‘কাজগুলো ছাড়া ছাড়া, সমন্বিত হচ্ছে না; প্রচারণারও অভাব’ – ডা. আশরাফী আহমেদ

42

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালনায় প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ-২০১৩ এর বর্তমান পরিস্থিতি, সংকট উত্তরণে পদক্ষেপ ইত্যাদি জানতে সম্প্রতি অধিদফতরের যুগ্ম সচিব ডা. আশরাফী আহমেদের মুখোমুখি হয় অপরাজেয়। গত ৬ বছরব্যাপী চলমান জরিপ কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি জানান, ২০১৩ সালের জুন থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪৪ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর পরিচয়পত্র পেয়েছেন। (তথ্যসূত্র:https://www.dis.gov.bd/en/)। চলমান এ প্রক্রিয়ায় গড়ে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ প্রতিবন্ধী মানুষ হালনাগাদ হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিজেই শনাক্তকরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সরকারি উদ্যোগ থাকলেও প্রচারণার অভাব, সমন্বয়হীনতা ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সঠিক শনাক্তকরণে জটিলতা এবং সেগুলো নিরসনে তাদের উদ্যোগ, সীমাবদ্ধতাসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে দীর্ঘক্ষণের আলাপচারিতায়।
সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদন  : শাহরিয়ার সাজ্জাদ

অপরাজেয়: প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপের প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের এ পর্যন্ত সফরটি সম্পর্কে কিছু বলুন।
আশরাফী আহমেদ: প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩ প্রণয়নের পর প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যায় বিভ্রান্তি, প্রতিবন্ধিতার ধরন ও উন্নয়ন বিবেচনায় একটি শনাক্তকরণ জরিপের মাধ্যমে পরিচয়পত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ১২ ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষকে শনাক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
২০১১-১২ অর্থবছরে ১২টি উপজেলা ও দুটি ইউসিডিতে প্রাথমিক প্রকল্প পরিকল্পনা করে সমাজসেবা অধিদফতরের  তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি সমাজকর্মী পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রসমূহের পরামর্শকবৃন্দ এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডাক্তারদের দ্বারা শনাক্তকরণের মাধ্যমে সনদ প্রদান করা হয়।
তবে আমাদের জরিপ কার্যক্রমের পদ্ধতি শতভাগ সঠিক হয়েছে বলা যাবে না। বিগত অর্থবছরের ভিত্তি অনুযায়ী ভুলভ্রান্তি ও কারিগরি সমস্যাগুলো সমাধান প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

অপরাজেয়: স্বল্পদৃষ্টি ও স্বল্পশ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষেরা অনেক ক্ষেত্রেই শনাক্তকরণ থেকে বাদ পড়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ করার ব্যবস্থা কি রয়েছে?
আশরাফী আহমেদ: কোনো অভিযোগ থাকলে শনাক্তকরণ যে কার্যালয়ে হয়েছে সেখানে জানিয়ে ডাক্তার দ্বারা দ্বিতীয়বার শনাক্তকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি একজন ডাক্তার হিসেবে বুঝি প্রতিবন্ধিতার মাত্রা পরিমাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের অডিওমিটার খুব বেশি নেই। শ্রবণক্ষমতা সঠিক পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গড় হিসেবে অনুমানের ভিত্তিতে শনাক্ত হয়েছে। সঠিক শনাক্তকরণ না হলে ইউনিয়ন থেকে পর্যায়ক্রমে উপজেলা ও জেলা কার্যালয়ে জানানো যাবে।
প্রক্রিয়াটি চলমান, দ্বিতীয়বার ডাক্তারের মাধ্যমে সঠিক শনাক্তকরণের প্রয়োজন হলে করা যাবে। সমস্যা হলে আমাকে জানালে আমি ব্যবস্থা নেব।  

অপরাজেয়: যারা আপনার কাছে যেতে পারবেন না, বিশেষত তৃণমূল প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য কী ব্যবস্থা?
আশরাফী আহমেদ: সমাজসেবা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে আমাদের পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তার ফোন নাম্বার আছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

