পাসপোর্ট অফিসে প্রতিবন্ধী মানুষের চরম দূর্ভোগ

50

 

অপরাজেয় প্রতিবেদক

 

আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের প্রধান কার্যালয়ে লিফট থাকা সত্ত্বেও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারি মানুষেরা। অপরদিকে পাসপোর্টের কাজে আগত প্রতিবন্ধী মানুষের সাথে অপ্রতিবন্ধী মানুষেরা করছেন বিরূপ ব্যবহার।

 

সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায় ভবনটির লিফট নিচতলা থেকে সরাসরি ছয়তলায় উঠে যায়। পাসপোর্ট অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মাঝের অন্যান্য তলার দরজা লক করে দেয়ার ফলে লিফটটি কোনতলাতেই থামে না। এদিকে ছবি তোলাসহ পাসপোর্টের বিভিন্ন কাজে চারতলায় যেতে হলে সিঁড়ি দিয়ে উঠা নামা করা লাগে যা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারি মানুষসহ অন্যান্য সকল ধরণের প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কষ্টদায়ক। অভিযোগ করে পাসপোর্ট করতে যাওয়া প্রতিবন্ধী মানুষেরা।

 

সম্প্রতি গত জুন, ২০১৫ তারিখে এক অভিভাবক দম্পতি তাদের একমাত্র সন্তান ফাহমিদ নাজিফ হককে (হুইলচেয়ার ব্যবহারকারি) নিয়ে লিফটের দিকে এগুতে গিয়ে উপস্থিত মানুষের তীব্র কটু মন্তব্যের শিকার হন। অনেকেই অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদের প্রতি মন্তব্য ছুড়েছেন হুইলচেয়ার নিয়ে এখানে আসার কী দরকার? এটা কি হাসপাতাল নাকি!

ফাহমিদের বাবা আনোয়ারুল হক এ প্রতিবেদককে জানান, তারা বাবা মা দুজনে মিলেই সমাজের এহেন বিষ বাতাস থেকে তাকে এতদিন আঁড়াল করে রেখেছিলেন। এই প্রথম দূরারোগ্য মাস্কুলার ডিস্ট্রফি এর সম্মুখীন ছোট্ট ফাহমিদ দেখলো মানুষ কতটা কদর্য রসিকতা করতে পারে প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে। তার বাবা আগত অপ্রতিবন্ধী মানুষদের অনুরোধ করেছিলেন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারি হিসেবে তাকে আগে যেতে দেয়ার জন্য। কেউ অনুরোধ তো রাখেনই নি, উপরোন্ত লিফটের জন্য অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে এসব বিব্রতকর কটু মন্তব্য শুনতে হয়েছে ফাহমিদকে।

 

দীর্ঘক্ষণ পর ধাক্কাধাক্কির মাঝে হুইলচেয়ার চালিয়ে লিফটে প্রবেশের সুযোগ পান তিনি। এরপর লিফট থামে সরাসরি ছয়তলায়। পাসপোর্টের ছবি তোলার জন্য ফাহমিদকে বহু কষ্টে পাজাকোলে চারতলায় নামিয়ে আনেন তিনি। তবে কাজ শেষে তিনি আরও ভোগান্তি ও অপমানের সম্মুখীন হবার ভয়ে লিফটের দিকে পা বাড়ান নি। ফাহমিদকে পাজাকোলেই চারতলা থেকে নিচে নামিয়েছেন।

 

একই ভোগান্তির শিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য বিভাগের হুইলচেয়ার ব্যবহারকারি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি বিভিন্ন সফরে তাকে দেশের বাইরে যেতে হয়। পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে মনে হলেই জ্বর আসে যেন আমার। প্রতিবন্ধী মানুষের সমস্যা তো আছেই, কিন্তু অসুস্থ মানুষও তার চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে চাইলে পাসপোর্ট করাতে চার তলা থেকে পাঁচ তলায় অথবা ছয় তলা থেকে আবার এইভাবে উপর নিচ বারবার করবেন কিভাবে তা কি শুধুই ভুক্তভোগির ভাবনা?

তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে বলেন, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পাসপোর্ট অফিসের প্রধান কার্যালয়ে গেলে প্রতিবন্ধী মানুষের দুঃখ দুর্দশা চরমে গিয়ে পৌঁছে। কোথাও কোন ঢালু র‌্যা¤প নেই, তাদের প্রবেশগম্যতা নির্মাণের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। প্রবেশগম্য টয়লেট সে এক স্বপ্নের নাম! অথচ খুবই স্বল্প খরচে একটি পুরনো ভবনে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব। প্রয়োজন স্বদিচ্ছার।

 

সেই স্বদিচ্ছা কেন নেই কর্তৃপক্ষের, অফিসের পরিচালককে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি জানেন না বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যান।