প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে

44

ইফতেখার মাহমুদ

দেশকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব করে গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামোগত বাধা এবং উপযোগী যাতায়াতব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অনেক কিছু করার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদের আলোকে প্রণীত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’, ‘জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০১৫’ এবং ‘তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা, ২০০৯’ আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।

 

প্রতিবন্ধী মানুষ মানব বৈচিত্র্যের অংশ। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রের অবকাঠামো ও উপরিকাঠামোগত বাধার কারণে আমরা সব ক্ষেত্রে সমতার ভিত্তিতে পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড রুলস্-এর ২২ বছর পর এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদের বাস্তবায়ন শুরুর আট বছর পার হয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে প্রবেশগম্যতা বড় বাধা আজও।

সর্বজনীন প্রবেশগম্যতার দর্শন বলে, সব পরিষেবা সব মানুষের জন্য সমতার ভিত্তিতে প্রবেশগম্য হতে হবে। নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধিতার প্রতি আলোকপাত না করে সর্বজনীন নকশা, বয়স, চলন, দৃষ্টি, শ্রবণ, বাক অথবা মনোসামাজিক; বিশেষ করে পরিস্থিতির ভিন্নতার বিচারে সবার জন্য নির্বিশেষে কার্যকর একটি ব্যবস্থা; যা মানুষের জীবনজুড়ে প্রভাব রাখে কিংবা বলা যায়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তাকে ছুঁয়ে যায়।

 

বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সালে জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদে অনুসমর্থন করে। এই সনদ অনুসারে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতের অধিকার অর্জনে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের প্রতি জোর দিতে হবে:

 

এই সনদের ধারা ২-এ বলা হয়েছে

‘যোগাযোগ’ বলতে বোঝাবে সকল ভাষা, লেখ্য রূপ, ব্রেইল, স্পর্শ যোগাযোগ, বড় আকারে মুদ্রিত লেখা, সহজে ব্যবহারোপযোগী কম্পিউটারভিত্তিক বহুমাত্রিক মাধ্যম; সেই সঙ্গে লিখিত, শ্রুতিগোচর মাধ্যম, সরল ভাষা, মানব পাঠক এবং যোগাযোগের সহায়ক ও বিকল্প মাধ্যম ও প্রকরণসমূহ এবং ব্যবহার উপযোগী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি;

‘ভাষা’ বলতে বোঝাবে বাচনিক ও ইশারা ভাষা এবং অন্য ধরনের অবাচনিক ভাষা;

‘সঙ্গতিপূর্ণ বন্দোবস্ত’ বলতে বোঝাবে প্রয়োজনীয় এবং যথার্থ পরিমার্জন ও সমন্বয়, যা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা মাত্রাতিরিক্ত বোঝা আরোপ না করে প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যদের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণের জন্য মানবাধিকার ও মৌলিক স¦াধীনতাসমূহের উপভোগ ও অনুশীলন নিশ্চিত করা;

‘সকলের জন্য উপযোগী পরিকল্পনা’ বলতে বোঝাবে উৎপাদিত পণ্য, পরিবেশ, কর্মসূচি ও সেবাসমূহের পরিকল্পনা, যা কোনো রকমের অভিযোজন বা বিশেষায়িত নকশার প্রয়োজন ছাড়াই সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের ব্যবহার উপযোগী হবে। এই ‘সকলের জন্য উপযোগী পরিকল্পনা’ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণকে বাদ দিয়ে প্রণীত হবে না।

 

ধারা ৩: সাধারণ মূলনীতিসমূহের মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রবেশগম্যতার সঙ্গে নিম্নোক্ত বিষয় উল্লেখযোগ্য

ভিন্নতার প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রতিবন্ধিতাকে মানব বৈচিত্র্য ও মানবতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা;

সুযোগের সমতা;

সুযোগ-সুবিধা ও পরিষেবা প্রাপ্তি ও ব্যবহারের অধিকার;

 

ধারা ৮: সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে নিম্নোক্ত নির্দেশনা রয়েছে। যথা

১। শরিক রাষ্ট্র অনতিবিলম্বে, নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কার্যকর ও যথোপযুক্ত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করবে:

ক) পারিবারিক পর্যায় থেকে শুরু করে সমাজের সর্বত্র সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষা করবে;

খ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পর্কে তাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক সব ধরনের সনাতনী ধ্যানধারণা, কুসংস্কার ও ক্ষতিকর চর্চার অবসানে সচেষ্ট হবে;

গ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা ও অবদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করবে;

 

ধারা ৯: সুযোগ প্রাপ্তি ও ব্যবহারের অধিকারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

প্রতিবন্ধী মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে ও পূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য ভৌত পরিবেশ, যানবাহন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ জনসাধারণের জন্য নগর ও গ্রামীণ উভয় এলাকায় প্রাপ্ত সব সুবিধা ও সেবা অন্যদের মতো সমসুযোগ প্রাপ্তি ও ব্যবহারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহ প্রযোজ্য হবে:

