বাড়ি13th issue, December 2015আমলাতান্ত্রিক অসহযোগিতায় স্থায়িত্ব সংকটের সম্ভাবনা সেবাকেন্দ্রের

আমলাতান্ত্রিক অসহযোগিতায় স্থায়িত্ব সংকটের সম্ভাবনা সেবাকেন্দ্রের

 

প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক

 

চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসরীন আরা সুরাত আমিন (অতিরিক্ত সচিব) একান্ত সাক্ষাৎকারে অপরাজেয় এর মুখোমুখি হয়েছিলেন। আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরেন প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে তার ভাবনা, ভবিষৎ কর্মপন্থার পাশাপাশি ফাউন্ডেশনের নানা কার্যক্রম।

 

অপরাজেয় প্রতিবেদক 

 

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রকল্পের অর্থায়ন সংক্রান্ত নানা জটিলতা চলছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে। মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ত্রৈমাসিক হারে অর্থ ছাড় করার কথা থাকলেও নিয়মিত না ছাড়ার কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে, এ অভিযোগ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নাসরীন আরা সুরাত আমিনের।

ঈদের পরবর্তী সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয় দেরীতে অর্থ ছাড় করার কারণে ফাউন্ডেশন নানা সমস্যায় পড়েছিলো ফাউন্ডেশন। তাই সরকারের বিশেষত অর্থ বিভাগের সহায়তা একান্তভাবে জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি প্রকল্প। এই মূহুর্তে ১০৩টি কেন্দ্রের ৫৩টি অর্থমন্ত্রণালয় পরিচালিত এবং বাকি ৫০টি ফাউন্ডেশনের এই প্রকল্পের অর্থায়নে চলছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরও বেশ কিছু নতুন কেন্দ্র শুরু করতে বলেছেন। এদিকে এই প্রকল্পের ৩৭ কোটির মধ্যে প্রায় ১৬ কোটি টাকার কিছু বেশি ইতোমধ্যে খরচ হয়ে গিয়েছে। অপরদিকে এই প্রকল্পের অর্থ আগামী ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। যদি এপ্রিল নাগাদ এই প্রকল্পকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের রেভেনিউ বা রাজস্ব কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা না যায় তাহলে কেন্দ্রগুলোর স্থায়িত্ব সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ৫০টি কেন্দ্রের ৪৮০ জন কর্মচারীর ভবিষৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন তিনি।’

 

এদিকে এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত সহায়ক উপকরণ অত্যন্ত নিম্নানের হওয়ার কারণে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, প্রতিবন্ধী মানুষদের এমন অভিযোগও স্বীকার করেন তিনি। পিপিআর – পাবলিক প্রকিওরমেন্ট রুলস প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সরকারের নিয়ম অনুসারে সর্বনিম্ন মূল্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকেই টেন্ডার দিতে হয়। কিন্তু টেন্ডার অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল্যে ক্রয়কৃত চেয়ারগুলো অল্পদিনেই নষ্ট হয়ে যায়। যার কারণে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে সরকারকে। ভালো উপকরণ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, এ জন্য আমি খুবই ব্যথিত। কিন্তু সরকারি নিয়ম আমাকে মানতেই হবে।’

এ পর্যায়ে তিনি খানিকটা ঠাট্টা করেই বলেন, ‘সরকারি আইনের নীতি বা প্রকিউরমেন্ট রুল সমাদৃত ও নন্দিত। এর পরিবর্তন করার দুঃসাহস আমার মত ক্ষুদ্র কর্মকর্তার নেই।

 

প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে সরকারের ভাবনা সম্পর্কে নাসরীন আরা সুরাত আমিন বলেন, সিআরপিডি অনুসমর্থনকারি রাষ্ট্র হিসেবে তাদের ক্ষমতায়ন সম্পর্কে সরকারি কর্মকর্তাদের যেমন জানা দরকার তেমনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনগুলোকেও জানাতে হবে তাদের চাহিদা। যদি সরকার এবং সরকারি পর্ষদের সমর্থন পাওয়া যায় আমরাও সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবো। তিনি জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিষয়ক ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে সিআরপিডি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। তাদের দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মকান্ডের সঠিক বাস্তবায়নে তদারকি করা।

 

এক্ষেত্রে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাকে গাইডলাইন বা নিদের্শনা প্রদানে ফাউন্ডেশনের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ই কাজ করবে যেহেতু তারা ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ দিয়েছেন। সে সময়ে ইনচিওন স্ট্র্যাটিজির বইটি তাদের দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়োগকৃত কর্মকর্তারা বারেবারে বদলি হয়ে যাওয়ার কারণে দায়িত্বটি একজন বুঝতে বুঝতেই বদলি হয়ে যান ও আরেকজন নতুন কর্মকর্তা নতুনভাবে কাজ শুরু করেন। কিছু নির্দেশনা থাকলেও আমরা অনেকে আসলে নির্দেশনা অনুসরণ করতে চাই না। সিটি মেয়রদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনগুলোর সাক্ষাত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