অপরাজেয়: শনাক্তকরণের ব্যাপারে কি কোনো অভিযোগ পেয়েছেন? সে ক্ষেত্রে কিভাবে সমাধান করেছেন?
আশরাফী আহমেদ: যেসব অভিযোগ আসছে, বেশির ভাগই পরিচয়পত্র নিয়ে। শনাক্ত হয়নি এমন অভিযোগ পাইনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিজেও শনাক্তকরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যেমন মস্তিষ্ক পক্ষাঘাতকে (সেরিব্রাল পালসি) বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শনাক্ত করা হয়। 

অপরাজেয়: সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দ্বারা শনাক্তের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের পরামর্শকদের মাধ্যমে শনাক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
আশরাফী আহমেদ: প্রতি জেলা ও উপজেলায় একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এ কাজে মনোনীত রয়েছেন। তবে শুধু জরিপের জন্যই সেবাকেন্দ্রের পরামর্শকদের ডাক্তার দ্বারা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সমস্যা অবশ্যই আছে, সমাধান নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে।

অপরাজেয়: কিছু স্থানে অডিওমেট্রিশিয়ান ছাড়া শনাক্তের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য?
আশরাফী আহমেদ: সব জায়গায় অডিওমেট্রিশিয়ান নেই। তা ছাড়া পরিচয়পত্র উদ্বোধনের তাড়াহুড়োর মধ্যে সে সময় পরামর্শকদের কিছু নির্ণায়ক বলে দেওয়া হয়েছিল।

অপরাজেয়: মস্তিষ্ক পক্ষাঘাত (সেরিব্রাল পালসি) প্রতিবন্ধী মানুষদের কীভাবে শনাক্ত করছেন?
আশরাফী আহমেদ: মস্তিষ্ক পক্ষাঘাত বলতে বলা হচ্ছে স্ট্রোক। স্ট্রোকে প্যারালাইজড ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাংশনাল ক্ল্যাসিফিকেশন এর মধ্যে না আসায় আমাদের নীতিমালায় স্বীকৃত না। ডাক্তাররা প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের নির্ণয়ের উপায় বলে দিয়েছিল তবু মস্তিষ্ক পক্ষাঘাত প্রতিবন্ধী মানুষদের অনেক সময় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বলা হচ্ছে, আবার হাঁটা-চলার সমস্যা দেখে শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ হিসেবে শনাক্ত করা হচ্ছে। আমি নিজেও জানি সমন্বয়ের সমস্যা রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের বড় আকারে সমন্বয় থাকতে হবে। সবই এগোচ্ছে তবে ছাড়া ছাড়া ভাবে।

অপরাজেয়: এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?
আশরাফী আহমেদ: গোড়াতেই ভুল হচ্ছে। তবে বড় ধরনের ভুল আমরা পাইনি। সূচনা ফাউন্ডেশন এ নিয়ে কাজ করছে। তাদের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা হচ্ছে।

অপরাজেয়: মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া?
আশরাফী আহমেদ: বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তুলনায় মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপস্থিতি বেশি না। মানসিক ডাক্তার দ্বারা করা উচিত হলেও সরকার মনোনীত ডাক্তারই করছেন।

অপরাজেয়: পরামর্শকেরা করছেন নাকি ডাক্তাররা?
আশরাফী আহমেদ: সব স্থানে ডাক্তার না থাকায় পরামর্শকেরাও কাজগুলো করছেন।

অপরাজেয়: শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষের তথ্য সংগ্রহে বাংলা ইশারা ভাষায় সহযোগিতার জন্য তথ্যসংগ্রহকর্মী এবং সমাজসেবার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি?
আশরাফী আহমেদ: প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে কর্মকর্তারা থাকতে চান না। তারা যোগদানের তিন মাস হলেই বদলির জন্য তদবির শুরু করেন; এ কারণেই কাজটা বেশ দুরূহ।

অপরাজেয়: মাঠপর্যায়ে জরিপকর্মীদের প্রতিক্রিয়া বা পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে কি?
আশরাফী আহমেদ: প্রধানমন্ত্রী পরিচয়পত্র বিতরণের পর থেকে অনেকেই দায়মুক্ত হয়ে আয়েশে আছেন। তারা মনে করছেন, অধিকাংশ কাজই ২০১৫ সালে হয়ে গেছে।

