জয়ের ‘জয়’ করার গল্প

59

তামজিদ বিন ইসলাম জয়। সদ্য বিশে পা দেওয়া ভারী কাচের চশমা পরা গোলগাল মুখের টসবগে এক তরুণ। গাপ্পু-গুপ্পু শরীর ও আলা-ভোলা চেহারা নিয়ে এমনভাবে ঘুরে বেড়ায়, মনে হবে পৃথিবীর কিছুই বোঝেনা সে। একটু চোখের আড়াল হলেই আপনার মোবাইলটি বেজে উঠবে। ফোন ধরামাত্রই ওপ্রান্তে আধো আধো বুলিতে- ‘কি? ভালো আছ? হা…হা…হা… জয়… ভালো আছ? তারপর দুষ্টু কণ্ঠে বিশাল হাসির আওয়াজ। আপনি কিছু বলার আগেই ফোনের লাইনটি কেটে যাবে। সামনে এলে আবার সেই বোকা বোকা চেহারা। ফোনের কথা জিজ্ঞেস করতেই ভ্রু কুঁচকে চোখ বড় বড় করে নিজেই নিজেকে বকে দেবে, জয়, ফোন একবার… একবার। বারবার না; বলতে বলতেই ভোঁ-দৌড়। বকবেন কি!!! আপনি হেসেই কূল পাবেন না ওর এই কান্ডে। -এই হলো জয়।
জয় ও তার মা হাসিবা হাসান জয়ার ছোট্ট পৃথিবীতে নানা ঝড়ঝাপটা গেছে। তিল তিল পরিশ্রমে জয়কে বড় করে তোলার পাশাপাশি নিজেকেও তৈরি করে চলেছেন তার যোগ্য শিক্ষক ও বন্ধু হয়ে উঠতে। মায়ের এখন স্বপ্ন একটাই- জয় একদিন নিজেকে জয় করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। বর্তমানে জয় প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ (পিএসএসপি) সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা হিসেবে সমাজে স্বাধীনভাবে জীবন যাপনের দীক্ষা নিচ্ছে। জয়ের মা হ্যাবিলিটেশন স্পিচ ল্যাংগুয়েজ প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ ও সোসাইটি অব দ্য ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্স (এসডিএসএল) –এর নির্বাহী সদস্য। জয়ের জয় করার গল্প তার মায়ের লেখনীতেই তুলে ধরা হলো অপরাজেয় পাঠকের জন্য।

হাসিব হাসান জয়া

জয় অন্য শিশুদের মতো নয়, এ সত্য প্রথম থেকেই মেনে নিয়েছি আমি। তাই শুরু থেকেই ওকে আর দশজনের মতো গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করি। আমাকে প্রচুর পড়তে হয়েছে, তেমনি শিখতেও হয়েছে। জয় একেবারেই শুনতে পায় না তা আমরা প্রথম বুঝতে পারি ওর চার বছর বয়সে। আরেকটু বয়স বাড়লে নানা পরীক্ষায় বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন, জয় বয়সের তুলনায় ৪/৫ বছর পিছিয়ে রয়েছে। গুরুতর উুংষবীরধ কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অনেকখানি পেছানো। এ ছাড়া চোখের দৃষ্টি কমে আসছে ধীরে ধীরে। এককথায় বলা যায়, সদ্য কৈশোর পেরোনো জয় একজন বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণ।

তবে প্রখর স্মরণশক্তি ও অনুকরণপ্রিয় হওয়ার কারণে জয় খুব সহজে আয়ত্তে আনতে পারে যেকোনো কিছু। অনুকরণ ও অনুশীলন দুটোর সুন্দর সমন্বয় ওর মধ্যে। পরিস্থিতি অনুধাবনের তীক্ষ্ণতা প্রখর। পরিবেশের সঙ্গেও দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। জয় নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। কারণ তার শিখনক্ষমতা ও শারীরিক গঠনগত দিক মিলিয়ে সাধারণ শ্রেণিকক্ষে তার চেয়ে অনেক ছোট বয়সী শিশুদের সঙ্গে বসতে সে নারাজ। আবার অন্যান্য বিকাশগত দিকে সাধারণ শিশুদের মতোই এগিয়ে থাকার কারণে বিশেষ বিদ্যালয়ে দেওয়া সম্ভব নয় তাকে। আমাদের দেশে শিখন প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কোনো বিশেষ বিদ্যালয় নেই। ফলে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জয়ের একাকিত্ব বাড়ছে। বন্ধুর অভাববোধটাই ইদানীং বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।