 

ফাউন্ডেশনের অনুদান প্রক্রিয়া: গত বছর বিভিন্ন সংগঠনকে ২ কোটি ১২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছি আমরা। চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা দেয়া সম্ভব। এ পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তৃণমূলের ডিপিওগুলো তুলনামূলক কম আবেদন করে বলেই তারা খানিকটা বঞ্চিত। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আমাদের আরও কাজ করতে হবে। তবে ফাউন্ডেশন কখনোই এনজিও এবং ডিপিওদের মধ্যে পার্থক্য করতে চায় না। আগামী অনুদান প্রক্রিয়াতে ডিপিওগুলোকেই বেশি প্রাধান্য দেবার আশ্বাস দেন তিনি। তবে তাদেরও আমাদের কাছে আসতে হবে, বলেন তিনি।

 

 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর উদ্বোধন: স্বতন্ত্র অধিদফতর প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং তারা আরও বেশি স্বীকৃতি পাবে বলে মনে করেন নাসরীন আরা সুরাত আমিন।

তবে উদ্বোধনের পরেও এর কার্যক্রম শুরু না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফাউন্ডেশন সরকারি অধিদফতরে পরিণত হলে সীড মানি পাওয়া যাবে না। পুরোপুরি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চলতে হবে। এখন যেমন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউনিসেফ এর সাহায্যে নেয়া যায়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেকোন প্রকল্প গ্রহণ করা যায়। দাতা সংস্থার সাথে সরাসরি যোগাযোগেও কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু অধিদফতর হলে এক্ষেত্রে সচিবের মাধ্যমে আমাদের কথা বলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আর্থিক সহায়তাগুলো মন্ত্রী পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে আনতে হবে। তবে সেবা সাহায্য  কেন্দ্রগুলোর প্রধান কার্যালয়কে অধিদফতর করে নতুন প্রকল্প, আর্থিক সহযোগিতা বা অনুদানের বিষয়টি জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশেনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। কিছু জটিলতা তৈরি হলেও অধিদফতর হলে প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নতি তরান্বিত হবে।’

 

 

প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র: সারাদেশে ১০৩টি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে এই মূহুর্তে কনসাল্টেন্ট, ফিজিওথেরাপিস্টরা প্রতিবন্ধিতার ধরণ নির্ণয় করছেন। তাছাড়া সনাক্তকরণ জরিপের সম্পূর্ণ কার্যক্রম শেষ হলে ধরণ অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা নির্ণয় এবং পরিকল্পনা করা সম্ভব। তবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষেরা মনে করেন সনাক্ত হবার পরে আর কোন সেবা নেয়ার তেমন সুযোগ নাই, তাই তারা আসেন না। তাছাড়া কেন্দ্রের ৩২টি মোবাইল সার্ভিস ভ্যান এর মধ্যে ২০টি এসে গেছে আরও ১২টি আসবে।

কেন্দ্রের অধিকারভিত্তিক সেবা প্রসঙ্গে ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সরকারের স্বদিচ্ছা থাকলে সময়ের তাগিদে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হতে পারে সেবাকেন্দ্র। তবে এ মূহুর্তে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই সব কিছু হয়। তিনি বলেন, ভাতা বা অন্যান্য অধিকারভিত্তিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রগুলো সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করতে পারে। সরকার আমাদের মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দিতে চাইলে এটা আলোচনার বিষয়।

আপাতত এখানে শুধুমাত্র থেরাপি সেবার পাশাপাশি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষদের সাদা ছড়ি, শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষদের হুইলচেয়ার, ট্রাই সাইকেল এবং শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষদের হিয়ারিং এইড দেয়া হয়। অপর্যাপ্ত লোকবল প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা এবং ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসকগণও সকলের সেবা নিশ্চিত করতে পারছেন না। ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে আরও একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারি নিয়োগ করতে হবে যার জন্য আমাদের জনবল দরকার। কেন্দ্রগুলোর বিভাগীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোর মাত্র একটিতে একজন প্রতিবন্ধী কর্মকর্তা রয়েছে বলে তিনি জানালেন।

এ সময় তিনি কেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন জেলার বিভাগীয় কমিটিতে প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা থাকার বিষয়ে গুরত্বারোপ করেন। জাতীয় কমিটিতে প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা রয়েছে, কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তারাই আছেন। কিছু কর্মকর্তা নিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে তবে মাঠে যে গাড়িগুলো যাবে, তা কোথায় যাচ্ছে, কিভাবে যাচ্ছে, কোথায় আছে সবকিছু ভালভাবে  মনিটরিং করতে একটা বিশাল জনবল দরকার। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ৬৪টি জেলা এবং ৩৯টি উপজেলাতে এই কেন্দ্র রয়েছে।

 

 

