প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে অধিদফতরের ভূমিকা

40

প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের পথকে তরান্বিত করতে গত ২ এপ্রিল’১৪ অটিজম দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে প্রতিবন্ধী অধিদফতরে রূপান্তরিত করার ঘোষণা আমাদের জন্য যেমন আনন্দদায়ক তারচেয়ে বেশি দুঃখজনক দু’মাস পেরিয়ে গেলেও ফাউন্ডেশন বিলুপ্তির উদ্যোগ না নেয়া। স্বতন্ত্র অধিদফতরের দাবী দীর্ঘদিনের কিন্তু সে দাবী আলোর মুখ দেখে নি আজ অবদি।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ এর বিধি প্রণয়নের কাজও থমকে রয়েছে। এদিকে প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণে ২০১১-১২ অর্থ বছরের পাইলট প্রকল্প এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরের মূল কার্যক্রমে সরকারের সাড়ে এগারো কোটি টাকারও কিছু বেশি ব্যয় করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি’১৪ পর্যন্ত সারাদেশে প্রাথমিকভাবে মোট প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১৬ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫ জন অর্থাৎ মাত্র এক শতাংশ যখন দাঁড়ায় তখন এই জরিপের ফলাফল সুসংবাদ কি দুঃসংবাদ তা নির্ধারণ করা সত্যিই কঠিন।

 

আসলে, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আইন বা উন্নয়ন কাঠামো যাই তৈরি করা হোক না কেন কোন এক অলৌকিক কারণে তাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেও বছর পর বছর পেরিয়ে যায় কিন্তু প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার অর্জন হয় না। তাদের নিয়ে কর্মরত কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অধিকার রক্ষা বা আইন কার্যকর ভাবে বাস্তবায়নের জন্য সভা-সেমিনার আয়োজনের নামে দাতা সংস্থার কাছে থেকে বড় অংকের ফান্ড এনে বনে যান একেকজন নেতা। ফলাফল প্রতিবন্ধী মানুষেরা উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারে দ্বারেই ঘুরে ফেরেন। সত্যিকার অর্থে প্রতিবন্ধী মানুষের বেঁচে থাকার যুদ্ধে বা অধিকার বাস্তবায়নের স্বপ্ন পিছিয়ে পড়ে অনেকখানি। হরেক রকমের সমস্যা নিয়ে একেক জায়গায় ছুটাছুটি। আবার সর্বক্ষেত্রে প্রবেশগম্যতাও নেই। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যদিও রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনেক থাকে তবুও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হয় না। তড়িৎ গতিতে ফলপ্রসূ উদ্যোগের অভাব বা এই সব তত্বাবধানের জন্য নেই সুনির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠান। অথচ সমস্যাগুলো সমন্বয় সাধনে নির্দিষ্ট একটি জায়গার খুব দরকার।

এক কথায় বলা যায়, নারী সংগঠনগুলোর জন্যে নারী অধিদফতর আছে তাই নারী সংগঠনগুলোর অগ্রগতি হয়েছে অনেকখানি। ঠিক তেমনি প্রতিবন্ধী মানুষের দ্বারা পরিচালিত যে সংগঠনগুলোকে আমরা ডিপিও বলি, তাদের অগ্রগতি বা উপকৃত হবে এই চিন্তা থেকেই স্বতন্ত্র অধিদফতরের দাবী। মূলত ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্যেই আলাদা এই অধিদফতর বাস্তবায়ন ও পরিচালনার দাবী নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকেই। নতুবা সরকারের সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক কার্যক্রমগুলো যেভাবে দীর্ঘসূত্রিতার জালে আবদ্ধ হয়ে থাকে, অ-প্রতিবন্ধী নেতাদের অধীনে পূর্ব অবস্থাতেই দাঁড়াবে অধিদফতরের কার্যক্রমও।

 

অধিকার ও সুরক্ষা আইন’১৩ কার্যত বাস্তবায়নের জন্য বিধি প্রণয়ন হবার পরে এই আইনের আওতায় প্রতিটা জেলা উপজেলায় শহর কমিটি গঠন করার কথা। যাতে একজন নারী ও একজন পুরুষ পদ রাখা হচ্ছে যেখানে প্রতিবন্ধী মানুষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এবং তা হওয়া উচিৎ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলো থেকেই। গতবার কল্যাণ আইন ২০০১ এর পরে জেলা প্রতিবন্ধী কল্যাণ কমিটি হয়েছিল ২০০৩ এ। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কমিটি হওয়া সত্বেও গত এক দশকে ৬৪টি জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলায় তাদের অন্তর্ভুক্তি ছিল কি? সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তির স্বল্পতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দীর্ঘায়িত হওয়া, ইত্যাকার অজস্র প্রশ্নের ঝড় বয়ে যায় অনেকের মনে। সকল ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী মানুষের অন্তভুর্ক্তি নিশ্চিত করার সময় এসেছে।