাপি দেয়া সম্ভব হয় না থেরাপিস্টের অভাবে। সবচেয়ে দুঃখজনক, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে কর্মী হিসেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা জরুরী ছিল কিন্তু তাদের নিয়োগের ব্যবস্থা নেই। প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখনও অবহেলিত।

সার্বিক বিষয় বিবেচনায়, আন্তঃ কেন্দ্র প্রধান ও প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়োগের প্রয়োজন ছিল এবং প্রত্যেকটি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ৫০% পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া উচিৎ ছিল।

 

প্রচার-প্রচারণা বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, রেডিও, টিভি, পত্র-পত্রিকা, মাইকিং, হ্যান্ড বিল, পোস্টার ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালালে কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে সকলেই জানতে পারবে। এছাড়া সেবার মান নিয়ে বেশীরভাগ অভিভাবকের মন্তব্য এমন, আপনারা (মিডিয়া) এলে ভাল করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। কিন্তু অনেক সময় ডাক্তারও পাওয়া যায় না। কখনও আবার থেরাপির ডাক্তার থাকে না। সব ধরনের থেরাপি এই কেন্দ্রগুলোতে নেই। আবার সহায়ক উপকরণ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ সময় সাপেক্ষ ও জটিল ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বারবার কেন্দ্রে এসে খোঁজ নিতে হয়। অনেক ঘোরাঘুরির পর তা পাওয়া যায়। উপকরণ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ হওয়া দরকার ছিল। কর্মচারীদের ব্যবহার এবং চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে স্থানীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বলেন, চিকিৎসা সেবা দেয়ার বিষয়ে অনেকেই আন্তরিক তবে কিছু ক্ষেত্রে বিপরীত প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়।