প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রম: অটিস্টিক শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে তাদের এবং অভিভাবকদেরকে সংগঠিত করতে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও ফাউন্ডেশনের বাংলা ইশারা ভাষায় নিয়মিত কোন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেই জানালেন নাসরীন আরা সুরাত আমিন। পর্যাপ্ত অডিওলজিস্টের অভাবে সেবাকেন্দ্রগুলোতে তাদের দেয়া অডিওমিটারগুলোর ব্যবহার হচ্ছে না। এজন্য ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণের উদ্যোগ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ইশারা ভাষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজসেবা অধিদফতরের বিভিন্ন স্কুলে এই প্রশিক্ষণ দিলেও ঢাকার বাইরে এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ দেয় নি। তবে ভবিষতে দেশব্যাপি এ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেবেন তারা। দোভাষী এবং প্রশিক্ষকগণের অনেকেই ইশারা ভাষা ভালো বোঝেন না অধিকাংশ অভিভাবকের এহেন অভিযোগের সাথে তিনি কিছুটা দ্বিমত পোষণ করে বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রশিক্ষকদের ইশারায় কথা বলার মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। একই শব্দের জন্য একেকজন একেক রকমের ইশারা ভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু বাংলা ইশারা ভাষার অর্থ সর্বত্র একই হওয়া উচিত।

অটিস্টিক ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার তেমন কোন উদ্যোগ নেই ফাউন্ডেশনের জানালেন নাসরীন আরা সুরাত আমিন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘শুধুমাত্র দৈনন্দিন কার্যক্রম শেখানোর জন্য রাজধানীতে ৪টি অটিস্টিক কর্ণার খোলা হয়েছে। প্রত্যেকটি জেলাতেও রয়েছে কিছু কেন্দ্র। ১০ জন শিশু নিয়ে ৬টি বিভাগে প্রতিবন্ধী স্কুল রয়েছে। একজন শিক্ষক ও দুইজন কেয়ারটেকার তাদের দৈনিক কাজগুলো শেখান। অর্থায়নের অভাবে খুবই সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত সরকারী সহযোগিতা পাওয়া গেলে এই কেন্দ্রগুলোর সাথে একটি করে শ্রেণীকক্ষ ও এনডিডি কর্ণার তৈরি হবে। যেখানে শিশুদের জন্য ফিজিওথেরাপি, পড়াশুনা, গান শেখা, ছবি আঁকা ইত্যাদি নানা উদ্যোগ আরও বড় আকারে চালু করা হবে।’

 

নাসরীন আরা সুরাত আমিন মস্তিষ্ক পক্ষাঘাত প্রতিবন্ধী মানুষের (সিপি) প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে না পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা উদ্যোগের অভাবে। ফাউন্ডেশন অটিস্টিক শিশুদের সাথে তাদের প্রশিক্ষণ দেয় তবে সীমাবদ্ধতা অনেক। বিশেষত আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং জনবলের অভাব।

তিনি আরও বলেন, প্রাপ্ত বয়স্কদের কারিগরি প্রশিক্ষণ বিষয়ে কোন পরিকল্পনা আপাতত নেই। একই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালে ৩৫ কোটি টাকা সীড মানি দেয়া হয়। যার ২০% বেতন-ভাতা এবং বাকি ৮০% অনুদানসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে। এবছর বোর্ড মিটিং ১০০ কোটি টাকায় উন্নতি করার জন্যে জোর দেয়া হয়েছে। তবে সরকার শুধুমাত্র সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য আমাদের কিছু কর্মসূচি দিয়েছে।’

ফাউন্ডেশনের আরও বিভিন্ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানা যায়, সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনে অটিস্টিক শিশু, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্কুল রয়েছে । হোস্টেলগুলোতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং অটিস্টিক শিশুরা থাকে। প্রতিবন্ধী শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে একটি কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে। নারী ও পুরুষের আলাদা দুটি কর্মজীবি হোস্টেল রয়েছে। চলতি বছরের ২০মে পৃষ্ঠপোষক মন্ডলীর সভায় প্রধানমন্ত্রী বিভাগীয় পর্যায়ে হোস্টেলগুলোর সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক প্রতিবন্ধী কর্মজীবিদের তালিকা তৈরি করে হোস্টেল নির্মাণ করবো আমরা। তবে এ মূহুর্তে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে মাত্র ৪/৫টা বিছানা বাড়ানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বললেন, পুরনো ভবনের ভিত্তি প্রস্তরের কাগজপত্র না থাকার কারণে ৩য় বা ৪র্থ তলায় হোস্টেলের ঘর বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কাগজপত্র উদ্ধারের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

 

এছাড়া ফাউন্ডেশন জব কর্ণার বা কর্ম সংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবন্ধী মানুষের বায়োডাটা সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। স্বল্প সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষে সম্ভব নয়।

 

সর্বশেষ

বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ সংকট; নানামুখী সমস্যায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

অপরাজেয় প্রতিবেদক পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সঠিক রঙের ব্যবহার, সহায়ক উপকরণ, ইন্ডিকেটর বা সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সহায়ক সফটওয়্যার ও অডিও বইয়ের অভাবসহ নানামুখী সমস্যার কারণে সাধারণ...

মাসিক আর্কাইভ

Translate | অনুবাদ