সর্বজনীন প্রবেশগম্যতা এখন সময়ের দাবি

93

– মেজর জহিরুল ইসলাম



জাতিসংঘের অধীনে সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিতকল্পে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও রিহেবিলিটেশন এর মধ্য দিয়ে আমার সৌভাগ্য হয়েছে ইউরোপ এবং আমেরিকার মত উন্নত দেশে অবস্থানের। সেখানে দেখেছি এবং উপলব্ধি করেছি একজন হুইলচেয়ার নির্ভরশীল ব্যক্তি কিভাবে স্বাভাবিক এবং স্বচ্ছন্দে জীবন যাপন করেন। আমি নিজেও সেখানে বহুবার শপিং মলগুলোতে ঘুরেছি। মিউজিয়ামে গিয়েছি। সিনেমা হলে ছবি দেখেছি। এমন কি স্টেডিয়ামে বসে রেডিও শো এর মত গেম উপভোগ করেছি। অথচ যখন স্বদেশের টানে, মায়ের সান্নিধ্যের আশায় দেশে ফিরে এলাম, তখন হাঁটতে না পারার বেদনার চেয়েও ভয়ংকর কিছু আমার জন্য অপেক্ষা করছে তা বুঝে উঠতে বেশি সময় লাগে নি।

 

চার দেয়ালের মাঝে বন্দি জীবনের এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুঝতে পারলাম আমি শৃঙ্খলিত। বিনোদন কিংবা প্রয়োজনের তাগিদেও আমার বাইরে যাবার কোন ব্যবস্থাই নেই এদেশে। আগের মত বাইরের আলো-বাতাস মাখা আর হয়ে উঠবার নয়। এ সমাজ আমাকে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত রেখেছে, বাধামুক্ত হুইলচেয়ার চলাচলের কোন ব্যবস্থা রাখে নি। অবকাঠামোগত নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার আমি। For me, going out for a good meal in a hotel or restaurant, or to shop in a mall, or to view a nice movie in a cinema hall or for that matter to travel to another place, is more of an anxiety than pleasure.

 

অবকাঠামোগত ব্যবস্থা একজন প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা হুইলচেয়ার নির্ভরশীল হয়ে বুঝতে পারছি। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই চাহিদাটি নিয়ে নীতি নির্ধারকদের ভাবনা নেই। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী মানুষের উপযোগী অবকাঠামো তৈরি হয় নি। আইন থাকলেও এক্ষেত্রে উন্নয়নের হার শূন্যের কোঠায়। দেশের রাস্তা-ঘাট, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বহুতল ভবন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, বাসাবাড়িও প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলের জন্য উপযুক্ত নয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের উপযোগী টয়লেট এবং সিঁড়িতে র‌্যাম্পের ব্যবস্থা নেই। যে আইন বা নীতিমালা রয়েছে তারও সঠিক বাস্তবায়ন নেই। এখন যা হচ্ছে তা হল করুণা, দয়া এবং কল্যাণ ভিত্তিক। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় স¤পৃক্ত করতে যে উদ্যোগ নেয়া দরকার তা হচ্ছে না। প্রতিবন্ধী মানুষকে পরিবার, সমাজ ও জাতির বোঝা করে রেখে সমৃদ্ধির পথে একটি দেশ এগুতে পারে না।  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে বলা আছে- “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।” সেই সঙ্গে ২৮নং অনুচ্ছেদে বলা আছে- “কেবল ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী, পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।” এই ২টি অনুচ্ছেদ ছাড়াও সংবিধানের মৌলিক অধিকার অনুচ্ছেদে আরো কিছু অধিকারের কথা বলা হয়েছে সেখানে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ অ-প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ন্যায় সমান অধিকার ভোগ করবে। এখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন দ্বারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় নীতিমালা ডিসেম্বর, ১৯৯৫ (National Policy for the Disabled 1995)   তে প্রতিবন্ধিতা কী, প্রতিবন্ধিতার ধরণ, মাত্রা, প্রতিরোধের সংজ্ঞায়িত করণের পাশাপাশি প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘোষণাপত্র এবং বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন অনুচ্ছেদ তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের সংবিধানে এবং আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র ও সিদ্ধান্তসমূহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পূর্ণ অংশগ্রহণ ও সম-অধিকার নিশ্চিতকরণের নীতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেহেতু বাংলাদেশ সরকার ১৪টি বিবৃতি ও ব্যবস্থাসমূহ সরকারের নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
১. প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধকরণ,

