অধিকার ভিত্তিক কর্মসূচিতে ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তি প্রতিষ্ঠায় ওয়াটারএইডের পদক্ষেপ

56

 

আগের পর্বের পর ……………

 

 

ওয়াটারএইডের অগ্রাধিকারমূলক ভূমিকাসমূহের মধ্যে আছে সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠির অধিকার চিহ্নিত করা এবং সেগুলো নিশ্চিতকরণে একধরনের দায়িত্বশীল সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য সংশ্লিষ্ট খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বন্টন এবং সকলের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। যেমন-

 

 

  •   প্রতিবন্ধীব্যক্তিদের জন্য সমন্বিত প্রক্রিয়ায় নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও যথাযথ স্বাস্থ্যাভ্যাস ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সহযোগি সেবাপ্রদানকারী সংস্থাসমূহের সাথে একত্রে কাজ করা।
  •  স্থানীয় সরকারসমূহকে, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সরকারসমূহকে উন্নয়নের সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা  অর্জনে অধিক গ্রহণযোগ্য ও সহিষ্ণু ধরণের স্থানীয় অবকাঠামো বিনির্মানে  সহযোগিতা প্রদান করা। এধরনের সহযোগিতা কেন্দ্রীয় সরকারের উপর বিশেষ ধরনের চাপ সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় সরকারকে সঠিক সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুষম বন্টণ নিশ্চিত করে।
  •  সরকার পর্যায়ে পরিচালিত বিভিন্ন জরীপ এবং জয়েন্ট মনিটরিং প্রোগ্রাম এর আওতায় প্রাপ্ত উপাত্তসমূহকে সমাজের শ্রেণী, বয়স এবং প্রতিবন্ধীব্যক্তি অনুসারে আলাদা আলাদাভাবে পর্যালোচনা করতে প্রভাবিত করা, যেন কারা  কার্যক্রমের আওতাভুক্ত আর কারা নয়, তা চিহ্নিত করা যায়।

 

 

নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যাভ্যাসের উন্নতি ও সঠিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা মানব উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্তঃ

অপর্যাপ্ত  দারিদ্র,  প্রান্তিকতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিহীনতার সম্পর্ক নিয়েও নিয়মিতভাবে আলাপ-আলোচনা করা দরকার। এর মাধ্যমে এসব বিষয় মানব এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে কিভাবে বাধার সৃষ্টি করছে তা পরিষ্কার হবে এবং এসব নেতিবাচক আন্তঃসম্পর্কগুলো ভেঙ্গে উন্নয়নকে কিভাবে ত্বরান্বিত করা যায় সে ব্যাপারে জনমত গড়ে উঠবে।

 

উদাহরনস্বরূপঃ

এর প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন পাঠ্যসূচিতে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা। বিশেষকরে প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরীদের বয়স ও তার বিশেষ চাহিদাগুলোর দিকে লক্ষ্য রেখে পাঠ্যসূচিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন দিক বিশদভাবে তুলে ধরতে হবে।

 

   যে সমস্ত সংস্থাসমুহ  নিয়ে কাজ করে তাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথ ডঅঝঐ কার্যক্রম পরিচালনা করা।

 

   সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতে  এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।  এর অভাবে বঞ্চিত মানুষদের যেমন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি রয়েছে, তার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন এবং গবেষণায় সাহায্য করা।

 

  বয়স্ক ব্যক্তিরাও যাতে ডঅঝঐ -এর কার্যক্রমে অংশগ্রহণের দাবি জানাতে পারে তা নিশ্চিত করা।

 

 নীতিনির্ধারকদের কাছে সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের অধিকারসমুহ বিভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরতে মিডিয়াকে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা।

 

 

 নিজক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানে অগ্রণী

ওয়াটারএইড ভবিষ্যতেও বিশ্বব্যাপী তার সক্রিয় মুল্যবোধ নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠিত সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে যে সমস্ত কাজ করছেঃ

 

ওয়াটারএইড এমন একটি স্বকীয়, ইতিবাচক এবং সমন্বিত কাজের পরিবেশ তৈরী করতে কাজ করছে যা ব্যতিক্রমী বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে সংস্থাটিকে তার নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেবে। এজন্য দক্ষ নেতৃত্ব ও কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা সমন্বিত কর্মসূচি পরিচালনা ও বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা পালন করবে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জন্যে কাজ করার জন্য রয়েছে দক্ষ কর্মীবৃন্দ। এর ফলে এখানে নথিপত্র সমুহ গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও সঠিক মুল্যায়নের মধ্য দিয়ে সমতা ও প্রান্তিকতা নিয়ে বোঝাপড়া তৈরি হয়, যা পরবর্তিতে বাস্তবায়নকৃত কর্মসূচিতে সমতা ও বৈষম্যহীনতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এজন্য দেশ ভেদে বিশেষ ধরনের উদ্যোগও হাতে নেয়া হয়েছে।