ক) ভবন, সড়ক, যানবাহন ও অন্যান্য সুবিধা যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসন, চিকিৎসাসেবা ও কর্মক্ষেত্রসহ অন্যান্য গৃহাভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গন সুযোগ-সুবিধা।

খ) তথ্য, যোগাযোগ এবং বৈদ্যুতিক ও জরুরি সেবাসহ সব সেবা।

 

 এ ছাড়া শরিক রাষ্ট্র যেসব ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তা হলো:

ক) সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও প্রদত্ত সব সুবিধা ও সেবাপ্রাপ্তির ন্যূনতম মান ও নির্দেশিকা তৈরি, তার আইনি স¦ীকৃতি ও প্রচার এবং পরিবীক্ষণ করবে;

খ) ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ও সেবাসমূহ যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ অবাধে ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করবে;

গ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণের সুযোগ প্রাপ্তি ও ব্যবহারের অধিকার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে;

ঘ) জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ভবনসমূহে ব্রেইল পদ্ধতিতে এবং সহজে পড়া ও বোঝা যায় এমনভাবে সঙ্কেত স্থাপন করবে;

ঙ) জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ভবন ও বিভিন্ন সুবিধাপ্রাপ্তি ও ব্যবহার সহজীকরণের জন্য গাইড, পাঠক ও পেশাদার ইশারা ভাষার দোভাষীসহ সরাসরি সহায়তা ও মধ্যস্থতার ব্যবস্থা করবে;

চ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণের জন্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে অন্যান্য প্রকারের যথাযথ সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা উৎসাহিত করবে;

ছ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণের জন্য ইন্টারনেটসহ নতুন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থার সুযোগপ্রাপ্তি ও ব্যবহার উৎসাহিত করবে;

জ) প্রাথমিক পর্যায় থেকেই অবাধে ব্যবহারযোগ্য (অপপবংংরনষব অর্থে) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পরিকল্পনা (উবংরমহ অর্থে) উন্নয়ন, উৎপাদন ও বিতরণ উৎসাহিত করবে, যেন তা ন্যূনতম খরচে পাওয়া যায়।

 

অপরদিকে একই সনদের আলোকে তৈরি হওয়া আমাদের দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর অধিকার-সংক্রান্ত ১৬ নম্বর ধারায় ব্যক্তির শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রসহ বিনোদনপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রবেশগম্যতার অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রেই পূর্ণ ও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

একই আইনের ধারা ৩৩: গণস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকরণে বলা হচ্ছে

 

(১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, গণস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকল্পে (Construction Act, 1952 East Bengal Act II of 1953)ও তদধীন প্রণীত বিধিবিধান অনুসরণ করিতে হইবে।

(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সর্বসাধারণ গমন করে এইরূপ বিদ্যমান সকল গণস্থাপনা, এই আইন কার্যকর হইবার পর, যথাশীঘ্র ও যতদূর সম্ভব, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আরোহণ, চলাচল ও ব্যবহার উপযোগী করিতে হইবে।

[ব্যাখ্যা: এই ধারায় ‘গণস্থাপনা’ বলিতে সর্বসাধারণ গমন বা চলাচল করে এমন সকল সরকারি ও বেসরকারি ইমারত বা ভবন, পার্ক, স্টেশন, বন্দর, টার্মিনাল ও সড়ককে বুঝাইবে।]

 

এ ছাড়া এস্কাপের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রণীত ইঞ্চিয়ন স্ট্র্যাটেজির তিন নম্বর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাষ্ট্রকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভৌত অবকাঠামো ও অ-ভৌত অবকাঠামোসহ গণপরিবহন এবং তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নানা ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষের প্রবেশগম্যতার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা রয়েছে। যেমন

 

অবকাঠামোগত প্রবেশগম্যতা

মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮-এর ৬৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী সর্বজনীন প্রবেশগম্যতার তেমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যায় না বাংলাদেশের বেশির ভাগ সেবা প্রদানকারী ভবন বা স্থাপনাতেই। এই ধারায় উল্লেখিত সঠিক পরিমাপ অনুসারে কোনো স্থাপনাতেই র‌্যাম্প, টয়লেট, লিফট, প্ল্যাটফর্ম লিফট, টেকটাইল ব্লক, লিফটে ব্রেইল বাটন ও ফ্লোর ঘোষণার ব্যবস্থা ছাড়াও দিকনির্দেশনা সাইন এবং রঙের সঠিক ব্যবহার করা হয় না দেয়াল, দরজা বা আসবাব আলাদাভাবে চেনা বা বোঝার সুবিধার্থে। হুইলচেয়ার ঘোরানো এবং প্রবেশের পর্যাপ্ত জায়গাও রাখা হয় না কোথাও। ইনফরমেশন ডেস্কের উচ্চতা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক বেশি। শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষের চাহিদাগুলো অবকাঠামোগত প্রবেশগম্যতায় একেবারেই উপেক্ষিত। কোথাও ইশারা ভাষার সহযোগিতা নেই। জরুরি নম্বরে এসএমএস সার্ভিসের ব্যবস্থা কাজ করে না। তথ্য অনুসন্ধান নোটিস বোর্ড বা সিটিজেন চার্টার লোকেশন ম্যাপ ইত্যাদি সব জায়গায় নেই। এমএমএস, ভিডিও কলের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি ও ফ্রিকোয়েন্সির ঘাটতি এবং এই উপযোগী হার্ডওয়্যারের অপ্রতুলতা শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ ভোগাচ্ছে।