২. আগাম নিরোধ ব্যবস্থা,

৩. শিক্ষা,

৪. জনবল উন্নয়ন,

৫. গবেষণা,

৬. তথ্য,

৭. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্বারা স্ব-নির্ভর আন্দোলন,

৮. চিহ্নিতকরণ ও নিরোধ,

৯. সহায়ক উপকরণ,

১০. পুনর্বাসন,

১১. কর্মসংস্থান,

১২. মুক্ত চলাচল ও যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধা,

১৩. চিত্ত বিনোদন,

১৪. বাস্তবায়ন ও সমন্বয় সাধন।

 

 

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এর উন্নয়ন অধিশাখা-৮ কর্তৃক জারি কৃত প্রশাসনিক আদেশ/০৭-১২- ২০০৯: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহার উপযোগী র‌্যাম্প ও টয়লেট নির্মাণ প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট ভাবে ৬টি দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়:

 

১. বিভিন্ন সরকারি অফিস, আদালত, ভবন ইত্যাদি সমূহে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রবেশের সুবিধার্তে প্রয়োজনীয় সংখ্যক র‌্যা¤প নির্মাণের ব্যবস্থাকরণ,

২. সরকারি অফিস, আদালত ও ভবনসমূহে প্রতিবন্ধী মানুষের ব্যবহার উপযোগী প্রয়োজনীয় সংখ্যক টয়লেটের ব্যবস্থা গ্রহণ,

৩. বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের জন্য নির্মিত র‌্যাম্পসমূহ তাদের প্রবেশের উপযোগী করে নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ,

৪. বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহার উপযোগী প্রয়োজনীয় সংখ্যক টয়লেটের ব্যবস্থা গ্রহণ,

৫. রাজউক কর্তৃক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা পাশের সময় বিভিন্ন সরকারি ভবন এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসাবে ব্যবহার্য ভবন, যথা ব্যক্তি মালিকাধীন বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার ইত্যাদিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহার উপযোগী র‌্যাম্প ও টয়লেট নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিতকরণ,

৬. সরকারি অফিস, আদালত, ভবন সমূহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহার জন্য র‌্যাম্প ও টয়লেট নির্মাণ বিষয়ে প্রতিবন্ধীদের সংগঠনের সাথে আলোচনা/পরামর্শ গ্রহণ। যা প্রকৃতপক্ষে বিল্ডিং কোড ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৮ (২৭ মে ২০০৮) এর বিধিমালাকেই প্রতিষ্ঠিত করে।

 

ঐ বিধানে সর্বজনীন প্রবেশগম্যতার বিষয়টি মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে:

১. সকল ইমারতে গাড়ি পার্কিং স্পেস থেকে লিফট পর্যন্ত যেতে একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের জন্য কোন বাধা থাকতে পারবে না। অর্থাৎ সিড়ির পাশাপাশি র‌্যাম্পের ব্যবস্থা থাকতে হবে,

২. ১০০ বর্গমিটারের উপর ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট সকল গণব্যবহার উপযোগী ইমারতসমূহ যেমন-হোটেল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ও সমাবেশস্থল প্রতিবন্ধী মানুষসহ সকলের জন্য সর্বজনীনগম্যতা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে,

৩. প্রতিটি কক্ষ, করিডোর, চলাচলের পথ একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের জন্য স¤পূর্ণ বাধামুক্ত হতে হবে, ৪. প্রযোজ্য সকল ইমারতে প্রতি তলায় ন্যূনতম একটি টয়লেট অথবা সার্বিক টয়লেট সংখ্যার ৫%(যাহা অধিক) পরিমাণ টয়লেট প্রতিবন্ধীবান্ধব অর্থাৎ সর্বজনীন প্রবেশগম্যতা থাকতে হবে অর্থাৎ ভেতরে অন্তত একটি হুইলচেয়ার ঘোরানোর জায়গা থাকবে, দরজার মাপ ন্যূনতম ৩০ ইঞ্চি চওড়া হতে হবে এবং হাই কমোডের দু’পাশেই হ্যান্ড রেলিং (গ্র্যাব বার) থাকতে হবে, যার সাহায্যে একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষ নিরাপদে নিজেকে স্থানান্তর করতে পারেন,