জয়ের ছেলেবেলা অনেক বড় একটা যুদ্ধের চেয়ে কম কিছু নয়। ওর পাঁচ বছর বয়সে ২০০২-এর জুলাইতে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাই ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট করাতে। যার মাধ্যমে হিয়ারিং এইড দিয়ে শুনতে পায় না, এমন শিশুও শুনতে পাবে। জয় শুনতে পাবে এই আশায় যেকোনো যুদ্ধই আমি লড়তে রাজি। ককলিয়ারের পর তারা সাধারণ বিদ্যালয়ে জয়কে দিতে বলেছিল। অনেক ঝক্কির পরে একটি সাধারণ বিদ্যালয় জয়কে ভর্তি নিল। কিন্তু বিপত্তি বাধল, জয় শিক্ষককে ফলো করতে পারে না, আর শিক্ষকও ওকে বুঝতে পারে না। আমি তখনো জানতাম না এটা ওর জন্য কত বড় ক্ষতিকর! আমাকে কেউ বলেনি মানিয়ে নিতে না পারাটা আর স্বাভাবিক গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে একটা শিশুর মানসিক বিকাশ কী ভয়াবহভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। টিভির কার্টুন, ভায়োলেন্স, বাড়ির অশান্তি, অসহযোগিতা একটা শিশুকে কতটা পিছিয়ে দিতে পারে!

শুরু হলো জয়কে নিয়ে এক নতুন পরীক্ষা। অরণি বিদ্যালয়ে ভর্তিতে কর্তৃপক্ষকে রাজি করাতে বেগ গেতে হলেও আমি সফল হই। তত দিনে আমি ব্যাচেলর অব ¯স্পেশাল এডুকেশন পড়ছি। ২০০৪ ও ২০০৫ সালে নতুন সমস্যা জয় কানে মেশিন পরতে চায় না। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগ করি। তারা জানায়, আচরণগত সমস্যার কারণে হয়তো ও বারে বারে মেশিন খুলে ফেলছে। জোর করে মেশিন ব্যবহার করাতে হবে। শুরু হলো কঠোর শাসন। ওর কষ্ট আমরা কেউ বুঝতে চাইছি না। ওর কানের উন্নতির সঙ্গে আচরণগত উন্নতি, স্বাধীনভাবে মনের ভাব প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি আমরা ভুলতে বসেছিলাম। জয়ের সঙ্গে আরেকটা শিশু ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট করেছিল। ওর বেশ উন্নতি হয়েছে, লেখাপড়াও শিখছে কিন্তু জয় কেন পারছে না! জয়কে নিয়ে আমার অঘোষিত আরেক যুদ্ধ।

ইতিমধ্যে অরণি বিদ্যালয়ে অরকিড একটা কর্মশালা করে পরিবারে শিশুদের সঙ্গে আচরণবিধির ওপর। সেখানে মনোবিজ্ঞানী কলি আপার সঙ্গে পরিচয়। ২০০৫ সালের আগ পর্যন্ত আমি জানতাম না বাংলাদেশে শিশু মনোবিজ্ঞানী রয়েছে। কলি আপাই প্রথম আমাকে বোঝালেন, সে কানে কিছুই শুনছে না, তাই মেশিন পরতে চায় না। আমরা আকাশ থেকে পড়লাম। আপার কাছেই জানলাম বয়স অনুযায়ী ওর মানসিক বিকাশ যথাযথ নয়।