 

তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশগম্যতা

আমরা প্রতিদিনের কাজে নানা ধরনের গেজেট এবং ইনফরমেশন সিস্টেম, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করি, যা বিভিন্ন কাজে লাগে। যেমন একটি মোবাইল ফোন, টিভি বা কম্পিউটার বা ওয়েব বেইজ ইউজার ইন্টারফেস ইত্যাদি। কোনো একটি অ্যাপ্লিকেশন যখন তৈরি করা হয়, তখন তা ডেস্কটপ/ল্যাপটপ, ট্যাব ও মোবাইলÑ এই তিন ধরনের ডিভাইস থেকেই যেন সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তা লক্ষ রাখা হয় কিন্তু যারা এগুলো ব্যবহার করবেন, তাদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার কথা সেভাবে ভাবা হয় না। মোবাইলের ক্ষেত্রে সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন নোটিস ও নথিপত্র পিডিএফ ফরমেট এবং বেশির ভাগই বিজয় ফন্টে লেখা হয়; যা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষেরা তাদের সফটওয়্যারের সাহায্যে পড়তে পারেন না। যদিও ২০১১ সালের সরকারি একটি পরিপত্রে স্পষ্টভাবে সরকারি কাজে ইউনিকোড ভার্সন ৬ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া স্বল্প দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ওয়েবসাইটে বিপরীত রঙের ব্যবহার এবং ফন্ট যথেষ্ট পরিমাণে বড় করার অপশনগুলো রাখা হয় না। সহজ ও দ্রুত নেভিগেশন করতে শর্টকাট কমান্ড এবং অপ্রয়োজনীয় কনটেন্ট এড়িয়ে যেতে বেশির ভাগ ওয়েবে কোনো অপশন রাখা হয়নি। ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত বেশির ভাগ ছবির কোনো বর্ণনা দেওয়া থাকে না এবং ভিডিওতে সাবটাইটেল বা বর্ণনার ব্যবহার নেই।

বাংলা ইশারা ভাষা শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যোগাযোগ মাধ্যম। তথ্যপ্রযুক্তি এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে তাদের জন্য। এসএমএস, এমএমএসের পাশাপাশি তারা এখন স্মার্টফোনে থ্রিজির সাহায্যে ভিডিও কলে নিজেদের ভাব আদান-প্রদান করতে পারছেন। কিন্তু সেটা শুধু নিজেদের মাঝে। সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদের চাহিদার বিষয়ে এখনো অজ্ঞ ও উদাসীন।

 

যাতায়াতব্যবস্থায় প্রবেশগম্যতা

বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত যাতায়াতব্যবস্থা থেকে। যানবাহনে কিছু সিট বরাদ্দ করা ছাড়া আর কিছুই নেই। একটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব গণপরিবহন নেই আমাদের দেশে। অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিল্লিতেই চালু হয়ে গেছে এই ব্যবস্থা। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য রাস্তায় নিরাপদ চলাচলের সুবিধার্থে অডিটরি ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাও চালু হয়েছে সেখানে। আমাদের দেশে মেট্রোরেলের মতো একটি আধুনিক ব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ১৬টি স্টেশন তৈরির নকশা চূড়ান্ত কিন্তু এত বড় একটি সিস্টেমে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো রাখার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত একবারও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনসমূহের সঙ্গে কোনো বৈঠকের আয়োজন করা হয়নি, যা আমাদের আশাহত করে।

আমাদের দেশকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব করে গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামোগত বাধা এবং উপযোগী যাতায়াতব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অনেক কিছু করার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদের আলোকে প্রণীত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’, ‘জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০১৫’ এবং ‘তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা, ২০০৯’ আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে। এসব অঙ্গীকার রক্ষায় প্রয়োজন সরকারের কর্তাব্যক্তিদের সদিচ্ছার। আমরা সে প্রতীক্ষায় আছি।

 

লেখক: পলিসি এন্ড অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা, সিডব্লিউএফডি এবং যুগ্ম সম্পাদক, ভিপস।