চার ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতিনিধিত্বে পরিবীক্ষণ কমিটির ১৫তম সভা

55

 

প্রধান প্রতিবেদন

জাতীয় পরিবীক্ষণ কমিটির ১৫তম সভায় সিআরপিডি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবিষয়ক ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কার্যাবলি সুনির্দিষ্টকরণ-বিষয়ক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সোসাইটি অব দ্য ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাংগুয়েজ ইউজার্স (এসডিএসএল)।

 

চার ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে গত ১৩ জানুয়ারি, ২০১৬ এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয় সিরডাপ মিলনায়তনে। পরিবীক্ষণ কমিটিতে নবনিযুক্ত শ্রবণ ও বাক্ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এম ওসমান খালেদ, সভাপতি এসডিএসএল; শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সালমা মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক, প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ (পিএনএসপি); মস্তিষ্ক পক্ষাঘাত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জীবন উইলিয়াম গোমেজ, নির্বাহী পরিচালক, টার্নিং পয়েন্ট এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাস্কর ভট্টাচার্য্য এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কমিটির সরকারি ও বেসরকারি সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবিষয়ক ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মরত সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষ এ সভায় অংশগ্রহণ করেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সে সময়কার সচিব তারিক-উল-ইসলাম (বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব হিসেবে দায়িত্বরত)-এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এম এম সুলতান মাহমুদ, যুগ্ম সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ড. আনোয়ার উল্লাহ (উপসচিব) পরিচালক, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন।

 

বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের সংগঠনের সমন্বয়ে সিআরপিডি মনিটরিং কমিটি নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে জানান সভার সভাপতি জনাব তারিক-উল-ইসলাম। এ সময় এসডিএসএলের সভাপতি এম ওসমান খালেদ বাংলা ইশারা ভাষা দোভাষীর সহযোগিতায় বলেন, জাতীয় পরিবীক্ষণ কমিটির ১৫তম সভা হলেও এটাই প্রথম সভা, যেখানে সরকারি আমলাদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষ কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে। এই কমিটিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি সচিব মহোদয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

 

মূল প্রবন্ধ পাঠকালে পিএনএসপির পরিচালক রফিক জামান বলেন, নারী উন্নয়নের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নারীবিষয়ক উইড ফোকাল পয়েন্টদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কার্যাবলি রয়েছে। আবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যবণ্টনবিধিতে নারীর উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। একইভাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের (এখন পর্যন্ত ৪৬টি মন্ত্রণালয়ের ৪৬ জন) ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের টার্ম অব রেফারেন্স সুনির্দিষ্ট করলে প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের বিষয়টি মূলধারায় আনা সহজ হয়। উইড ফোকাল পয়েন্টদের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কার্যাবলির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ সক্রিয় করা গেলে নারীদের মতো মূলধারায় প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নকে কার্যকর করা সহজ হয়। এসডিজি বাস্তবায়নের প্রাক্কালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনকে কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ছাড়া কর্মবণ্টনবিধির বাধ্যবাধকতা না থাকায় অন্যান্য মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী নাগরিকের বিষয়টি এড়িয়ে চলেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে আমলারা বলেন, ১২টি ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অটিজম বিষয়ে কার্যক্রমের অঙ্গীকার আছে। বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়ে অংশগ্রহণকারী বক্তারা আশাবাদ জানিয়ে বলেন, এরই মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ তৈরি হবে।

 

জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নবিষয়ক প্রশ্নোত্তরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আনোয়ার উল্লাহ বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর আওতায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে এবং নিউরো ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইনের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। তবে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে অংশগ্রহণকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান।