অধিকার ভিত্তিক কর্মসূচিতে ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তি প্রতিষ্ঠায় ওয়াটারএইড

34

দ্বিতীয় পর্ব

 

ন্যায্যতা এবং অন্তর্ভুক্তির স্বার্থে ওয়াটারএইডের কিছু পদক্ষেপঃ

 

পলিসি এ্যাডভোকেসি

এ্যাডভোকেসির জন্য এমন কিছু নীতিমালা এবং সে সংশ্লিষ্ট নূন্যতম মানদণ্ড তৈরি করা, যা একাধারে লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতা, বয়স, এইচআইভি/এইডস, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, ধর্ম এবং গোত্র নির্বিশেষে নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশন সংক্রান্ত ইস্যুগুলো সুস্পষ্টভাবে  তুলে ধরতে সক্ষম হবে।

এ ধারাবাহিকতায় সহযোগিদের সাথে নিয়ে সম্মিলিতভাবে নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের সাথে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করা, যেন তাদেরকে সাথে নিয়েই এ অধিকারের দাবীটিকে আরো জোরালো এবং শক্তিশালী করে তোলা যায়। একইসাথে দাতাসংস্থা, জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে কাজ করা যেন প্রয়োজনে এসব বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সাহায্যে এগিয়ে আসা যায় এবং তাদের জন্য এক ধরনের জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। তবে এটি নিশ্চিত করা জরুরি যে প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং বিভিন্ন মেকানিজমসমূহ এসব পদক্ষেপগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ রয়েছে।

 

 

ওয়াটারএইডের গ্লপবাল কৌশলে (২০০৯-১৫) অধিকার ভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে সকলের জন্য ন্যায্যতা এবং অন্তর্ভুক্তি যেভাবে নিশ্চিত করা হয়েছেঃ

 

ওয়াটারএইড এমন একটি পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে যেখানে প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশনের সু-ব্যবস্থা থাকবে। এর অর্থ অধিকার আদায়ের দাবী জানানোর ক্ষেত্রে দুর্বল হওয়া শর্তেও কেউ যেন কোন ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়ে নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশন অধিকার থেকে বঞ্চিত না থাকে।

ওয়াটারএইডের লক্ষ্য বিশ্বের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর মাঝে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যবিধি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। ওয়াটারএইড তার সকল সহযোগিদের সাথে কাজ করে নীতিনির্ধারকদেরও প্রভাবিত করার চেষ্টা করে যেন তাদের কাজের প্রভাবটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগানো যায়। ওয়াটারএইড দারিদ্র, প্রান্তিকতা এবং সামাজিক ভাবে বঞ্চিতদের মধ্যে বিদ্যমান যোগসূত্রের ওপর জোর দেয়, অর্থাৎ কিভাবে তারা একে অপরকে এবং অন্যদের শক্তিশালী করে তোলে এবং এই চক্র ভাঙ্গার প্রয়োজনীয়তাই বা কতটুকু ? ওয়াটারএইড অত্যন্ত আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করে যে, দরিদ্রতম এবং সবচেয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির ওপরই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

 

 

ওয়াটারএইড তার সহযোগিদের সাথে নিয়ে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যবিধি এবং স্যানিটেশন খাতে উন্নত সেবা প্রদান এবং নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করার জন্য যে সকল বিষয় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে থাকেঃ

  •  উপযুক্ততাঃ  সকলের নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহারকারী বান্ধব বিভিন্ন ধরনের নকশা, উপকরণ এবং  পদক্ষেপ উদ্ভাবন ও ব্যবহার
  • একত্রীকরণঃ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের  জন্য আরো যে সকল উদ্যোগ এবং পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার সাথে মিল রেখে কর্মসূচি গ্রহণ করা।
  • দীর্ঘস্থায়ীঃ  গৃহীত ব্যবস্থাটি যেমন ন্যায়সঙ্গত হবে তেমনি যেন দীর্ঘস্থায়ীও হয় তা নিশ্চিত করা
  • জানিয়ে দেয়াঃ প্রান্তিক এবং বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা গড়ে তোলা এবং এর মাধ্যমে উঠে আসা প্রমাণগুলো সংগ্রহ করে তা অন্যদেরকেও জানানোর উদ্যোগ নেয়া।
  • স্থানান্তরঃ অন্যান্য সংস্থার মাঝেও অন্তর্ভুক্তকরণের পদক্ষেপগুলো ছড়িয়ে দেয়া।