অপরাজেয়: কিছু ক্ষেত্রে শুনতে না পারার কারণে যারা বলতে পারেন না তাদের অর্থাৎ শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষদের শ্রবণ ও বাক অথবা বহুমুখী প্রতিবন্ধী মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
আশরাফী আহমেদ: ব্যক্তি নিজে বা পরিবারের কেউ যদি শনাক্ত করেন তাহলে সঠিক শনাক্ত করা হয়। আমি নিজেও বিষয়টা নিয়ে গবেষণা করছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আমার অনেক পরিচিত ডাক্তার রয়েছে, যাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।

অপরাজেয়: অভিযোগ রয়েছে, সমাজসেবা কর্মীরা ফরম হারিয়ে ফেলেছেন?
আশরাফী আহমেদ: এটা দুঃখজনক। দেখুন, অনেক সময় কাজের চাপে বা ভুলে ফরম হারিয়ে যায়। তবে সতর্ক থাকাও দরকার।

অপরাজেয়: জরিপ নিয়ে প্রচারের পরিকল্পনা কি আছে?
আশরাফী আহমেদ: একটি তথ্যচিত্র আছে। বিটিভিতে মাঝেমধ্যে প্রচারণা হয়। অর্থ বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার ফলে নিয়মিত প্রচারণা এবং বেসরকারি চ্যানেলে প্রচার সম্ভব হচ্ছে না।

অপরাজেয়: জরিপের প্রচারণা বিষয়ে সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ভূমিকা কী? এ বিষয়ে সমাজসেবার কোনো নির্দেশনা আছে?
আশরাফী আহমেদ: এই কেন্দ্রগুলো জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অধীনে হওয়ায় আমরা চিঠি দিয়ে তাদের সহযোগিতা চাইতে পারি। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের রদবদলের কারণে অনেকেরই জরিপ স¤পর্কে ধারণা থাকে না।

অপরাজেয়: কোনো প্রতিবন্ধী মানুষ মারা গেলে, সে ক্ষেত্রে করণীয় কী?
আশরাফী আহমেদ: মৃত ব্যক্তির তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আত্মীয়স্বজন জানালে নিবন্ধন থেকে তার নাম বাতিল করা হয়।

অপরাজেয়: এই জরিপের আওতায় কি ফ্যামিলি ট্রি (একই বংশে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা) করা হচ্ছে?
আশরাফী আহমেদ: না। তবে বংশে আর কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে কি না এমন একটি প্রশ্ন ফরমে আছে। অনেকেই তথ্য দিতে চায় না। অনেকেই স্বীকার করেন না, তাদের পরিবারে প্রতিবন্ধী মানুষ আছে। অনলাইনেও ফ্যামিলি ট্রি এর অপশনটি রাখার ভাবনা থাকলেও করা হয়নি। তবে তিন মাস পরপর নতুন তথ্য সংযুক্ত করার যায়।

অপরাজেয়: এক বংশের কেউ অন্য বংশে গিয়ে বিয়ে করে আলাদাভাবে নিবন্ধিত হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
আশরাফী আহমেদ: খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরবর্তী অনলাইন সংস্করণে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তা ছাড়া নিজেদের সচেতন হতে হবে।

অপরাজেয়: জরিপের ফরমটি ওয়াশিংটন গ্রুপের আদলে তৈরির বিষয়ে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। কেন?
আশরাফী আহমেদ: আমি মন্ত্রণালয়ে আসার আগেই ফরমটি তৈরি হয়। ওয়াশিংটন গ্রুপের আদলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি বছরের জুলাই থেকে একটি জরিপ শুরু করবে; খানা জরিপ। ওই জরিপে পক্ষাঘাতের কারণে প্রতিবন্ধিতা, বাসায় বৃদ্ধ যারা লাঠি নিয়ে হাঁটেন তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলাফল পাওয়া যাবে ২০২০ সালের জুনে।

