বাড়ি11th Issue, June 2015চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়ক টেকটাইল ব্লক

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়ক টেকটাইল ব্লক

অপরাজেয় প্রতিবেদক

 

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশপথে চমৎকার সুদৃশ্য দু’টি র‌্যাম্প ও টেকটাইল ব্লক নির্মাণের মাধ্যমে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তিকে যেমন বাধার সম্মুখীন হতে হবে না তেমনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষেরাও একা পথ চিনে নিতে পারবেন টেকটাইলের ওপর পা/সাদাছড়ি রেখে।

 

বাংলাদেশ ভিজ্যুয়ালি ইমপেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি (ভিপস) এর সাধারণ সম্পাদক নাজমা আরা বেগম পপি সম্প্রতি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসেন। একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে তিনি টেকটাইলে হেঁটে নিশ্চিত করেন র‌্যাম্প দিয়ে উঠে সরাসরি দরজা পর্যন্ত একাই চলাফেরার জন্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের উপযোগী হয়েছে পথটি। তবে স্টেশনের ভেতরে ওয়েটিং রুম, টয়লেট এবং টিকেট কাউন্টারকেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। নতুন প্লাটফর্মের পাশাপাশি পুরনো প্লাটফর্মেও টেকটাইল ব্লক তৈরি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার অব ডিজেবল্ড (আরসিডি) এর সভাপতি জনাব রাশেদুজ্জামান চৌধুরী অপরাজেয়’কে জানান, বাংলাদেশের কোন গণস্থাপনায় এই প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য টেকটাইল ব্লকের ব্যবহার হয়েছে। নব নির্মিত প্লাটফর্ম সম্পূর্ণ জুড়েই টেকটাইল পথ ট্রেনের যে কোন কোচে উঠতে সহযোগিতা করবে আমাদের।

সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এ্যান্ড অ্যাডোভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) এর উদ্যোগে এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও পপুলেশন সার্ভিসেস ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) এর সহযোগিতায় ২০১৪ সালের ১৬, ১৮ ও ১৯ জুন চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ গণস্থাপনাগুলোতে প্রবেশগম্যতা নিরীক্ষণ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হয়। তন্মধ্য ১৮ জুন নিরীক্ষণ চলাকালীন সময়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব ব্যবস্থা নির্মাণে প্রয়োজনীয় র‌্যাম্প ও টেকটাইল ব্লকের ছবিসহ কিছু প্রস্তাবনা এবং চট্টগ্রাম ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ এর সর্বজনীন প্রবেশগম্যতা বিষয়ক তথ্যাদি চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশনের তৎকালীন স্টেশন ম্যানেজারের কাছে তুলে দেন নিরীক্ষা দলটি।

 

 

এ বিষয়ে বি-স্ক্যান এর সভাপতি সাবরিনা সুলতানা জানান, আমরা সে সময়ে তৎকালীন স্টেশন ম্যানেজার জনাব শামসুল হককে অনুরোধ করেছিলাম জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে স্টেশন রি-মডেলিং এর কাজ চলাকালীন সময়েই স্টেশনটিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব করে তোলার ব্যবস্থা নিতে। এবং ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী সঠিক মাপ ও নিয়ম মেনে কাজ করার জন্য রেলওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। তিনি তখনই আমাদের আশ্বাস দেন বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে এই অনুরোধ পৌঁছে দেয়া হবে। তিনি তার কথা রেখেছেন। এ জন্য আমরা তাকে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাই।

 

উল্লেখ্য, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী মানুষের সাথে প্রবেশগম্যতা সম্পর্কিত বিষয়ক অভিজ্ঞ ব্যক্তি, বুয়েট ও চুয়েটের প্রকৌশলীগণ এই নিরীক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেন।

সর্বশেষ

বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ সংকট; নানামুখী সমস্যায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

অপরাজেয় প্রতিবেদক পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সঠিক রঙের ব্যবহার, সহায়ক উপকরণ, ইন্ডিকেটর বা সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সহায়ক সফটওয়্যার ও অডিও বইয়ের অভাবসহ নানামুখী সমস্যার কারণে সাধারণ...

মাসিক আর্কাইভ

Translate | অনুবাদ