সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নেবে নতুবা অব্যাহতি

25

প্রতিবন্ধী মানুষেরাও যে ‘মানুষ’, এ কথা সম্ভবত মানতে নারাজ সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বাংলাদেশের অসংখ্য প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে আমিও একজন। দুর্ঘটনায় বাম পা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ১০টি সার্জারির পর আমার পরিচয় এখন আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ। কিন্তু সমাজসেবা কর্মকর্তারা আমাকে মানুষ হিসেবে সম্মান দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন।

সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কোটা বিদ্যমান। পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে প্রতিবন্ধিতা সনদ দেখাতে হয়। আগে সমাজসেবা কার্যালয় বিনামূল্যে এই সনদ দিত। বর্তমানে সুবর্ণ নাগরিকের নামে নতুন একটি পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। দেওয়ার সময় সমাজসেবা থেকে বলা হয়, দেশের নাগরিক হিসেবে সব কার্যক্রমের অংশীদার হতে সর্বত্র এর ব্যবহার করা যাবে।

তা ছাড়া আমরা জানি, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’-এর ধারা ৩১ এর উপধারা (৬) এ পরিচয়পত্রের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তারপরও পরিচয়পত্র ব্যবহার-সংক্রান্ত জটিলতা বিরাজমান সর্বক্ষেত্রেই। প্রতিবন্ধী মানুষকে ভোগান্তি দিতে দুর্নীতির কপাট খুলে বসে রয়েছে অমানুষের দল। আমার জানা ছিল না সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে প্রদত্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পরিচয়পত্রটি পেতে অর্থ ব্যয় করতে হয়! আমার নিজের পরিচয়পত্রটি পেতে সমাজসেবা কার্যালয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ উৎকোচ দিতে হয়। আরও নানা ভোগান্তির পর পরিচয়পত্রটি হাতে আসে।

অর্থের বিনিময় না হলে দেশের অনেক সমাজসেবা কার্যালয়ই আমাদের ভাতা তুলতে এবং যেকোনো কাজ করাতে হয়রানি করে। এই সমস্যা বেশি হয় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে।

আমার প্রশ্ন, প্রতিনিয়ত আমাদের এসব ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কি দায়িত্বশীল ভূমিকা নেবে?

আমাদের প্রতিবন্ধী মানুষের ফোকাল এই মন্ত্রণালয়ের উচিত যেকোনো ধরনের হয়রানি থেকে আমাদের মুক্ত রাখা। আমি আশা করতে চাই, সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পরিচয়পত্রসহ যেসব জটিলতায় আমরা ভুগি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে তার যথাযথ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেবে, নতুবা প্রতিবন্ধী মানুষের ফোকাল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়াই কাম্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধি
বাংলাদেশ।