৫. একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের জন্য ন্যূনতম একটি গাড়ি পার্কিং এর স্থান নির্দিষ্ট থাকতে হবে। সর্বজনীন প্রবেশগম্যতার নকশা না মানা হলে তার জন্য রয়েছে শাস্তির বিধান। Building Construction Act-1952-Gi section 12-Gi sub-section (১)-এর ধারায় সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল অথবা ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন দায়ী ব্যক্তি।

 

২০০৮-এর ২৯ মে সরকার প্রতিটি ডেভেলপার কোম্পানিকে এ সংক্রান্ত গেজেট পাঠায়। এত কিছুর পরও আমাদের দূর্ভাগ্যই বলতে হবে, বিষয়টি কেউ গুরুত্বের সাথে দেখার প্রয়োজন মনে করছেন না। অর্থাৎ সর্বত্র প্রবেশের সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আইনটি মানছেন না কেউ। এছাড়া, ২০০৬ সালের জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বিষয়ক (সিআরপিডি) সনদে বাংলাদেশ ৯১তম রাষ্ট্র হিসাবে ৯ মে ২০০৭ সালে স্বাক্ষর করেছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের আইনি অধিকার ও রাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে একই বছর ৩০ নভেম্বর সনদে অনুস্বাক্ষর করেছে ৮ম শরিক রাষ্ট্র হিসাবে। বাংলাদেশ ১২ই মে ২০০৮ তারিখে ঐচ্ছিক প্রতিপালনীয় বিধানেও অনুস্বাক্ষর করেছে। অনুসমর্থনের পর ঐ সনদের আলোকে নতুন আইন তৈরির বাধ্যবাধকতাও ছিল। আর সেই বাধ্যবাধকতার আলোকেই ২০০১ সালের “বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন” বিলুপ্ত করে “প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩” নামে নতুন এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়। আইনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পূর্ণমাত্রায় বেঁচে থাকা, আইনি স্বীকৃতি এবং বিচারগম্যতা, উত্তরাধিকার পাওয়া, মত প্রকাশ,তথ্য পাওয়া, সমাজে বসবাস, বিয়ে ও পরিবার গঠন, প্রবেশগম্যতা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ, একীভূত বা সমন্বিত শিক্ষায় অংশগ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিসহ বিভিন্ন অধিকারের কথা উল্লেখ আছে। বলা হয়েছে, আইন কার্যকর হওয়ার পর সরকারি-বেসরকারি ভবন, পার্ক, স্টেশন, বন্দর, টার্মিনাল ও সড়ক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। আইন অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি কেউ বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারবে না। যদি কেউ বৈষম্য করে, তাহলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। সংবিধানে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। তারপরও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা আইন বাস্তবায়ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আর তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এর সঠিক অনুশাসন এবং প্রয়োগ এখন সময়ের দাবী। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এই সমাজেরই অংশ। সমাজের কোনো একটি অংশকে বাদ দিয়ে ষোল কোটি মানুষের উন্নয়নশীল ছোট্ট এই দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। আমাদের এগুতে হলে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে পথ চলতে হবে। আমাদের দেশে ভৌত অবকাঠামো প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলের অনুকূল নয়। সকল আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবন সংস্কারের ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অবাধে চলাচল করতে পারে, ভবনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ঢালু পথ (র‌্যাম্প সিঁড়ি) তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আর তবেই সর্বজনীন প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করণের মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গকে সমাজ বিনির্মাণে মূলস্রোতধারায় সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে সবার জন্য একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা পাবে, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে উঠবে।

 

লেখকঃ ২১শে সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত জর্জিয়ায় অবজারভার মিশন (UNOMIG) এ দ্বায়িত্ব পালনকালে একদল অজ্ঞাত বন্দুকধারী কর্তৃক আক্রান্ত হন। ক্রমাগত গুলি বর্ষণ (ব্রাশ ফায়ার) ও গ্রেনেড হামলায় তিনি ডান হাতে ও মেরুদন্ডের ¯পাইনাল কর্ডে (T3-T4 Level) গুলিবিদ্ধ এবং ডান উরুতে ¯িপ্লন্টার বিদ্ধ হন। ফলশ্র“তিতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি তুরস্কে ৫ মাস এবং পরবর্তীতে আমেরিকায় ৩ মাস চিকিৎসা এবং রিহ্যাবিলিটেশন শেষে দেশে ফিরে হুইলচেয়ার নির্ভরশীল জীবন যাপন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বি-স্ক্যান এর সাধারণ সদস্য এবং SCIDAB এর সহ-সভাপতি হিসাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।