জাগরণ

43

 

আনোয়ার হোসেন খান

 

কোনো রূপ পূর্ব ঘোষণার ধার না ধরে সেই একই চিরায়ত ধারায় বসন্ত এসে উপস্থিত হয়েছে প্রকৃতির জীবনে। সবকিছু জেগে উঠছে নব বসন্ত সাজ আর নবরূপে। গাছের পাতাগুলো, একসময় যেগুলো ছিল প্রাণবন্ত সবুজ, এখন তা হলুদ বিবর্ণ রূপ ধরে চিরবিদায়ের শোকসঙ্গীত শোনাচ্ছে আর বিদায় ব্যথায় আচ্ছন্ন না থেকে হাসছে প্রাণ খুলে। কচি পাতাগুলো যে জেগে উঠবে তাদের জায়গায়!

 

বসন্তের আকাশ আশ্চর্য রকমের নীল। সেখানে থেকে থেকে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘপুঞ্জের রূপালী রেখাগুলো। চারপাশের সবকিছু স্ব স্ব ক্ষেত্রে বসন্তের সঙ্গে একটি অদৃশ্য সামঞ্জস্য বজায় রেখেছে।

 

আঁখি হুইলচেয়ারটি গড়িয়ে এনে জানালার কাছে থামল। জানালা পথে চোখ দুটো মেলে ধরল বাইরে বসন্তের নবজাগরণের অনন্ত সৌন্দর্যের কোলে। ওই তো আকাশটা চির মুক্ত স্বাধীন আর কী আশ্চর্য রকমের নীল। গাছের কচি পাতাগুলো বসন্তের মায়াবী সূর্যালোকে চিকচিক করছে। বাইরের পুরো জগৎটা মোহময় রৌদ্রোজ্জ্বলে ঝলমল করছে। ওখানে কী আছে? স্বাধীন জীবন? ভাবল আঁখি। হঠাৎ একটা দুর্বোধ্য প্রশ্ন তাকে তাড়িত করল। বহু পুরোনো আর অসংখ্য প্রশ্নের সামষ্টিকতায় একক রূপ ধরে তাকে ব্যতিব্যস্ত করছে বহুদিন ধরে।

একসময় একটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে স্বগতোক্তি করল সে, ‘আচ্ছা কী?… আমি কী করতে পারি?’ এ স্বগতোক্তি তার হৃদয়ের গভীর থেকে বেরিয়ে এসেছে শান্ত আর গভীর গুরুত্বরূপে। বহুদিন এমনটা হয়নি।

 

সেই অসংখ্যের সামষ্টিক রূপক প্রশ্নটি এবার অসংখ্য প্রশ্নকেও জাগিয়ে তুলল। যা এত দিন উত্তরের প্রতীক্ষায় থেকে থেকে ম্রিয়মাণ আর নির্লিপ্ত হয়ে ছিল। প্রশ্নগুলো একটি ভয়ংকর ঝড়ের রূপ নিল। সম্মিলিতভাবে আঘাত করল। তারা উত্তর চায় আঁখির কাছে। আঁখির ঠোঁট দুটো কাঁপছে, চোখ দুটো পিটপিট করছে দুর্বোধ্য ভাবনায়। একসময় ঠোঁট দুটো পরস্পর চাপা পড়ল আর চোখ দুটো দিয়ে উজ্জ্বল জ্যোতি বিচ্ছুরিত হতে লাগল যেন। হঠাৎ যন্ত্রচালিতের মতো হুইলচেয়ারটি নিয়ে খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে পড়ল সে। তাকে কেউ দেখতে পায়নি।

বসন্তের মধ্য দুপুর। শান্ত নিস্তরঙ্গ। থেকে থেকে গাছের কচি পাতাগুলো কেঁপে উঠছে। সেগুলোও যেন সতর্ক, সচকিত। এ মুহূর্তে আঁখির মনোলোকে যা ঘটে চলেছে, তা তার নিজের কাছেই অজ্ঞাত। তবে সে শুধু এটুকুই বুঝতে পারছে, সেটা এক নতুনতর কিছু। প্রীতিপদ ভাবের আবেশ যার অগ্রমুখে মুক্তির প্রেরণাশক্তি। তা-ই যেন তাকে চালিত করছে। যে শক্তি সে ব্যয় করছে হুইলচেয়ারটি গড়িয়ে নিতে, সেটা যেন হাতের জোরে নয়, মনেরও হয়তো নয়, সেটা আবছা অজ্ঞাত অথচ দৃশ্যমান আর সেটা মনের সঙ্গে যেন শুধু সৌজন্য রক্ষার খাতিরে আংশিক যোগসূত্র স্থাপন করে আছে।

 

মূল পাকা সড়কে উঠতে এখনো বেশ কিছুটা পথ বাকি। ‘আরো দ্রুত কেন নয়, আরো… আরো দ্রুত আসুক’ এমনি একটি তাড়া ধেয়ে আসছে তার ভেতর থেকে। শক্তি জোগাচ্ছে, যা সে ভাবতেই পারে না, তার মধ্যে এমন কিছু ছিল বা আছে। সেই সঙ্গে ভয়, পেছন থেকে বাতাস বিদীর্ণ করে এসে পড়বে একটি চিৎকার তার নাম ধরে। হায়!