আপাকে যত দেখছি তত জানছি ও শিখছি। জয় ওর নিজের মতো এই বিশ্বাসটা আমি অর্জন করেছি আপার মাধ্যমে। প্রত্যেকটা শিশুই আলাদা ব্যক্তিসত্তার অধিকারী এই জানাটা একটা বিশাল মহাদেশ আবিষ্কার করার মতোই ব্যাপার। যা আমি প্রতিদিনই জয় আর অন্য সব শিশুর মাধ্যমে উপলব্ধি করছি। আমাকে তিনি জয়ের মা হিসেবে গড়ে তুলতে লাগলেন। জয়কে সে সময় ভর্তি করা হলো অরকিড আইসিইউ শ্রেণিতে। সপ্তাহে ৩ দিন এখানে, বাকি দুই দিন অরণি। ছয় মাস পর আপাই বললেন, দুই দিকে দু রকম পরিবেশ ওর মনের চাপ বাড়াচ্ছে। যেকোনো একটা বেছে নিন। অবশ্যই অরকিডকে বেছে নিলাম। আমি আপার কাছে কৃতজ্ঞ এ কারণে যে জয়কে পরিচালনা করার পদ্ধতি শিখতে তিনি আমাকে বরাদ্দের চেয়েও অতিরিক্ত সময় দিয়েছেন। আপার সঙ্গে জয়কে নিয়ে কাজ করছি হাসির সময় হাসি, কান্নার সময় কান্না, ভদ্রতা, অনুতপ্ত হওয়া, কাউকে না মারা, মন দিয়ে কোনো কিছু রং করা, তৈরি করা মোট কথা, ওর মস্তিষ্কের কম্পিউটারে একটা একটা করে সফটওয়্যার লোড করে দেওয়া হচ্ছিল। জয়কে জয় করার দলে আপা হলেন ক্যাপ্টেন আর আমরা সবাই সহযোগী। আপার দিকনির্দেশনায় এগিয়ে চলল জয়ের অগ্রযাত্রা। জয় একটু একটু করে নিজে খাবার খেতে শিখল, রাগ-জেদ কমলো, বন্ধ হলো কাগজ ছেঁড়াও। জয় শিখল নতুন কিছু তৈরি করা। কাগজ আর স্কচটেপ হলে যেকোনো কিছুই দেখে বানিয়ে ফেলতে শিখল। মোবাইল, মানিব্যাগ, ল্যাপটপ, বিল্ডিং মডেল নানা কিছু। এসব দেখে ওর বন্ধুরা, আপা, আমরা সবাই অবাক! আপা ওর ভেতরের লুকিয়ে থাকা অনেক প্রতিভা বের করে আনলেন। এখন সে এঁকে ফেলতে পারে মুহূর্তেই। এর মাঝে জয় আমার সহযোদ্ধা হয়ে গেছে। আমার পৃথিবী বলতেই জয়। হাসি-কান্না, আড্ডা, পড়াশোনা, কাজ সবকিছুই আমাদের দুজনের। আপা বলত, জয় যদি একটু কম বুঝত তবেই ভালো হতো। ওর বয়সের তুলনায় ও একটু বেশিই বোঝে, খুব অনুভূতিপ্রবণ শিশু।

তার ভাব প্রকাশে এবং আচার-আচরণে ম্যাচিউরিটি এসেছে। একটি সুন্দর মূর্তিকে যেমন কাদামাটি থেকে একটু একটু করে ছেঁচে গড়ে তোলা হয়, তেমনি জয়কেও গড়ে তোলা হচ্ছে ধীরে ধীরে।

আবার সিঙ্গাপুর গেলাম ২০০৬ এ। জানা গেল, ওর ২২টা চ্যানেলের মধ্যে দুটো কাজ করছে না। ডাক্তার সে দুটো চ্যানেলে সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ করে নতুন ম্যাপিং সেট করে দিল। ¯স্পিচ থেরাপি সেশন নেওয়া হলো। এরপর একটু একটু করে জয়ের আগ্রহ বাড়ল মেশিন পরার, কথা বলার। জয়ের শ্রবণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু হলো সে বছর থেকে। সে বছরেরই জুলাইতে আমি ‘ডেফ চিলড্রেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ডেক ওয়াব) এ প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। কলি আপা জয়কে ২০০৭ এর জানুয়ারিতে ডেক ওয়াবে ভর্তি করাতে বলেছিলেন। ২০০৮-এ এসে আমি পুরোপুরি উপলব্ধি করলাম, আমার দশ বছরের ছেলে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে ‘¯স্লো লার্নার’। ডিসলেক্সিয়ার কারণে লেখাপড়া শিখছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। প্রতিবছর নতুন শ্রেণিতে উঠতে পারছিল না। এ সময়টায় ওর দলের আমরা সবাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। সে পড়তে শিখবে। লিখতে শিখবে। তার মাকে, বাবাকে, বন্ধুদের ই-মেইল করবে, টেক্সট পাঠাবে, পৃথিবীকে জানাবে, আমরাও পারি, আমরা করব জয় একদিন।