অপরাজেয়: প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ প্রকল্পের কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে?
আশরাফী আহমেদ: যেহেতু শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান, আমার মনে হয় এ প্রকল্প চলবে। তবে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য অর্থবরাদ্দ রয়েছে। জরিপ শব্দটি নিয়ে অনেক ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ায় এ বছরই প্রকল্পটির নাম বদলে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শনাক্তকরণ কর্মসূচি’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জরিপের আওতাভুক্ত সবাইকে ভাতা দিতে বলেছেন। আগে দশ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে দেওয়া হলেও এবার ভাতার আওতায় আসবে সাড়ে ১৫ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

অপরাজেয়: জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্যসমূহ কি সংযুক্ত হয়েছে?
আশরাফী আহমেদ: আমি ২০১৫ সালের জুন মাসে যোগদানের পর মার্চ, ২০১৬ তে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের পর থেকে আমরা পরস্পর তথ্য আদানপ্রদান ও ব্যবহার করতে পারি। তবে নির্বাচন কমিশন চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্য সংযুক্ত করে পরিচয়পত্র দিতে পারে। শুরুর দিকে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও  Online Birth Registration Information System (Online BRIS) -এর তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। তাতে তথ্য অন্তর্ভুক্তি ব্যাহত হয়েছিল; সে সময় আমার জায়গায় থাকা পূর্ববর্তী কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র বদলি হয়ে যান।

আমি যোগ দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দিবস ২০১৬ উদ্যাপনকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পরিচয়পত্র বিতরণ উদ্বোধন করেন। ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪৪ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সুবর্ণ নাগরিকের পরিচয় পত্র বিতরণ করা হয়। ওয়েবসাইটে নিয়মিত তার তথ্য অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে। তবে ইউনিসেফ থেকে স্বল্পমূল্যে নেওয়া তথ্য অন্তর্ভুক্তির সফটওয়্যারটি বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি এবং সমস্যার কারণে প্রয়োজনানুযায়ী আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে প্রতিবন্ধী মানুষের ফরম অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরি বা কর্মসংস্থানবিষয়ক সব তথ্যই ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। আশা করছি দ্রুতই সংবাদ সম্মেলন করে জনসম্মুখে উন্মুক্ত করা যাবে।

অপরাজেয়: জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পরিচয়পত্রকে একীভূত করে স্মার্ট কার্ডে দেওয়ার পরিকল্পনা কি আছে?
আশরাফী আহমেদ: প্রধানমন্ত্রী নিজেও বোঝেন এ পরিচয়পত্র একীভূত হওয়া দরকার। এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। নির্বাচন কমিশন চাইলেই জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রতিবন্ধী মানুষের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে যেহেতু এটি আলাদা একটি বিভাগ, আমরা উপযাচক হয়ে কিছু বলতে পারি না।

অপরাজেয়: জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রতিবন্ধী মানুষের তথ্য উল্লেখ না থাকার কারণে নির্বাচন কমিশন প্রতিবন্ধী ভোটারের সংখ্যা এবং তাদের প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। এ বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আশরাফী আহমেদ: এখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনগুলো, নির্বাচন কমিশন ও আন্তঃমন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় করে কাজ করা দরকার। আর সরকারি পর্যায়ে কিছু করতে হলে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা উচ্চপর্যায় থেকে আসা দরকার, আমরা কিছু করতে পারি না।

অপরাজেয়: জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো প্রতিবন্ধী নাগরিকের তথ্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্তি কিংবা সেখানেই সংশোধন করার পরিকল্পনা আছে কি?
আশরাফী আহমেদ: অনলাইনে সম্ভব নয়। নিজ এলাকার সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে নিবন্ধন করতে হবে। তবে সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান। আমরা সবাই কাজ করছি, কিন্তু কাজগুলো ছাড়া ছাড়া হচ্ছে, সমন্বিত হচ্ছে না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্য উপাত্ত ব্যবহার নীতিমালার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে; বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত পেয়ে গেছি। এখন সেগুলো একসঙ্গে করে পাঠাতে হবে।

অপরাজেয়: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আশরাফী আহমেদ: অপরাজেয়’কেও ধন্যবাদ।