সেটা তো সাক্ষাৎ বন্দিত্ব। ‘তা না হোক, না হোক।’ অস্ফুটে বলে উঠল আঁখি। অবচেতনে।

 

ধূসর সাদা মেঠো পথ ধরে চলতে হঠাৎ একটি শব্দ হলো। হুইলচেয়ারের চাকায় পিষ্ট হয়ে একটি শুকনো কাঠি ভাঙার শব্দ। তার ফাঁপা আর জোরালো আওয়াজ বসন্ত বাতাসে পরিবর্তিত হয়ে আঁখির কানে এসে পৌঁছল। তখনই একটি দুর্বার বাসনা আর শক্তির সম্মিলিত ঝোড়ো ঝাপটা তাকে আচ্ছন্ন করল। ‘ভেঙ্গেছে, সত্যি? হ্যাঁ, এই তো শব্দ হলো ভাঙ্গার। ভাঙ্গার প্রয়োজন আছে,… নিশ্চিতভাবে,… শুধুমাত্র একটি প্রয়োজন; সেটা শুরুর…, ভেঙ্গেই শুরু করতে হবে নতুন করে, ভাঙ্গার মধ্য দিয়ে গড়ার, জাগবার…।’ আরও কেন ভাঙছে না? মনে হলো তার। ক্ষণিক পর আবারও একটি কাঠি ভাঙার শব্দ হলো। আবারও সে শিউরে উঠল। তবে সেটা প্রথমবারের মতো আকস্মিক আর জোরালো নয়। এটা দিয়েছে স্থিতি, আশা, আর মুক্তির প্রীতিপদ পরশ, যা অবধারিত, অথচ মিনিট কয়েক আগেই যেটা ছিল তার সমস্ত বিশ্বাস আর চিন্তার অতীত।

 

মূল সড়কে উঠে এলো আঁখি। এবার তার স্বজনদের কেউ তাকে দেখতে পাবে না, যারা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। পাকা মূল রাস্তায় চলেছে অসংখ্য যান আর অগুনতি মানুষ। কী চিত্র-বিচিত্র তাদের ভাব-ভঙ্গিমা। এখানেই তো জীবন পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত হয়ে আছে। তার মধ্যে সবাই আশ্রিত হয়ে অবগাহন করছে নির্লিপ্ত আর গুরুত্বহীন উপলব্ধি করে তাই ভেবে আঁখির দুঃখ লাগছে। তারা সবাই জীবন পথের পূর্ণতার মধ্যে থেকেও তার রূপ, স্বাদ জানে না বা বোঝে না। অসংখ্য মানুষের ভেতর দিয়ে চলতে আঁখির মনে হচ্ছে, সারাটি জীবন এমনিভাবে এ রাজপথে, অসংখ্য জনতার ভিড়ে কেটে গেলে তার আর কিছুই চাওয়ার নেই।

সবাই তাকে দেখছে, যা স্পষ্ট বুঝতে পারছে আঁখি।

 

সবার দৃষ্টিতে ঝরে পড়ছে কি তারই মতো নতুনতর কিছু? ‘হ্যাঁ, এই তো তাকে সবাই সম্ভাষিত করছে তাদের মাঝে’ মনে হলো আঁখির।

এই তো প্রত্যাশিত। এর প্রয়োজন আছে। ‘যে দুনিয়াটা আমি দেখছি দীর্ঘ পাঁচ বছর পর, আমাকেও দেখছে। পরস্পরের প্রয়োজন আছে জীবনের যৌগিক আর মৌলিক প্রশ্নটির পরিপূরণীয়তার জন্য’ ভাবল আঁখি।

আঁখির প্রত্যাশিত গন্তব্যে পৌঁছতে আরও কিছুটা পথ বাকি। ক্রম ধাবমান চঞ্চল জনতা, তাদের অসংখ্য প্রয়োজন, উপযোগ বিস্ময় আর আনন্দে লক্ষ করে করে সে এসে পড়ল তার প্রত্যাশিত গন্তব্য নদীর ওপরে সেতুতে।