 

 

গ্লোবাল প্রেক্ষাপটে ওয়াটারএইড এর কাজঃ

 

এক. নিরাপদ পানির সঠিক ব্যবহারের লক্ষ্যে ওয়াটারএইড সর্বাজ্ঞে দরিদ্র মানুষের চাহিদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে চায় যা তাদের স্বাস্থকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অর্থাৎ নিরাপদ স্বাস্থ্যাভ্যাস ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের অন্যতম নিয়ামক। এজন্য  বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করার সময় ওয়াটারএইড এর সকল সহযোগি সংগঠন ও এক্টরদের সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করে, যেন সকল প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন অধিকার নিশ্চিত করা যায়।

 

যারা সামাজিকভাবে প্রান্তিক এবং সুবিধাবঞ্চিত ওয়াটারএইড নিরাপদ পানি ও স্যানিটশন সংক্রান্ত সবধরণের কার্যক্রমে তাদেরকে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মাঝে ন্যায্যতা এবং অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে দেয়।

 

উদাহারণ স্বরূপঃ

এক. বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠির মধ্যে জেন্ডার সংবেদনশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জেন্ডার বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জেন্ডার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। এ ধরণের প্রশিক্ষণে পানি এবং স্যানিটেশন সুবিধা গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ডঅঝঐ কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী এবং পুরুষ উভয়েরই জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে কি ধরণের উন্নতি হয়েছে তা পর্যালোচনা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার সাথে জড়িত বেসরকারি সংস্থা ও অন্যান্যদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণে সহায়তা করা যেন এ বিষয়ে সকলের মিলিত যে রূপকল্প আছে তার প্রতি সুশীল সমাজেরও এক ধরণের জবাবদিহিতা গড়ে উঠে।

 

দুই. সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী সংস্থাসমুহকে প্রয়োজন মাফিক নিরাপদ পানি সরবরাহ, অধিক পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে দক্ষতা অর্জনে সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করা। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের নীতিপ্রণয়ন ও তার নিয়মিত প্রয়োগে সমাজের অতি দরিদ্র শ্রেণীর চাহিদাগুলো যেন পুরণ হয়, পাশাপাশি সম্পদের সুষমবন্টন ও সকলের অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো যেন দৃশ্যমান হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

 

সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠির অধিকারসমূহ চিহ্নিত করে সেগুলো আদায়ে একটি দায়িত্বশীল সুশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এজন্য সংশ্লিষ্ট খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পদের সুষমবন্টন এবং সকলের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা জরুরী। উদাহরনস্বরূপঃ

 

 

  •  বৈষম্যহীন নীতিসমূহের প্রয়োগ এবং বাস্তবায়নের পথে বাধার কারণগুলো পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করা যাতে করে আজও যারা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে তাদেরকে এর আওতাভুক্ত করা যায়।
  • পানি ও স্বাস্থ্যখাতের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যৌথভাবে জাতীয় বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরীতে সহায়তা করা। এ প্রতিবেদন পরিবেশগত প্রক্রিয়া, জাতীয় অর্থসংস্থান, অবকাঠামো বিনির্মান ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভুমিকার পর্যালোচনা করে।

 

 

অনুবাদঃ রোকেয়া সামিয়া

অনুলিখন: মাহফুজ-উর রহমান

বর্ণ বিন্যাসে: ক্লেমেন্ট সেরাও