এখন আমার সংগ্রাম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি স্বাধীন জীবনযাপনে জয়ের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য। পিএনএসপিতে জয় শিক্ষানবিশ হিসেবে ২০১৫ এর নভেম্বর মাসে যোগদান করে। মাস তিনেক শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার পর জয়ের শিখনক্ষমতা ও স্বাধীন জীবন যাপনের (ওহফরঢ়বহফবহঃ খরারহম) এর আগ্রহ লক্ষ করে পিএনএসপির প্রয়াত পরিচালক রফিক জামান জয়কে দাপ্তরিক কাজে দক্ষতা বৃদ্ধিবিষয়ক ছয় মাসের প্রশিক্ষণ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রশিক্ষণ শেষে পিএনএসপিতে সহকারী কর্মসূচি কর্মকর্তা (সম্মান) হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিন বছর (ফেব্রুয়ারি ২০১৬-ডিসেম্বর ২০১৮) ধরে জয় পিএনএসপির উদ্যোগে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সভা ইত্যাদি আয়োজনে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। প্রশিক্ষণকালীন জয়কে তার দক্ষতা অনুযায়ী দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি রাস্তায় একা চলাচলসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় বিশেষত স্বাধীন জীবনযাপনের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয় পিএনএসপি। এ ছাড়া বাস্তবিক কর্মকান্ড ও ছবির মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের উপযোগী শব্দসহ ইংরেজি অক্ষর, সংখ্যা ইত্যাদির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং বলতে শেখানো হয়। পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে খাপ খাওয়াতে নিয়মিত শারীরিক শ্রম ও ব্যায়াম করানো হয় জয়কে।

আমার বিশ্বাস, জীবনের এই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে মাথা উঁচু করে এ পৃথিবীতে সে বেঁচে থাকতে শিখে যাবে। আমি একজন পেশাদার, কিন্তু জয়ের কাছে আমি কেবলই মা, ওর বন্ধু। আমার জয় এখন যুদ্ধ করতে শিখছে। সে তার আচরণগত, কথা বলার সমস্যা, হাইপার অ্যাকটিভিটিকে অনেকটাই অতিক্রম করেছে। সে এখন এত কথা (স্পষ্ট-অস্পষ্ট) বলে, আমিই মাঝেমধ্যে বিরক্ত হয়ে বলি ‘একটু চুপ, পরে শুনছি।’

জয় বেড়ে উঠছে শুধু হাতে-পায়ে নয়, মনে-বুদ্ধিতেও। এখন আমার জয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক বড়, ঠিক আমার বাবার মতো। আমার যখন খুব মন খারাপ হয়, আমার মাথাটা বুকের মধ্যে নিয়ে এমনভাবে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, মনে হয় বাবার আদর পাচ্ছি। কোনো খাবার খেতে গিয়ে আগে আমাকে খাওয়াতে চায়, বারবার সাধে, ঠিক ছোটবেলায় বাবা যেমন আমাকে সাধতেন। ঘুমাতে গিয়ে ঘুমপাড়ানি গান আমি শোনাব কী, জয়ই আমাকে আয় আয় চাঁদ মামা, টিপ দিয়ে যা গেয়ে ঘুম পাড়াতে চায়। রিকশায় আইসক্রিম খেতে খেতে গল্প করে ঘুরে বেড়ানো, বৃষ্টিতে ভেজা সব মনে করিয়ে দেয় আমার ছোট্ট জয় বড় হয়ে উঠছে। আমার স্বপ্ন একজন আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ হিসেবে জয়কে গড়ে তোলা। যেন সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার কাজে সেও অংশগ্রহণ করতে পারে। যেন পরিবার-সমাজ গঠনে, দেশের বোঝা না হয়ে, নিজেকে কাজে লাগতে পারে সেটাই এখন একমাত্র লক্ষ্য আমার।