বাড়ি12th Issue, September 2015রেলওয়ের প্রথম শ্রেণির টিকিটে কোটা নেই

রেলওয়ের প্রথম শ্রেণির টিকিটে কোটা নেই

 

অপরাজেয় ডেস্ক 

 

বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রথম শ্রেণি ও এসিযুক্ত বগির টিকিটে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কোটা বরাদ্দ রাখা হয় নি। শুধুমাত্র দ্বিতীয় শ্রেণির নন এসি বগির টিকিট ক্রয় করতে পারেন প্রতিবন্ধী মানুষেরা।

 

এই টিকিট ক্রয় করতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আলাদা কাউন্টারে যেতে হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধী কোটায় ২০টি করে সিট বরাদ্দ থাকে যা ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘন্টা আগে বিশেষ এই টিকিট কাউন্টার থেকে ক্রয়ের জন্য খুলে দেয়া হয়।

প্রথম শ্রেণি এসি চেয়ার, বিশেষত কেবিনের ক্ষেত্রে এসি নন এসি কোনটিতেই প্রথম শ্রেণির টিকিটে কোটা নেই। এদিকে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের টিকিটে একেবারেই নেই এ ব্যবস্থা। তবে প্রতিবন্ধী কোটায় রেলওয়েতে চাকরির আবেদন করতে পারেন প্রতিবন্ধী মানুষেরা। সেক্ষেত্রে ১০% কোটা বরাদ্দ রাখা আছে। অনেকে চাকরি করছেনও।

 

দেশের প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী অ্যাডভোকেট নুরুজ্জাহানের অভিযোগের সুরে অপরাজেয়কে বলেন, যারা শিক্ষিত এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত প্রথম শ্রেণির নাগরিক তারা কেন প্রতিবন্ধী প্রথম শ্রেণির টিকিটে কোটা পাবেন না। প্রতিবন্ধী মানুষের অবস্থান করুণার নজরেই দেখা হবে কেন সব সময়! বিশেষত নারী প্রতিবন্ধীরা যখন একা চলাচল করেন দূরের যাত্রায় তাদের নিরাপত্তা চিন্তা করে সুবর্ণ এক্সপ্রেস বা অন্যান্য ট্রেনের প্রথম শ্রেণির চেয়ার বা কেবিন ইত্যাদিতে টিকিট ক্রয়ের চিন্তা করেন। কোটা ক্ষেত্রে বৈষম্য বন্ধের দাবী জানান তিনি।

প্রিমিরার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ইংলিশের ছাত্র সেরিব্রাল পলসি এর সম্মুখীন আজিজুর রহমান নাবিল বলেন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হিসেবে ভ্রমণে সবারই প্রথম পছন্দ থাকে ট্রেন। প্রতিবন্ধী মানুষেরও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য প্রথম শ্রেণিতে যাত্রার প্রয়োজন হতে পারে। অধিকারও রয়েছে তাদের। তাই বিষয়টিকে অবহেলার দৃষ্টিতেই ফেলা দুঃখজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারি প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (আর এন্ড এম) স্নেহাশীশ দাশগুপ্ত অপরাজেয়কে জানান রেলওয়ের কাছে প্রতিবন্ধিতার আলাদা কোন সংজ্ঞা নেই। যাদের দেখে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা বোঝা যায় তারা নিজ উপস্থিতিতে, আর যাদের দেখে প্রতিবন্ধিতা বোঝা যায় না তারা সনদ দেখিয়ে টিকিট করতে পারেন। মাঝে মাঝে অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রতিবন্ধী মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে প্রতারণার আশ্রয় নেন। সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনকানুন আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন এমন ঘটনা খুব কম ঘটে যে কারণে সুনির্দিষ্ট কোন আইন এখনও নেই। যেহেতু বাংলাদেশ রেলওয়েকে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হয়। বর্তমান যে নিয়মনীতি আছে তা হয়তো আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানের জন্য যথেষ্ট নয় তবে এর মধ্যেই তারা প্রতিবন্ধী মানুষের ভ্রমণে সুযোগ সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করে থাকেন।

 

তিনি আরও বলেন, একজন প্রতিবন্ধী মানুষ যদি কোনো কারণে টিকিট কাটতে না পারেন, তাহলে টিকিট চেকার তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়ার হুমকি দিতে পারবেন না। এক্ষেত্রে যাত্রী ফাইন সহ তৎক্ষণাৎ টিকিট করে নিতে পারেন। তবে তার জন্যে সিটের বরাদ্দ সম্ভবপর না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর কোন চেকার যদি এরূপ আচরণ করে থাকেন তবে ষ্টেশন মাষ্টার দফতরে অভিযোগ উত্থাপন করলে সে অনুযায়ী রেলওয়ে জি.এম কর্তৃক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষত হুইলচেয়ার ব্যবহারকারি মানুষের জন্যে টয়লেট ব্যবস্থা নেই। তবে বর্তমানে ঢাকা চট্টগ্রাম রুটে ব্রডগেজ ট্রেন চলে না যা সাধারণত উত্তরাঞ্চলের দিকে চলে। ব্রডগেজ ট্রেনগুলোতে টয়লেটগুলো সাধারণত বড় হয়ে থাকে যা হয়তো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহায়ক হতে পারে। ঢাকা চট্টগ্রাম এই রুটে এই টয়লেট ব্যবস্থা নেই এবং এখন পর্যন্ত এ ধরণের কোন চিন্তা ভাবনার কথা তার জানা নেই বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ

বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ সংকট; নানামুখী সমস্যায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

অপরাজেয় প্রতিবেদক পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সঠিক রঙের ব্যবহার, সহায়ক উপকরণ, ইন্ডিকেটর বা সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সহায়ক সফটওয়্যার ও অডিও বইয়ের অভাবসহ নানামুখী সমস্যার কারণে সাধারণ...

মাসিক আর্কাইভ

Translate | অনুবাদ