 

ওয়াটারএইডের গৃহীত কার্যক্রমের কাঠামোকে বাস্তব রূপ দেবার পথে চ্যালেঞ্জসমূহঃ

ওয়াটারএইডকে কর্মসূচী পরিচালনার জন্য কৌশলগতভাবে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়। যেমন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কিভাবে আওতাভুক্ত করা হবে, কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর উপর অগ্রাধিকার দেয়া হবে, কাদের সাথে কাজ করা হবে, এসব কাজ পরিচালনার জন্য আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি কি রকম হবে ইত্যাদি। বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকারীদের সক্ষমতা কতটুকু তার উপর জোর দিয়ে গোটা কার্যক্রম পরিচালনায় একটা তুলনামূলক ভারসাম্য আনার ক্ষেত্রেও ওয়াটারএইডকে কৌশল নির্বাচন করতে হয়। এসকল পন্থা গ্রহণের পেছনে ওয়াটারএইডের অঙ্গীকার এই বিষয়টি তুলে ধরে যে, যে কোন পরিবর্তন প্রবৃদ্ধির সহায়ক এবং তা ফলপ্রসূ হতে সময় নেয়। ওয়াটারএইডের কার্যক্রমের কিছু তাৎপর্য নিচে তুলে ধরা হলোঃ

 

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর জোর দেয়ার জন্য কাজের অনুপাতঃ

সকল ওয়াটারএইড কর্মসূচীর লক্ষ্য প্রধানত দরিদ্র দেশসমূহ এবং এমন জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করা যারা ‘ডঅঝঐ’ সুবিধাপ্রাপ্তি থেকে অনেকাংশেই দূরে। আদর্শগতভাবে তাদেরকে এই বৃহত্তর কার্যক্রমের আওতায় আনা এবং যাদের নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হবে তাদের মাঝে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের বিভিন্ন চাহিদা চিহ্নিত করা। এই নির্দিষ্ট প্রান্তিক দলকে ফোকাস করার জন্য কিছু কর্মসূচীর নকশাও প্রণয়ন করা হয়।

 

যদিও কিছু কিছু কার্যক্রমের আওতায় প্রান্তিক এবং সমাজ-বঞ্চিত মানুষ এবং গোষ্ঠীর সাথে কাজ করার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে, তথাপি অন্যান্য ক্ষেত্রে এদের সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে সেসব নির্দিষ্ট এবং ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য ওয়াটারএইডকে কিভাবে কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিস্তৃৃত করতে হবে সেই সম্পর্কিত কৌশলগত এবং ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত সে দেশে এসব কার্যক্রমের সাথে যারা জড়িত আছেন তাদেরকেই গ্রহণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, নেপালে ওয়াটারএইড জেন্ডার বৈষম্য এবং দারিদ্য দূরীকরণের ওপর জোর দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে এবং পরবর্তীতে ‘সমাজ অন্তর্ভুক্তি’র আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

 

কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর জোর দিতে হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যা বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হয় তা হলোঃ

 

কৌশল পরিকল্পনার সময় কাদের এবং কি কি চাহিদা পূরণ হয়নি এবং কেন তা হয়নি (কারা সেই দায়িত্ব পালনে ছিলেন এবং সেই দায়িত্ব পালনে তারা কি কি বাধাবিপত্ত্বির সম্মুখীন হয়েছেন), তা বিশ্লেষণ করা।

পরিবর্তন সাধনের জন্য সবচে গ্রহণযোগ্য উপায় কি-এবং সেই লক্ষ্যে ওয়াটারএইড কিভাবে এবং কাদের সাথে কাজ করতে পারে সে স¤পর্কে একটি চাহিদাভিত্তিক বিষণ করা। এই বিশ্লেষণ দায়িত্ব পালনকারীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষভাবে সহায়ক।

 

অনুবাদঃ রোকেয়া সামিয়া

অনুলিখন: মাহফুজ-উর রহমান

বর্ণ বিন্যাসে: ক্লেমেন্ট সেরাও