বাড়ি19th Issue, March 2019সংগঠক ও নারী উদ্যোক্তা অ্যাড. নুরজাহান

সংগঠক ও নারী উদ্যোক্তা অ্যাড. নুরজাহান

অপরাজেয় প্রতিবেদক

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী সংগঠক ও উদ্যোক্তা অ্যাডভোকেট নুরজাহান। চট্টগ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে লেখাপড়ায় হাতেখড়ি নুরজাহানের। তারপর নাসিরাবাদ মহিলা কলেজ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় কোটা সমস্যা এবং নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে। স্নাতক শেষ করার পর আইনজীবী হিসেবে আদালতে চর্চা শুরু করতে আবারও বাধা। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে নুরজাহান বলেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মামলায় লেখালেখিগুলো করতে হতো। আবার নানান বিষয়ে পড়ে পর্যালোচনা করতে হতো। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী শিক্ষানবিশ হিসেবে সে সময় আমি কোনো সহযোগিতা পাইনি। দেখেছি জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান না। তাই এই পেশা থেকে নীরবে দূরে সরে এসেছি।

স্বপ্নের আইন পেশায় চর্চা করতে না পারায় এখন আর কোনো হতাশা নেই নুরজাহানের জীবনে। প্রতিবন্ধী মানুষের সংগঠনে কাজ করার মধ্যে সব প্রশান্তি খুঁজে নিয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের ইউনাইট থিয়েটার ফর সোশ্যাল অ্যাকশনে (উৎস) ২০০৮ সালে কর্মজীবন শুরু করেন নুরজাহান। এখানে চাকরি করতে করতেই গড়ে তোলেন নিজের সংগঠন রাইট অ্যাকশন ফর ডিসঅ্যাবিলিটি (র‌্যাড)। বর্তমানে তিনি র‌্যাড-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রায় সাড়ে তিন শ সদস্যের মাঝে ৮০ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষের (সাধারণ সদস্য) সমন্বয়ে গঠিত এই সংগঠনের ৯ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটিতে প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন ৫ জন, যারা প্রত্যেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সদস্য। সদস্যগণ নিজেরাই চাঁদা তুলে এবং গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সংগঠনের সহযোগিতায় বিগত প্রায় সাত বছরে অবহেলিত ও বঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটি প্রতিবন্ধী শিশু, এতিম ও দুস্থ পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে। সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি নকশি বাংলা নামে একটি বুটিক পরিচালনা করেন তিনি। নকশি বাংলায় যেসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়- সেলাই ও কাটিং, ব্লক বাটিক, কারচুপি, জারদৌসি, নকশি সেলাই, নকশি প্লাস্টিক ব্যাগ, পুঁতির শোপিস, পুঁতির ব্যাগ, বিউটিশিয়ান এবং বিভিন্ন ধরনের রান্নার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় কম্পিউটার ও ব্রেইল শেখানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের দ্রব্যাদি বাজারজাত করার লক্ষ্যে রয়েছে র‌্যাড-এর নিজস্ব শোরুম। ফলে শিক্ষার্থীদের বেকার বসে থাকার সুযোগ নেই। প্রতিবন্ধী নারীরা এখানে কাজ শিখে অনেকেই স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও প্রতিবন্ধী নারীর জীবনে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে ভবিষতেও কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর নুরজাহান।

সর্বশেষ

মাসিক আর্কাইভ

Translate | অনুবাদ