স্বচ্ছ স্ফটিকোজ্জ্বল নীল জলরাশি বাসন্তী মধুরতায় শান্তভাবে বয়ে চলেছে। দূরে নদীর তীরে ঘন সবুজের কোলে আশ্রয় নিয়েছে ধূসর কুয়াশারা। বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত নদীর আঁকাবাঁকা তরুছায়া। সেই চির অলস ধীর অথচ সুখীভাবে বয়ে চলেছে ডিঙি নৌকা, কখনো স্টিমার। উন্মুক্ত আকাশ অনন্ত নীলিমা পরিব্যাপ্ত করে আছে চারদিক; নদীর জলের মতোই শান্ত নিস্তরঙ্গ আর মায়াময়।

 

চোখের জলের ভেতর দিয়ে প্রকৃতির পূর্ণ জাগরণের মধ্য দিয়ে জীবনকে পূর্ণরূপে চিনবার, জানবার আর মুক্তির যে আনন্দের অনুভূতি তাকে আচ্ছন্ন করছে তার রহস্যময় গভীরতার মধ্যেই আঁখি হারিয়ে গেছে। স্মৃতির আকুলতায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে তার মন। পাঁচ বছর,… পাঁচ বছর কেটে গেছে? এই তো সবকিছু আগের মতোই আছে নদী, তার স্বচ্ছ জল, তরুছায়া, ওপাড়ের আলোছায়ায় ঘেরা শান্ত জীবন। সেতুটা আগের মতোই আছে; তবে কিছুটা ক্ষয়ে গেছে।

‘আমার কথা তারা বিস্মৃত হয়েছে,? আমার স্মৃতি, আমার সত্ত্বা, অনুভূতির ভাগিদার যা ছিল এক সময়। আর আমার পদচিহ্ন?’ যার কোনো উত্তর নেই। হয়তো ওরা তাকে ভোলেনি।

নদীর বহু উত্তরে, যেখানে বাঁক নিয়েছে পশ্চিমে, সেখানে ইটভাটার সুউচ্চ কালো চিমনিটা আগের মতোই ধোঁয়া উদ্গিরণ করছে। একসময় আঁখি নদী, সেতু, পরিপার্শ্বের সৌন্দর্য উপভোগ করত স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে। তখন ইটভাটার কালো চিমনিটা তার মনে হতো কুৎসিত, যা চারপাশের সৌন্দর্যকে গৌণ করে দিচ্ছে। কিন্তু আজ সেদিনের সেই ভ্রান্তিপ্রদ মনোভাবের জন্য সে লজ্জিত, দুঃখিত।

 

এ মুহূর্তে চিমনিটাকে তার মনে হচ্ছে মুক্তি আর স্বাধীনতার এক মূর্ত প্রতীক। যে ধোঁয়ার কুন্ডলীগুলো চিমনির অন্ধকার গহ্বর থেকে বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত আকাশে মেঘের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, সেগুলোকে তার মনে হচ্ছে একেকটি জীবন্ত বন্দি মানুষ। যারা বন্দিদশা থেকে মুক্তির আনন্দে উদ্বেল হয়ে মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। চিমনিমুখ থেকে যতই উপরে উঠছে, ততই তারা সংকীর্ণ বেষ্টনী থেকে মুক্ত হচ্ছে এবং আকৃতিতে বড় হচ্ছে। হাত-পা ছড়াচ্ছে আর পূর্ণ রূপ লাভ করে আকাশের অসীমতায় ভেসে যাচ্ছে, লাভ করছে স্বাধীনতা।

আঁখির মনোলোকে যে ঝড় বইছে, সেখানে কয়েকটি শব্দই শুধু প্রবল জলোচ্ছ্বাসে আছড়ে পড়ছে তার হৃদয় উপকূলে; বন্দিত্ব, মুক্তি, জীবন (জীবনের প্রতি) ভালোবাসা আর প্রয়োজন।

 

‘হ্যাঁ, প্রয়োজন আছে। কিন্তু বন্দীত্ব, মুক্তি, জীবন, ভালোবাসা একসাথে সহাবস্থান করতে পারে কি? কিভাবে?” ‘তা হতে পারে শুধুমাত্র বন্দীত্ব শব্দটা অস্বীকার করে, বাতিল করে অন্য তিনটি গ্রহণ করে যথা: মুক্তি, জীবন ও ভালোবাসা। কিন্তু এতোদিন তো জীবনের মধ্যেই ছিলাম, তখন মুক্তি, ভালোবাসা আর জীবনের প্রয়োজন কোন তপোবনে ছিল?’ সেই অসংখ্য সামষ্টিক প্রশ্নের রূপকটি তীব্র ব্যঙ্গ আর বিদ্রƒপাত্মক ভূমিকা নিয়ে এ প্রশ্নটি ছুড়ে দিল।

