বাংলাব্রেইল প্রজেক্ট

41

বছরের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা পায় নি ২০১৩ সালের পাঠ্যপুস্তক। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন ১০৪টি বই প্রণয়ন করায় সঙ্কট নতুন রূপ পেয়েছে। তাই বলে সব কিছুর দায় রাষ্ট্রের উপর চাপিয়ে হাল ছেড়ে বসে থাকা তো যায় না! বিড়ম্বনার শিকার এইসব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হাতে ব্রেইল পদ্ধতির পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর তাগিদ থেকে সুদূর প্রবাসে বসেই উদ্যোগ নিলেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী রাগিব হাসান। যিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অফ আলাবামা অ্যাট বার্মিংহামের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত আছেন।

প্রথমেই দেশে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের সাথে যোগাযোগ করেন। স্যার সানন্দে রাজি হয়ে যান তার নিজস্ব প্রিন্টারে সমস্ত ব্রেইল বইগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রিন্ট করে দিতে। স্যারের সম্মতি পেয়ে সেদিনই ফেসবুকে বাংলাব্রেইল নামে একটি গ্রুপ তৈরি করেন। প্রথম দিনেই যোগ দেন চারশর বেশি মানুষ। ফেসবুকের মাধ্যমে আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করে গত ১ মাস ধরে বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যবইগুলোকে টাইপ করে ব্রেইলে ছাপার জন্য উপযোগী ইউনিকোড সংস্করণে রূপান্তর করেছেন। আর এর পাশাপাশি কাজ চলছে পাঠ্যবইগুলোর অডিও সংস্করণ, যেখানে বাংলাব্রেইলের স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা সম্পূর্ণ পাঠ্যবই পড়ে অডিও রেকর্ড তৈরী করে দিচ্ছেন। দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীরা এসব অডিও বই মোবাইল ফোন বা অন্যান্য মাধ্যমে বাজিয়ে শুনতে পারবে। দৃষ্টিহীন শিশুদের কাছে পাঠ্যবই পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে জুন মাসের শেষে শুরু হয় বাংলাব্রেইল প্রজেক্ট। অনন্য এই উদ্যোগটি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। জুলাই মাসের ২৮ তারিখের হিসাবে বাংলাব্রেইলের এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছেন প্রায় ২৬০০ জন কর্মী।

এ পর্যন্ত বাংলাব্রেইলের কর্মীরা ১৭টি অডিওবুক এবং ২২টি ইউনিকোডকৃত টেক্সটবুক তৈরি করে দিয়েছেন। অডিওবুক প্রজেক্টের অধীনে এ মূহুর্তে প্রায় ৫৭জন স্বেচ্ছাসেবক বই তৈরীর কাজ করেছেন। এই কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী লুতফুন্নাহার লতা এবং বিটিভির মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক। এ অবধি প্রায়  ৯০ ঘন্টার অডিও রেকর্ড করা হয়েছে। সম্পূর্ণ রেকর্ড হওয়া অডিওবইগুলো এই মূহুর্তে ডাউনলোড করা যাবে বাংলাব্রেইলের ওয়েবসাইট থেকে। পরবর্তীতে অডিওবইগুলো এমপিথ্রি প্লেয়ারে করে বাংলাদেশের নানা জায়গার দৃষ্টিহীন শিশুদের মাঝে বিতরণ করার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া এই অডিওবুকগুলো যেকোন শিক্ষার্থীই সহায়ক পাঠ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।