বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিবন্ধী মানুষের বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন

110

আজ শনিবার ১৯ জুন, ২০২১ সকালে প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠন এইউডিসি, বি-স্ক্যান, বিডিডিটি, সিবিডিসিপিও, ডিসিএফ, ডিডিআরসি, এইচডিডিএফ, এনসিডিডব্লিউ, এনজিডিও, ডব্লিউডিডিএফ, পিএনএসপি, এসডিএসএল, সম্মেলন ফাউন্ডেশন, পিসিপিএফ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, আকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এবং সুইড বাংলাদেশ এর অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রতিবন্ধী মানুষকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে মানববন্ধনে আগত বক্তরা দাবি করেন। তারা জানান প্রতিবন্ধী মানুষের সংগঠনসমূহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাথে একাধিক ওয়েবিনার, সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা দেয়া সত্ত্বেও তার একটিও কেন আমলে নেয়া হয় নি।

বিডিডিটি থেকে লাভলী বলেন, দৈনিক ২৫ টাকা হারের প্রতিবন্ধী মানুষকে কিভাবে ভাতা দেয়া হয়? এই করোনাকালিন সময়ে এটা কোন যৌক্তিক সহযোগিতা হতে পারে না।

এইচডিডিএফ এর চেয়ারম্যান রাজীব শেখ বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্ব-কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হোক।

ডব্লিউডিডিএফ থেকে রওনক জাহান উষা বলেন, সরকারকে গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন ব্যক্তিগত সহায়তাকারীর ব্যবস্থা করতে হবে কারণ তারাও নাগরিক।

এনজিডিও এর সভাপতি সুশান্ত, ডিপিও-দের কার্যক্রমকে বেগবান করতে বাজেটে প্রতিবছর প্রতিষ্ঠান ভেদে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেয়ার ব্যবস্থা করার আহবান জানান।

এনসিডিডব্লিউ এর সভাপতি নাসিমা আক্তার বলেন, গত দুবছর যাবত প্রতিবন্ধী মানুষের ভাতা বাড়ানো হচ্ছে না। অতচ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কৌশলপত্র অনুযায়ি ২০২০ সালের মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ভাতা ১৫০০ টাকা করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন, আমরা তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

ডিসিএফ এর নির্বাহি পরিচালক নাসরিন জাহান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংবেদনশীল মন্ত্রণালয় ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ চাই। প্রতিবন্ধী মানুষের দায়িত্ব শুধুমাত্র সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হতে পারে না। আর সরকার চাইলেই মাত্র আরো ৬০০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ করলে প্রতিবন্ধী মানুষের ভাতা ৭৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা করা সম্ভব।

শানজিদা আক্তার, ডাব্লিউবিবি ট্রাষ্ট বলেন, গত দু’বছর যাবৎ প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর বদলে ভাতা প্রাপ্তির আওতায়ই বাড়ানো হচ্ছে যা প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনধারণে কোন প্রভাব ফেলছে না।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শারমিন বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা পেলে তাদের শিক্ষা উপবৃত্তি দেয়া হবে না। কিন্তু এটা কেন হবে, প্রতিবন্ধী ভাতা জীবন ধারণের জন্যে আর শিক্ষা উপবৃত্তি তার স্বনির্ভর হওয়ার পথের পাথেয়। কোনভাবেই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি বন্ধ করা যাবে না।

সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী মানুষের কোটার সঠিক বাস্তবায়ন করার কথা তুলে ধরেন সম্মিলন ফাউন্ডেশন।

বি-স্ক্যান’র সমন্বয়কারি ইফতেখার মাহমুদ মানববন্ধনটি সঞ্চালনাকালে বলেন – আজকে সংসদে পরিমনিকে নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু দেশের জনসংখ্যার ১০ থেকে ১৫ ভাগ প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য অন্তত ভাতাটুকু বৃদ্ধির কথা কেউ বলে না। আমাদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব এমপিও প্রয়োজন।

প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ (পিএনএসপি) এবং বি-স্ক্যান এর সাধারণ সম্পাদক ২০১৬ সালের পর আমরা আর প্রবেশগম্যতা নিয়ে কোন বাজেটে বরাদ্দ দেখতে পাই নি। এই বরাদ্দ প্রতি বছর দিতে হবে। আজ  পাঁচতলা সরকারি ভবনে লিফট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হতে চলেছি এখন তো দোতলাতেও লিফট থাকতে হবে। লিফট প্রবেশগম্যতার জন্য একটি প্রয়োজনীয় অংশ, এটা বিলাসবহুল গাড়ি নয় যা না হলেও চলে। তিনি অবিলম্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদফতর বাস্তবায়নের দাবি জানান।

সকালবেলা বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় দেড়শ প্রতিবন্ধী মানুষ এবং তাদের সংগঠন প্রেসক্লাবের সামনে তাদের দাবি নিয়ে মানববন্ধনে সমবেত হন। তারা জানিয়েছেন যে অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ তারা পান নি, তবে সমাজকল্যাণ সচিবের কাছে তাদের ৭দফা সুপারিশ দেয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন তাদের দাবি দাওয়ার কিছুটা হলেও সরকার এই বাজেটে বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিকভাবে বিবেচনা করবেন।