‘এতোদিন বন্দী ছিলাম বলেই এগুলো পাই নি আর এখন মুক্তির মধ্যে এসে ধরা দিচ্ছে হৃদয় অনুভূতে’ ভাবল আঁখি।

পরিবার সমাজ শুধু একটি সংকীর্ণমনা সিদ্ধান্ত; যা না বুঝেই, পুরোপুরিভাবে বিচার না করেই চাপিয়ে দিতে পারে কেমন করে? ওদের কাছে এটা সহজ। তাদের চালিত করে হেঁয়ালি, আর নিরাসক্ত নির্বিকারতা। অথচ পুঙ্খানুপূর্ণ বিচারে তা কত ভয়ংকর। এখন এই মুক্ত পরিবেশে এসে আঁখি এসব বুঝতে পারছে। সেই সঙ্গে তার দুঃখটাও বেড়ে গেছে যেকোনো সময়ের থেকে অনেক বেশি। নিজের প্রতি একটা ব্যাকুল দুঃখ আর মমত্ববোধ জাগছে।

 

সেতু দিয়ে যে মানুষগুলো চলাচল করছে, হঠাৎ তাদের লক্ষ করল আঁখি। সবাই তাকে দেখছে অবাক আর বিস্ময়ের চোখে। আঁখি স্পষ্ট বুঝতে পারছে, এখানে তার উপস্থিতিটা সবার কাছে বিসদৃশ আর অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঠেকছে। সহসাই একটি চকিত বেদনাদায়ক স্মৃতিতে তার মন ভারাক্রান্ত হয়ে এলো। যে স্মৃতিটা এতক্ষণ ছিল সুখ আর গর্বের। পাকা রাস্তা ধরে আসার পথে যে সম্ভাষণের দৃষ্টি উপহার পেয়েছিল সবার কাছ থেকে, তা ছিল আকস্মিক আনন্দের উৎসারিত ভ্রান্তিপ্রদ কল্পনা। সেটা সম্ভাষণ ছিল না; ছিল অবাক আর বিস্ময়ের সঙ্গে বিসদৃশ আর অসামঞ্জস্য, এখনকার মতোই।

আবারও একটি যন্ত্রণাদায়ক প্রশ্ন তাকে তাড়িত করল, চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর এ মুক্ত প্রান্তরে এসে কি সে অনধিকার চর্চা করছে? বা অনধিকার প্রবেশ? এ প্রশ্নটার কোনো যুক্তিতর্কে না গিয়েই তীব্র ক্ষোভে সে স্বগতোক্তি করল অবচেতনে ‘যতো সব কাঁদা খোঁচার দল’। এবং পরক্ষণেই তার মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিল। দুঃখ প্রকাশ করল আর সবার প্রতি সবকিছুর প্রতি একটা শান্ত মমতায় ভরে এলো তার মন।

 

‘ওরা তো জানে না তার কাছে জীবনের কী অর্থ। আর পৃথিবীর এই মুক্ত প্রান্তরে তার অনুপস্থিতিই তাদের এমনটা ভাবতে প্ররোচিত করেছে। এবং তার সরব উপস্থিতিই পারবে তাদের ভ্রান্তিপ্রদ মনোভাব দূর করতে। তার মানে তাকে আরও নিয়মিত এখানে আসতে হবে।

এবার একটা ভয়ের প্রশ্নের মুখোমুখি হলো আঁখি। সূর্য অস্ত যাচ্ছে। বসন্ত দিনের একটি বড় অংশ পার করেছে সে এখানে মুক্তির মাঝে। বাড়িতে নিশ্চয়ই এতক্ষণে হুলুস্থুল পড়ে গেছে। আর সে বাড়িতে পৌঁছামাত্রই কী ঘটবে তা তার চিন্তার অগোচরে।

 

ক্রমশ সেতুটা থেকে সে পিছিয়ে আসছে। একদিকের সুখের আস্বাদন, অন্যদিকে দুঃখভারাক্রান্ত মনের যুগপৎ অনুভূতি বোধ করছে। সেতুর দিকে আবার ফিরে, সবকিছু লক্ষ করে সে বলল, ‘আবার আসব।’ ‘তাই হোক’ এ প্রত্যুত্তর যেন সে পেল। সূর্যটা ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে রূপালী আর রক্তিম মেঘের কোলে, সেই সঙ্গে একটি কালো মেঘের রেখা সূর্যটাকে আড়াল করছে। সেটা কিসের নিদর্শন বহন করছে?