সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তির শিকার প্রতিবন্ধী মানুষেরা

29

 

আকলিমা খাতুন 

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সরকারি সেবাসমূহ পেতে সহজ নিয়ম করে দেয়ার পরেও প্রতিনিয়ত নানা সমস্যা এবং হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের। তাদের অভিযোগ স্বজনপ্রীতি বা অবহেলার ফলে ভোগান্তি যেমন হচ্ছে তেমনি দীর্ঘদিন ঘুরেও সময়ে সেবাগুলো ঠিকভাবে পাচ্ছেন না। অপরদিকে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীগণ একে অপরের ভুল ধরছেন।

 

সরেজমিন পরিদর্শনে গাংনী উপজেলা, মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর উপজেলা, কুষ্টিয়া সদর এবং কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর উপজেলায় এই চিত্র চোখে পড়ে। গাংনী উপজেলার মালসাদহ গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মোছাঃ শাপলা খাতুন জানালেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে ঘুরেও প্রতিবন্ধী সনদ পান নি তিনি। এমন কি শিক্ষা উপবৃত্তিও ভাগ্যে জোটে নি তার। নবম শ্রেণীর ছাত্রী শাপলা বলেন, অনেক কষ্টে আমি আমার লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বিষয়টি গাংনী উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মতিয়ার রহমান অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার জানা মতে কোন প্রতিবন্ধী মানুষেরই বাদ পড়ার কথা নয়। তবে হতে পারে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে আবেদনকারির নামের তালিকা আমাদের কাছে পৌঁছায় নি।

 

শিক্ষা উপবৃত্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি ফরম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে পাঠিয়েছি। প্রতিষ্ঠান প্রধান যাদের ফরম পূরণ করে আমাদের কাছে পাঠিয়েছে তারা এই সেবা পাচ্ছে। বিষয়টি সরেজমিনে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক কর্মকতা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় চাপের কারণে অনেক সময় আমাদের কিছু করার থাকে না।

 

মেহেরপুর সদর উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মোঃ আওয়াল হোসেন এবং মুদি দোকানি ভবানি সাহার অভিযোগ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ঋণ পেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। কোনভাবে পাওয়া গেলেও ঋণ তোলার পর দেখা যায় সমাজসেবা কার্যালয়ে উৎকোচ দিতে হচ্ছে ২০০-৩০০ টাকা, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক। তাদের প্রশ্ন সরকার আমাদের জন্য ঋণ ব্যবস্থা রেখেছে স্বনির্ভর হবার জন্য তাও যদি উৎকোচ দিয়ে পেতে হয় তারা কার কাছে যাবেন? এ বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকতার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় মাঝে মধ্যে ভোগান্তি পেতে হয়। তবে উৎকোচ নেয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন তিনি।

 

কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর উপজেলার রানা খড়িয়া গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মোঃ রিনা খাতুন এবং একই উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের মোঃ এনামুল হক জানান, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে গিয়ে প্রায়ই ভোগান্তি পেতে হয়। অনেক সময় সেবা না নিয়েই বাড়ি ফিরে আসতে হয়। এনামুল হক এক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতিকেই দায়ী করেন। এ বিষয়ে উল্লেখিত এলাকার প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকতা মোঃ বাবুল রহমান জানান তাদের যথেষ্ট দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। ছয় সাত জনের কাজ মাত্র দুইজন দিয়ে সম্পন্ন করতে হয় বলে যথাসময়ে সেবা প্রদানে কিছুটা সমস্যা হয় কিন্তু স্বজনপ্রীতির কথা তিনি অস্বীকার করেন।