প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব পোশাকশিল্প কারখানায় অর্থনৈতিক মুক্তি

36

অপরাজেয় প্রতিবেদক

পোশাকশিল্পে প্রতিবন্ধী নারী শ্রমিক মুন্নি আক্তারের অর্থনৈতিক মুক্তির ফলে পরিবার ও সন্তানের ভরণপোষণ তিনি একাই চালিয়ে নিতে পারেন। সঠিক প্রশিক্ষণ এবং ইন্টাফ্যাবশার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডে কাটিং সহকারী পদে কাজের সুযোগ মুন্নির জীবনে এনে দিয়েছে আমূল পরিবর্তন।

কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মুন্নিকে চৌদ্দ বছর বয়সে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয় জয়পুরহাটের হিলিতে। শ্বশুরবাড়িতে রান্নাঘরের মাটির দেয়াল ভেঙে মুন্নি প্রতিবন্ধিতা বরণ করেন। মেরুদন্ডে আঘাত পাওয়ার ফলে হুইলচেয়ার ব্যবহার শুরু করেন ২০০৬ সাল থেকে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে প্রথম দিকে দারুণ অসহায় অবস্থায় পড়েন তিনি। নিজে নিজে টয়লেট, গোসল, রান্না ইত্যাদি দৈনন্দিন কাজ করতে পারতেন না। এ সময় কাছের মানুষেরাও তাকে এড়িয়ে চলছিল। অর্থাভাবে চিকিৎসাও হয়নি ঠিকমতো। দুই সন্তান ও বেকার স্বামী নিয়ে খেয়ে না-খেয়ে পড়ে থাকতেন ঘরের কোণে। অবশেষে কাপড় সেলাইয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মব্যস্ত জীবনে প্রবেশ করেন তিনি। বর্তমানে মুন্নির মাসিক আয় নয় থেকে দশ হাজার টাকা।

মুন্নি বলেন, প্রতিটি কারখানা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব করে গড়ে তোলা হলে আমার মতো অনেকেই মুক্তি পাবে। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসবে। তিনি আরও বলেন, হুইলচেয়ার চালিয়ে কারখানায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমাদের দেশের রাস্তাগুলো হুইলচেয়ার উপযোগী করা দরকার। রাস্তায় পানি জমে থাকে, অনেক সময় উঁচুনিচু থাকে, যার ওপর দিয়ে হুইলচেয়ার চালিয়ে যেতে কষ্ট হয়। মুন্নি জানান, তার স্বামী প্রতিদিন কারখানায় যাওয়ার আগে গোসল, রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে এবং কারখানায় যাতায়াতেও যথেষ্ট সহযোগিতা করেন তাকে। স্বামী ও সন্তানের অনুপ্রেরণা তাকে শক্তি যোগায় প্রতিনিয়ত।